যুক্তরাজ্যের লন্ডনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর একটি সভাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা সভাটি ভণ্ডুল করতে বিক্ষোভ ও ডিম নিক্ষেপ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শতাধিক ব্রিটিশ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। এই ঘটনায় লন্ডন মহানগর আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সময় সোমবার (১৫ জুন/১৬ জুন) বিকালে পূর্ব লন্ডনের রমফোর্ড এবং এলেম পার্ক এলাকায় এনসিপি ইউকে অ্যালায়েন্স এই সভার আয়োজন করেছিল। তবে সভা শুরু হওয়ার আগে থেকেই সেখানে যুক্তরাজ্য প্রবাসী আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করেন। পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে এনসিপির নেতাকর্মীরাও অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে অবস্থান নিলে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ ও তার সহযোগীরা একটি পার্ক এলাকা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় বিক্ষোভকারীরা তাদের অনুসরণ করে বিভিন্ন স্লোগান ও কটু মন্তব্য করতে থাকেন। একপর্যায়ে হাসনাত আবদুল্লাহ আত্মরক্ষার্থে পাশের একটি রেস্তোরাঁয় আশ্রয় নেন। এ সময় বিক্ষোভকারীরা এনসিপির সমর্থক ও কর্মীদের লক্ষ্য করে অনবরত ডিম নিক্ষেপ করতে শুরু করে।
বিক্ষোভকারীদের ছোঁড়া ডিম এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক এহতেশামুল হকের গায়ে লাগলে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, এই ঘটনার পর এনসিপি নেতা এহতেশামুল হকের সঙ্গে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক শাহ শামীমের তীব্র বাগবিতণ্ডা শুরু হয় এবং একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হলে সেখানে শতাধিক ব্রিটিশ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। পুলিশ তৎক্ষণাৎ লাঠিচার্জ ও ব্যারিকেড দিয়ে দুই পক্ষকে আলাদা করে এবং ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। আটককৃতদের মধ্যে লন্ডন মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফসার খান সাদেক রয়েছেন। তাকে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশ ভ্যানে তুলতে দেখা যায়। তবে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড কী আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
এই ব্যাপক বিশৃঙ্খলা ও উত্তেজনার কারণে নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন ঘণ্টা পর কঠোর পুলিশি বেষ্টনী ও নিরাপত্তার মধ্যে সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশি পাহারার মধ্যেই তিনি নিরাপদে স্থান ত্যাগ করেন।
ঘটনার পর এনসিপি ইউকে অ্যালায়েন্সের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। বিবৃতিতে তারা দাবি করে, হাসনাত আবদুল্লাহ ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক এহতেশামুল হকের সফরকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের কর্মীরা সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে উসকানিমূলক আচরণ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে।
এনসিপির বিবৃতিতে আরও বলা হয়:
“আওয়ামী লীগ কর্মীদের এই কর্মকাণ্ড ছিল একই সঙ্গে কাপুরুষোচিত এবং প্রত্যাশিত। আড়াল থেকে এসে উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করা এবং সাধারণ মানুষের প্রতিরোধের মুখে দ্রুত সরে পড়া—এটি আবারও প্রমাণ করেছে যে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সংস্কৃতি এখনো ভয়ভীতি প্রদর্শন, অসহিষ্ণুতা এবং সন্ত্রাসী মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি।”




















