১২:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সীমান্ত হত্যা বন্ধে ভারতকে আন্তর্জাতিক আদালতের মুখোমুখি করার দাবি এনসিপির

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৮:৪৪:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
  • ৫৫১

সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার ঘটনায় ভারতকে আন্তর্জাতিক আদালতে দাঁড় করিয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের এই বিচার নিশ্চিত না হলে সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যার মতো অমানবিক ঘটনা কখনোই বন্ধ হবে না।
শুক্রবার (২৬ জুন) মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার দত্তগ্রাম সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের গুলিতে নিহত মো. মুজিব আলীর বাড়িতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও সমবেদনা জানানোর সময় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় এনসিপির নেতারা নিহতের কবর জিয়ারত করেন এবং সীমান্ত হত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “সীমান্তে যাদের হত্যা করা হচ্ছে, তাদের কোনো ধর্মীয় পরিচয় নেই। তাদের একমাত্র পরিচয় তারা বাংলাদেশের নাগরিক। শুধু বাংলাদেশি হওয়ার কারণেই ভারত তাদের বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করছে।” তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ভারতের এই আগ্রাসী আচরণের বিরুদ্ধে বিশ্ববাসীর কাছে সোচ্চার হতে হবে এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
**সীমান্ত সমস্যার সমাধানে এনসিপির প্রস্তাবনা**
সীমান্ত এলাকায় কেবল কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না বলে মন্তব্য করেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক। তিনি বলেন, সীমান্ত অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মসংস্থানের মতো মৌলিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। সেই সঙ্গে দেশের জন্য একটি শক্তিশালী ও মর্যাদাপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়নের ওপর জোর দেন তিনি।
সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবিকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিজিবিকে উন্নতমানের অস্ত্র, টহল যান এবং আধুনিক অবকাঠামো দেওয়ার পাশাপাশি তাদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করা জরুরি। এছাড়া এনসিপি যদি ভবিষ্যতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসে, তবে সীমান্তে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে সরকারিভাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও প্রদান করেন তিনি।*
এ সময় এনসিপির মুখ্য সংগঠক বলেন, সীমান্তে অন্যায় ও হত্যাকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের মাটিতে আর ঘটতে দেওয়া হবে না। তিনি সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সীমান্তের প্রতিটি নাগরিককে একজন বিজিবি সদস্যের মতো সতর্ক থাকতে হবে এবং পুশ-ইন প্রতিরোধে বিজিবির সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তিনি মন্তব্য করেন, যে দল বা সরকার দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দৃঢ় অবস্থান নেবে এবং ভারতের সঙ্গে সমমর্যাদায় কথা বলবে, দেশের ছাত্র-জনতা ও এনসিপি তাদের পাশে থাকবে।
উল্লেখ্য যে, গত ১২ জুন ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশের সময় কুলাউড়া উপজেলার দত্তগ্রামের বাসিন্দা মো. মুজিব আলী বিএসএফের গুলিতে নিহত হন। বিএসএফের ৪৬ ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তিনি চোরাচালান কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানিয়ে আসছেন।
এই বিষয়ে আরও কোনো বিস্তারিত তথ্য বা প্রতিবেদন প্রয়োজন হলে জানাবেন।

সর্বাধিক পঠিত

চৌগাছা কাঁচাবাজারে ১৮ অবৈধ দোকান, জায়গা না পেয়ে ফিরছেন কৃষক-ব্যাপারী

সীমান্ত হত্যা বন্ধে ভারতকে আন্তর্জাতিক আদালতের মুখোমুখি করার দাবি এনসিপির

আপডেট: ০৮:৪৪:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার ঘটনায় ভারতকে আন্তর্জাতিক আদালতে দাঁড় করিয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের এই বিচার নিশ্চিত না হলে সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যার মতো অমানবিক ঘটনা কখনোই বন্ধ হবে না।
শুক্রবার (২৬ জুন) মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার দত্তগ্রাম সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের গুলিতে নিহত মো. মুজিব আলীর বাড়িতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও সমবেদনা জানানোর সময় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় এনসিপির নেতারা নিহতের কবর জিয়ারত করেন এবং সীমান্ত হত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “সীমান্তে যাদের হত্যা করা হচ্ছে, তাদের কোনো ধর্মীয় পরিচয় নেই। তাদের একমাত্র পরিচয় তারা বাংলাদেশের নাগরিক। শুধু বাংলাদেশি হওয়ার কারণেই ভারত তাদের বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করছে।” তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ভারতের এই আগ্রাসী আচরণের বিরুদ্ধে বিশ্ববাসীর কাছে সোচ্চার হতে হবে এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
**সীমান্ত সমস্যার সমাধানে এনসিপির প্রস্তাবনা**
সীমান্ত এলাকায় কেবল কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না বলে মন্তব্য করেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক। তিনি বলেন, সীমান্ত অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মসংস্থানের মতো মৌলিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। সেই সঙ্গে দেশের জন্য একটি শক্তিশালী ও মর্যাদাপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়নের ওপর জোর দেন তিনি।
সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবিকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিজিবিকে উন্নতমানের অস্ত্র, টহল যান এবং আধুনিক অবকাঠামো দেওয়ার পাশাপাশি তাদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করা জরুরি। এছাড়া এনসিপি যদি ভবিষ্যতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসে, তবে সীমান্তে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে সরকারিভাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও প্রদান করেন তিনি।*
এ সময় এনসিপির মুখ্য সংগঠক বলেন, সীমান্তে অন্যায় ও হত্যাকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের মাটিতে আর ঘটতে দেওয়া হবে না। তিনি সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সীমান্তের প্রতিটি নাগরিককে একজন বিজিবি সদস্যের মতো সতর্ক থাকতে হবে এবং পুশ-ইন প্রতিরোধে বিজিবির সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তিনি মন্তব্য করেন, যে দল বা সরকার দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দৃঢ় অবস্থান নেবে এবং ভারতের সঙ্গে সমমর্যাদায় কথা বলবে, দেশের ছাত্র-জনতা ও এনসিপি তাদের পাশে থাকবে।
উল্লেখ্য যে, গত ১২ জুন ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশের সময় কুলাউড়া উপজেলার দত্তগ্রামের বাসিন্দা মো. মুজিব আলী বিএসএফের গুলিতে নিহত হন। বিএসএফের ৪৬ ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তিনি চোরাচালান কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানিয়ে আসছেন।
এই বিষয়ে আরও কোনো বিস্তারিত তথ্য বা প্রতিবেদন প্রয়োজন হলে জানাবেন।