যশোর প্রতিনিধি:
ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের উপকারভোগী বাছাইয়ে গাফিলতি, দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়মের অভিযোগে যশোর সমাজসেবা অধিদপ্তরের চার কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এর আগে গত ২১ মে তাদের বদলিপূর্বক স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছিল।
বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন—যশোর সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হারুন অর রশীদ, সহকারী পরিচালক সাইফুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক ইতি দত্ত সেন এবং যশোর সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আশিকুজ্জামান তুহিন।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দায়িত্ব পালনে অবহেলা এবং বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ৭ জুন তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে বিভাগীয় তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জানা গেছে, যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের উপকারভোগী তালিকায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগে বলা হয়, দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য নির্ধারিত এই সুবিধাভোগী তালিকায় অন্তত ৬২ জন সচ্ছল ও আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচনার সৃষ্টি করলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করে। তদন্তে প্রাথমিকভাবে তালিকা প্রণয়নে অসঙ্গতি ও অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় প্রথমে তাদের বদলি করে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয় এবং পরবর্তীতে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ জারি করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের সুবিধা প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। তদন্ত কার্যক্রম শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এ ঘটনায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে সন্তোষ প্রকাশের পাশাপাশি প্রকৃত সুবিধাভোগীদের তালিকা পুনঃযাচাইয়ের দাবি উঠেছে। অনেকেই মনে করছেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রকল্পভিত্তিক উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়ায় আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।




















