১২:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ক্যালিফোর্নিয়ায় মার্কিন বিমান বাহিনীর বি-৫২ বোমারু বিমান বিধ্বস্ত: নিহত ৮

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:২১:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
  • ৫৭২

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের এডওয়ার্ডস বিমান ঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি বি-৫২ ‘স্ট্রাটোফোরট্রেস’ কৌশলগত বোমারু বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় বিমানটিতে থাকা আটজন আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে ঘাঁটি কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় সময় সোমবার সকাল ১১টা ২০ মিনিটে একটি পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন মিশনের সময় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। এডওয়ার্ডস বিমান ঘাঁটির রাডার আধুনিকায়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিমানটি আকাশে উড়েছিল। কিন্তু উড্ডয়নের পরপরই এটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রানওয়ে এলাকায় আছড়ে পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যে আগুনে পুড়ে যায়। বিমানটি ভূপাতিত হওয়ার পর আকাশে বিশাল কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়, যা কয়েক মাইল দূর থেকেও স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান ছিল।

প্রাথমিক ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনার ভিত্তিতে বিমান বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাটি এতটাই মারাত্মক ছিল যে অলৌকিকভাবেও কারও বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ছিল না। ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে এডওয়ার্ডস ঘাঁটি থেকে সব ধরনের বিমান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এডওয়ার্ডস বিমান ঘাঁটির কমান্ডার কর্নেল জেমস হেইস গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন:

“আজ আমরা এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হয়েছি। আমরা আটজন মহান আমেরিকানকে হারিয়েছি।”

তিনি জানান, নিহতদের মধ্যে সামরিক বাহিনীর সদস্য ছাড়াও সরকারি বেসামরিক কর্মচারী এবং সরকারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা ছিলেন। বর্তমানে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হবে।

মার্কিন বিমান বাহিনী জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও নির্ধারণ করা যায়নি। তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, প্রাথমিক তদন্ত শেষ হতে প্রায় ৩০ দিন সময় লাগতে পারে। তবে বিস্তারিত প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ, ব্ল্যাক বক্সের তথ্য উদ্ধার ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশে ছয় মাস বা তারও বেশি সময় লেগে যেতে পারে।

বি-৫২ স্ট্রাটোফোরট্রেস যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর অন্যতম প্রধান ও দীর্ঘপাল্লার কৌশলগত বোমারু বিমান। বিশাল আকৃতি ও শক্তিশালী সক্ষমতার কারণে সামরিক মহলে এটি ‘দ্য বাফ’ (BUFF) নামেও পরিচিত। ১৯৫০-এর দশক থেকে এটি মার্কিন সামরিক বাহিনীতে অত্যন্ত বিশ্বস্ততার সাথে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

  • উচ্চতা ও গতি: বিমানটি প্রায় ৫০ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়তে সক্ষম।

  • অস্ত্র বহন ক্ষমতা: এটি সর্বোচ্চ ৭০ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত অস্ত্র বহন করতে পারে। এর অস্ত্রভাণ্ডারে শত শত প্রচলিত বোমার পাশাপাশি পারমাণবিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রও যুক্ত করা যায়।

  • জ্বালানি সুবিধা: আকাশেই জ্বালানি গ্রহণের (Aerial Refueling) সুবিধা থাকায় এর কার্যক্ষমতা ও হামলার পরিসীমা প্রায় অসীম।

  • ঐতিহাসিক গুরুত্ব: শীতল যুদ্ধের সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক প্রতিরক্ষা কৌশলে এই বিমানটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে ও প্রতিরক্ষা মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মার্কিন কংগ্রেস সদস্য জে ওবারনোল্টে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিহতদের পরিবার এবং উদ্ধারকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

অন্য এক বিবৃতিতে কংগ্রেস সদস্য লিসা ম্যাকক্লেন বলেন, “আমাদের সেনাসদস্যরা প্রতিদিন দেশের নিরাপত্তার জন্য জীবন বাজি রেখে কাজ করেন। এই কঠিন সময়ে আমরা তাদের পরিবারগুলোর পাশে আছি।”

মার্কিন বিমান বাহিনীর অন্যতম প্রধান স্তম্ভ বি-৫২-এর এই দুর্ঘটনা দেশটির প্রতিরক্ষা অঙ্গনে এবং বিমান সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করতে রাজি হয়নি কর্তৃপক্ষ।

সর্বাধিক পঠিত

টানা তৃতীয় দিনেও গণসংযোগে ইমদাদুল হক ইমদাদ

ক্যালিফোর্নিয়ায় মার্কিন বিমান বাহিনীর বি-৫২ বোমারু বিমান বিধ্বস্ত: নিহত ৮

আপডেট: ১০:২১:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের এডওয়ার্ডস বিমান ঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি বি-৫২ ‘স্ট্রাটোফোরট্রেস’ কৌশলগত বোমারু বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় বিমানটিতে থাকা আটজন আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে ঘাঁটি কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় সময় সোমবার সকাল ১১টা ২০ মিনিটে একটি পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন মিশনের সময় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। এডওয়ার্ডস বিমান ঘাঁটির রাডার আধুনিকায়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিমানটি আকাশে উড়েছিল। কিন্তু উড্ডয়নের পরপরই এটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রানওয়ে এলাকায় আছড়ে পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যে আগুনে পুড়ে যায়। বিমানটি ভূপাতিত হওয়ার পর আকাশে বিশাল কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়, যা কয়েক মাইল দূর থেকেও স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান ছিল।

প্রাথমিক ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনার ভিত্তিতে বিমান বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাটি এতটাই মারাত্মক ছিল যে অলৌকিকভাবেও কারও বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ছিল না। ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে এডওয়ার্ডস ঘাঁটি থেকে সব ধরনের বিমান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এডওয়ার্ডস বিমান ঘাঁটির কমান্ডার কর্নেল জেমস হেইস গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন:

“আজ আমরা এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হয়েছি। আমরা আটজন মহান আমেরিকানকে হারিয়েছি।”

তিনি জানান, নিহতদের মধ্যে সামরিক বাহিনীর সদস্য ছাড়াও সরকারি বেসামরিক কর্মচারী এবং সরকারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা ছিলেন। বর্তমানে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হবে।

মার্কিন বিমান বাহিনী জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও নির্ধারণ করা যায়নি। তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, প্রাথমিক তদন্ত শেষ হতে প্রায় ৩০ দিন সময় লাগতে পারে। তবে বিস্তারিত প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ, ব্ল্যাক বক্সের তথ্য উদ্ধার ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশে ছয় মাস বা তারও বেশি সময় লেগে যেতে পারে।

বি-৫২ স্ট্রাটোফোরট্রেস যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর অন্যতম প্রধান ও দীর্ঘপাল্লার কৌশলগত বোমারু বিমান। বিশাল আকৃতি ও শক্তিশালী সক্ষমতার কারণে সামরিক মহলে এটি ‘দ্য বাফ’ (BUFF) নামেও পরিচিত। ১৯৫০-এর দশক থেকে এটি মার্কিন সামরিক বাহিনীতে অত্যন্ত বিশ্বস্ততার সাথে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

  • উচ্চতা ও গতি: বিমানটি প্রায় ৫০ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়তে সক্ষম।

  • অস্ত্র বহন ক্ষমতা: এটি সর্বোচ্চ ৭০ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত অস্ত্র বহন করতে পারে। এর অস্ত্রভাণ্ডারে শত শত প্রচলিত বোমার পাশাপাশি পারমাণবিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রও যুক্ত করা যায়।

  • জ্বালানি সুবিধা: আকাশেই জ্বালানি গ্রহণের (Aerial Refueling) সুবিধা থাকায় এর কার্যক্ষমতা ও হামলার পরিসীমা প্রায় অসীম।

  • ঐতিহাসিক গুরুত্ব: শীতল যুদ্ধের সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক প্রতিরক্ষা কৌশলে এই বিমানটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে ও প্রতিরক্ষা মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মার্কিন কংগ্রেস সদস্য জে ওবারনোল্টে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিহতদের পরিবার এবং উদ্ধারকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

অন্য এক বিবৃতিতে কংগ্রেস সদস্য লিসা ম্যাকক্লেন বলেন, “আমাদের সেনাসদস্যরা প্রতিদিন দেশের নিরাপত্তার জন্য জীবন বাজি রেখে কাজ করেন। এই কঠিন সময়ে আমরা তাদের পরিবারগুলোর পাশে আছি।”

মার্কিন বিমান বাহিনীর অন্যতম প্রধান স্তম্ভ বি-৫২-এর এই দুর্ঘটনা দেশটির প্রতিরক্ষা অঙ্গনে এবং বিমান সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করতে রাজি হয়নি কর্তৃপক্ষ।