১২:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

আমদানি-রপ্তানির আড়ালে কোটি কোটি টাকা অর্থ পাচার,

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:০৩:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
  • ৫১৫

আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের আড়ালে দেশের ১৪টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার, ভুয়া রপ্তানি দেখিয়ে সরকারি আর্থিক প্রণোদনা আত্মসাৎ এবং জাল নথিপত্র ব্যবহার করে পণ্য খালাসের মতো গুরুতর অনিয়মে জড়িত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছেন শুল্ক কর্মকর্তারা। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অর্থ পাচার (মানি লন্ডারিং) আইনে মামলা দায়েরের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

শুল্ক কর্মকর্তাদের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, কিছু প্রতিষ্ঠান বাস্তবে কোনো পণ্য রপ্তানি না করেই ভুয়া বিল অব এক্সপোর্ট, জাল কাগজপত্র ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের যোগসাজশে কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসনের দেখিয়ে সরকারের নগদ রপ্তানি প্রণোদনা হাতিয়ে নিয়েছে। আবার কয়েকটি প্রতিষ্ঠান অনুমোদিত কাস্টমস এজেন্ট না হয়েও অনলাইনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের শুল্ক কার্যক্রম সম্পন্ন করে পণ্য খালাস করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ছোট ছোট চালানের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে অর্থ পাচারের এ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। শতভাগ কায়িক পরীক্ষায় একাধিক চালানে ঘোষণার সঙ্গে প্রকৃত পণ্যের ব্যাপক অমিল ধরা পড়ে। কোথাও ঘোষণার চেয়ে কম, কোথাও বেশি পণ্য পাওয়া গেছে। আবার অনেক চালানের ক্ষেত্রে ডিপোতে কোনো পণ্যই প্রবেশ না করলেও রপ্তানির কাগজপত্র সম্পন্ন করা হয়েছে।

এনবিআরের অনুমোদন পাওয়া ১৪টি প্রতিষ্ঠান হলো— দো ইমপেক্স লিমিটেড, গ্রিন বাংলা এগ্রো অ্যান্ড জুট ইন্ডাস্ট্রিজ, দি সিটি মেটাল প্রোডাক্ট, জান্নাত করপোরেশন, নাসা এগ্রো ফুড, এসএ এন্টারপ্রাইজ, রিফাত এক্সপোর্ট অ্যান্ড ইমপোর্ট, গোলন্দাজ কনসোর্টিয়াম অ্যান্ড লাইনস, এস এস ফুড নারায়ণগঞ্জ, সাগর জুট ডাইভারসিফিকেশন ইন্ডাস্ট্রিজ, মেসার্স সানফ্লাওয়ার, বিএইচকে টেক্সটাইল মিল, হোসে টাইগার কোম্পানি লিমিটেড এবং দিব্য এন্টারপ্রাইজ।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দো ইমপেক্স লিমিটেড ২০১৯ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ৪৫টি বিল অব এক্সপোর্ট দাখিল করে। এর মধ্যে ৩০টি চালানের কোনো পণ্যই ডিপোতে প্রবেশ করেনি। তবুও প্রায় ১৯ লাখ ৯ হাজার মার্কিন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসনের দেখানো হয় এবং ৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকার সরকারি প্রণোদনা নেওয়া হয়।

গ্রিন বাংলা এগ্রো অ্যান্ড জুট ইন্ডাস্ট্রিজ ডিপোতে পণ্য জমা না দিয়েই রপ্তানির শুল্কায়ন সম্পন্ন করে ভুয়া রপ্তানির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ৪৬ হাজার ৪১৩ মার্কিন ডলার প্রত্যাবাসনের অভিযোগও রয়েছে।

দি সিটি মেটাল প্রোডাক্ট ঘোষণার তুলনায় কম পণ্য আমদানির পাশাপাশি এলসির বিপরীতে বৈদেশিক মুদ্রা পরিশোধ না করার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছে। একই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভুয়া রপ্তানির মাধ্যমে ৮১ হাজার ৯৭৪ ডলার বৈধ করার চেষ্টারও প্রমাণ পেয়েছেন তদন্তকারীরা।

এছাড়া জান্নাত করপোরেশন, নাসা এগ্রো ফুড, এসএ এন্টারপ্রাইজ, রিফাত এক্সপোর্ট অ্যান্ড ইমপোর্ট, গোলন্দাজ কনসোর্টিয়াম অ্যান্ড লাইনস, এস এস ফুড নারায়ণগঞ্জ, সাগর জুট ডাইভারসিফিকেশন ইন্ডাস্ট্রিজ, মেসার্স সানফ্লাওয়ার, বিএইচকে টেক্সটাইল মিল, হোসে টাইগার কোম্পানি লিমিটেডদিব্য এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধেও মিথ্যা ঘোষণা, ভুয়া রপ্তানি, অবৈধ মদ আমদানি, রাজস্ব ফাঁকি, অতিরিক্ত বা কম পণ্য ঘোষণা এবং অর্থ পাচারের নানা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে শুল্ক কর্তৃপক্ষ।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের চালানে ঘোষিত পণ্যের পরিবর্তে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ উদ্ধার হয়েছে। এর ফলে সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও অনেক প্রতিষ্ঠানের ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে গিয়েও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের তৎকালীন কমিশনার মোহাম্মদ ফাইজুর রহমান বলেন, সরকার রপ্তানি খাতে বিভিন্ন প্রণোদনা দিয়ে আসছে। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি অসাধু চক্র ভুয়া রপ্তানি দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছে। তদন্তে এসব অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম রোধে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রপ্তানি কার্যক্রমে নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে। এখন অফডক থেকে কনটেইনার বের হওয়ার পরই বিল অব এক্সপোর্ট অনুমোদন (গ্রিন) দেওয়া হবে, যাতে ভুয়া রপ্তানির সুযোগ কমে আসে।

সর্বাধিক পঠিত

দেশনায়ক তারেক রহমানের ২৫ লাখ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে বেনাপোল পৌর বিএনপির বৃক্ষরোপণ

আমদানি-রপ্তানির আড়ালে কোটি কোটি টাকা অর্থ পাচার,

আপডেট: ১০:০৩:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের আড়ালে দেশের ১৪টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার, ভুয়া রপ্তানি দেখিয়ে সরকারি আর্থিক প্রণোদনা আত্মসাৎ এবং জাল নথিপত্র ব্যবহার করে পণ্য খালাসের মতো গুরুতর অনিয়মে জড়িত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছেন শুল্ক কর্মকর্তারা। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অর্থ পাচার (মানি লন্ডারিং) আইনে মামলা দায়েরের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

শুল্ক কর্মকর্তাদের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, কিছু প্রতিষ্ঠান বাস্তবে কোনো পণ্য রপ্তানি না করেই ভুয়া বিল অব এক্সপোর্ট, জাল কাগজপত্র ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের যোগসাজশে কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসনের দেখিয়ে সরকারের নগদ রপ্তানি প্রণোদনা হাতিয়ে নিয়েছে। আবার কয়েকটি প্রতিষ্ঠান অনুমোদিত কাস্টমস এজেন্ট না হয়েও অনলাইনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের শুল্ক কার্যক্রম সম্পন্ন করে পণ্য খালাস করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ছোট ছোট চালানের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে অর্থ পাচারের এ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। শতভাগ কায়িক পরীক্ষায় একাধিক চালানে ঘোষণার সঙ্গে প্রকৃত পণ্যের ব্যাপক অমিল ধরা পড়ে। কোথাও ঘোষণার চেয়ে কম, কোথাও বেশি পণ্য পাওয়া গেছে। আবার অনেক চালানের ক্ষেত্রে ডিপোতে কোনো পণ্যই প্রবেশ না করলেও রপ্তানির কাগজপত্র সম্পন্ন করা হয়েছে।

এনবিআরের অনুমোদন পাওয়া ১৪টি প্রতিষ্ঠান হলো— দো ইমপেক্স লিমিটেড, গ্রিন বাংলা এগ্রো অ্যান্ড জুট ইন্ডাস্ট্রিজ, দি সিটি মেটাল প্রোডাক্ট, জান্নাত করপোরেশন, নাসা এগ্রো ফুড, এসএ এন্টারপ্রাইজ, রিফাত এক্সপোর্ট অ্যান্ড ইমপোর্ট, গোলন্দাজ কনসোর্টিয়াম অ্যান্ড লাইনস, এস এস ফুড নারায়ণগঞ্জ, সাগর জুট ডাইভারসিফিকেশন ইন্ডাস্ট্রিজ, মেসার্স সানফ্লাওয়ার, বিএইচকে টেক্সটাইল মিল, হোসে টাইগার কোম্পানি লিমিটেড এবং দিব্য এন্টারপ্রাইজ।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দো ইমপেক্স লিমিটেড ২০১৯ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ৪৫টি বিল অব এক্সপোর্ট দাখিল করে। এর মধ্যে ৩০টি চালানের কোনো পণ্যই ডিপোতে প্রবেশ করেনি। তবুও প্রায় ১৯ লাখ ৯ হাজার মার্কিন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসনের দেখানো হয় এবং ৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকার সরকারি প্রণোদনা নেওয়া হয়।

গ্রিন বাংলা এগ্রো অ্যান্ড জুট ইন্ডাস্ট্রিজ ডিপোতে পণ্য জমা না দিয়েই রপ্তানির শুল্কায়ন সম্পন্ন করে ভুয়া রপ্তানির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ৪৬ হাজার ৪১৩ মার্কিন ডলার প্রত্যাবাসনের অভিযোগও রয়েছে।

দি সিটি মেটাল প্রোডাক্ট ঘোষণার তুলনায় কম পণ্য আমদানির পাশাপাশি এলসির বিপরীতে বৈদেশিক মুদ্রা পরিশোধ না করার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছে। একই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভুয়া রপ্তানির মাধ্যমে ৮১ হাজার ৯৭৪ ডলার বৈধ করার চেষ্টারও প্রমাণ পেয়েছেন তদন্তকারীরা।

এছাড়া জান্নাত করপোরেশন, নাসা এগ্রো ফুড, এসএ এন্টারপ্রাইজ, রিফাত এক্সপোর্ট অ্যান্ড ইমপোর্ট, গোলন্দাজ কনসোর্টিয়াম অ্যান্ড লাইনস, এস এস ফুড নারায়ণগঞ্জ, সাগর জুট ডাইভারসিফিকেশন ইন্ডাস্ট্রিজ, মেসার্স সানফ্লাওয়ার, বিএইচকে টেক্সটাইল মিল, হোসে টাইগার কোম্পানি লিমিটেডদিব্য এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধেও মিথ্যা ঘোষণা, ভুয়া রপ্তানি, অবৈধ মদ আমদানি, রাজস্ব ফাঁকি, অতিরিক্ত বা কম পণ্য ঘোষণা এবং অর্থ পাচারের নানা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে শুল্ক কর্তৃপক্ষ।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের চালানে ঘোষিত পণ্যের পরিবর্তে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ উদ্ধার হয়েছে। এর ফলে সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও অনেক প্রতিষ্ঠানের ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে গিয়েও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের তৎকালীন কমিশনার মোহাম্মদ ফাইজুর রহমান বলেন, সরকার রপ্তানি খাতে বিভিন্ন প্রণোদনা দিয়ে আসছে। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি অসাধু চক্র ভুয়া রপ্তানি দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছে। তদন্তে এসব অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম রোধে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রপ্তানি কার্যক্রমে নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে। এখন অফডক থেকে কনটেইনার বের হওয়ার পরই বিল অব এক্সপোর্ট অনুমোদন (গ্রিন) দেওয়া হবে, যাতে ভুয়া রপ্তানির সুযোগ কমে আসে।