০৭:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

বিপিসির সাবেক পিএস আহম্মদুল্লাহর বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তার, আর্থিক অনিয়ম ও নিয়োগ-বাণিজ্যের অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৫:৪৫:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
  • ৫১৬

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) সাবেক ব্যক্তিগত সচিব (পিএস)  আহম্মদুল্লাহর বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তার, আর্থিক অনিয়ম, নিয়োগ-বাণিজ্য এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে অনিয়মের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে চলতি বছরের ১৩ মে মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, ২০২১ সালে বিপিসির চেয়ারম্যান হিসেবে এ বি এম আজাদ দায়িত্ব গ্রহণের পর মো. আহম্মদুল্লাহকে চট্টগ্রামে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেটের চাপে মাত্র এক দিনের ব্যবধানে সেই বদলির আদেশ বাতিল করা হয় এবং তিনি পুনরায় পিএস পদে বহাল থাকেন। এ সময় তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় ঢাকা রেস্ট হাউসের তৎকালীন ইনচার্জ মো. শফিউল ইসলাম চাকরি হারান বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এছাড়া মো. আহম্মদুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকে ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে স্বজনদের চাকরির ব্যবস্থা করার বিনিময়ে বিপিসির এফডিআর ও এসএনডি হিসাব নির্দিষ্ট ব্যাংকে স্থানান্তর করা হয়েছে। এ বিষয়ে গত ১ মার্চ বিপিসির সাবেক পিএস কে এম রিয়াজ রহমান জ্বালানি উপদেষ্টার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, মো. আহম্মদুল্লাহর দায়িত্ব পালনকালে বিপিসির বিপুল পরিমাণ আমানত ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন ব্যাংকে রাখা হয়েছিল, যা প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক নিরাপত্তাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে নিয়োগ-বাণিজ্য, ডিপো ইনচার্জদের বদলির ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়, তদন্ত প্রতিবেদন জালিয়াতি এবং বিভিন্ন আর্থিক সিদ্ধান্তে অনিয়মের অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে।

বিপিসির হিসাব বিভাগের প্রত্যয়নপত্র অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আপ্যায়ন, টিএ/ডিএ এবং জ্বালানি বিল বাবদ মো. আহম্মদুল্লাহকে মোট ৫ লাখ ৫৯ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।

অভিযোগগুলোর প্রেক্ষাপটে গত ১৩ মে বিপিসির বর্তমান চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান তাকে মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডে সংযুক্ত করেন। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরও তার গড়ে তোলা প্রভাবশালী সিন্ডিকেট বিপিসির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে এখনো প্রভাব বিস্তার ও অসহযোগিতা করে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে বিপিসির সচিব শাহিনা সুলতানা বলেন, তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে মো. আহম্মদুল্লাহর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ তার কাছে জমা পড়েনি। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) থেকেও এ বিষয়ে কোনো চিঠি পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান। বিপিসির আর্থিক সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত তথ্য জানতে চাইলে তিনি তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আবেদন করার পরামর্শ দেন।

এদিকে, বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, মো. আহম্মদুল্লাহর মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

সর্বাধিক পঠিত

শেখ হাসিনা দেশে ফিরতে চাইলে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে: রুমিন ফারহানা

বিপিসির সাবেক পিএস আহম্মদুল্লাহর বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তার, আর্থিক অনিয়ম ও নিয়োগ-বাণিজ্যের অভিযোগ

আপডেট: ০৫:৪৫:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) সাবেক ব্যক্তিগত সচিব (পিএস)  আহম্মদুল্লাহর বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তার, আর্থিক অনিয়ম, নিয়োগ-বাণিজ্য এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে অনিয়মের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে চলতি বছরের ১৩ মে মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, ২০২১ সালে বিপিসির চেয়ারম্যান হিসেবে এ বি এম আজাদ দায়িত্ব গ্রহণের পর মো. আহম্মদুল্লাহকে চট্টগ্রামে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেটের চাপে মাত্র এক দিনের ব্যবধানে সেই বদলির আদেশ বাতিল করা হয় এবং তিনি পুনরায় পিএস পদে বহাল থাকেন। এ সময় তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় ঢাকা রেস্ট হাউসের তৎকালীন ইনচার্জ মো. শফিউল ইসলাম চাকরি হারান বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এছাড়া মো. আহম্মদুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকে ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে স্বজনদের চাকরির ব্যবস্থা করার বিনিময়ে বিপিসির এফডিআর ও এসএনডি হিসাব নির্দিষ্ট ব্যাংকে স্থানান্তর করা হয়েছে। এ বিষয়ে গত ১ মার্চ বিপিসির সাবেক পিএস কে এম রিয়াজ রহমান জ্বালানি উপদেষ্টার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, মো. আহম্মদুল্লাহর দায়িত্ব পালনকালে বিপিসির বিপুল পরিমাণ আমানত ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন ব্যাংকে রাখা হয়েছিল, যা প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক নিরাপত্তাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে নিয়োগ-বাণিজ্য, ডিপো ইনচার্জদের বদলির ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়, তদন্ত প্রতিবেদন জালিয়াতি এবং বিভিন্ন আর্থিক সিদ্ধান্তে অনিয়মের অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে।

বিপিসির হিসাব বিভাগের প্রত্যয়নপত্র অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আপ্যায়ন, টিএ/ডিএ এবং জ্বালানি বিল বাবদ মো. আহম্মদুল্লাহকে মোট ৫ লাখ ৫৯ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।

অভিযোগগুলোর প্রেক্ষাপটে গত ১৩ মে বিপিসির বর্তমান চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান তাকে মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডে সংযুক্ত করেন। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরও তার গড়ে তোলা প্রভাবশালী সিন্ডিকেট বিপিসির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে এখনো প্রভাব বিস্তার ও অসহযোগিতা করে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে বিপিসির সচিব শাহিনা সুলতানা বলেন, তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে মো. আহম্মদুল্লাহর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ তার কাছে জমা পড়েনি। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) থেকেও এ বিষয়ে কোনো চিঠি পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান। বিপিসির আর্থিক সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত তথ্য জানতে চাইলে তিনি তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আবেদন করার পরামর্শ দেন।

এদিকে, বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, মো. আহম্মদুল্লাহর মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।