: নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে ১০ বছরের এক মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ ও তার ফলে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় স্থানীয় পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হলেও, মামলা রেকর্ডের ২৫ দিন পার হয়ে গেলেও পুলিশ এখনো অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এতে চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছে ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবার।
অভিযুক্ত আসামির নাম মোহন তালুকদার (২৫)। তিনি মোহনগঞ্জ পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক পদে দায়িত্ব পালন করছেন। তার দলীয় পদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সোহেল রানা।
এজাহার, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা জীবিকার তাগিদে দেশের বিভিন্ন এলাকায় দিনমজুরের কাজ করেন। মা বিভিন্ন বাসাবাড়িতে কাজ করে তিন মেয়েকে নিয়ে কোনোমতে সংসার চালান।
২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর দুপুরে শিশুটির মা কাজের জন্য বাইরে যান। ওই সময় ঘরে শিশুটি ও তার দুই ছোট বোন একা ছিল। এই সুযোগে প্রতিবেশী মোহন তালুকদার ঘরে প্রবেশ করে অসহায় ও মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। ঘটনাটি কাউকে জানালে শিশুটিকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। ফলে ভয়ে শিশুটি দীর্ঘদিন বিষয়টি গোপন রাখে।
চলতি বছরের ১২ মার্চ শিশুটি অসুস্থ বোধ করায় এবং তার শরীরে কিছু পরিবর্তন দেখা দেওয়ায় মা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। মায়ের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে একপর্যায়ে শিশুটি ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশ করে।
“১৩ মার্চ পৌর শহরের একটি ক্লিনিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর চিকিৎসক জানান শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা। আলট্রাসনোগ্রাফি রিপোর্টে তখন ১৩ সপ্তাহের গর্ভধারণের তথ্য পাওয়া যায়। বর্তমানে শিশুটি প্রায় সাড়ে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা।”
গত ২ মে এই ঘটনায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় নিরাপত্তাহীনতা ও ক্ষোভে দিন কাটাচ্ছে পরিবারটি।
ভুক্তভোগী শিশুটির মা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন:
“আমরা গরিব মানুষ। আমার মেয়েটা ছোট মানুষ, কিছুই বোঝে না। তার জীবনটা নষ্ট করে দেওয়া হইছে। মামলা করছি, কিন্তু আসামি এখনো ধরা পড়ে না। আমি তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
আসামি গ্রেপ্তারে বিলম্বের কারণ ব্যাখ্যা করে মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম বলেন, “বাদী পক্ষ প্রথমে থানায় না এসে, না বুঝতে পেরে আদালতে মামলা করায় আসামিকে তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে গত ২ মে মামলাটি রেকর্ড হওয়ার পর থেকে এজাহারে উল্লেখিত আসামিকে গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আশা করা যায় দ্রুত তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।”
নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলামও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বলেন, “অভিযুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশ সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে, দ্রুতই তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।”




















