বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার দীর্ঘদিনের পলাতক আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তারের পর সেনাবাহিনীর হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মামলাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় যাচাই করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে সেনাবাহিনী বা তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যগুলো স্পর্শকাতর হওয়ায় এ মুহূর্তে সেগুলো প্রকাশ করা হচ্ছে না। তবে এই দাবিগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে তথ্য উদঘাটনের সুযোগ রয়েছে।
সাবেক আইজিপি আব্দুল কাইয়ুমের মতে, জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রশ্ন রয়েছে। তিনি বলেন, তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদঘাটন হওয়া প্রয়োজন।
অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হকও মনে করেন, এই গ্রেপ্তার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতে পারে। তার মতে, শুধু অভিযুক্তের বিচার নয়, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ সত্য উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানায়, ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর থেকে মোজাফফর হোসেন পলাতক ছিলেন। সম্প্রতি ঢাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এদিকে বিএনপির কয়েকজন নেতা ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা জড়িত ছিলেন, সে বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য জনসমক্ষে আনা উচিত।
তবে তদন্তকারী সংস্থা এখন পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদে কী তথ্য পাওয়া গেছে বা মামলার তদন্তে কী নতুন অগ্রগতি হয়েছে—সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।





















