০৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

ঈদুল আজহা সামনে: কুরবানির গুরুত্ব, ফজিলত ও পশু কেনার আগে যেসব বিষয় জানা জরুরি

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:০৩:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
  • ৫১৬

পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র দুই দিন বাকি। মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব এই ঈদকে ঘিরে সারা দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় কুরবানির পশু কেনার জন্য জমে উঠেছে বিভিন্ন পশুর হাট। পরিবার-পরিজন নিয়ে পছন্দের পশু কেনায় এখন ব্যস্ত সময় কাটছে কুরবানিদাতাদের।

ইসলামে কুরবানি শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি ত্যাগ, আনুগত্য ও আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণের এক মহান শিক্ষা। কুরবানির সঙ্গে জড়িয়ে আছে হজরত ইবরাহীম (আ.)-এর মহান আত্মত্যাগের ইতিহাস। আল্লাহর নির্দেশ পালনে তিনি নিজ সন্তানকে কুরবানি করতে প্রস্তুত হয়েছিলেন। তার এই ত্যাগ ও আনুগত্যের স্মরণে সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্য কুরবানির বিধান প্রবর্তিত হয়েছে।

হজরত মিখজাফ ইবনে সালিম (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) আরাফার ময়দানে সমবেত লোকদের উদ্দেশে বলেন, *“হে লোক সকল! তোমরা জেনে রাখ, প্রত্যেক সামর্থ্যবান ব্যক্তির ওপর প্রতি বছর কুরবানি করা কর্তব্য। আর যার সামর্থ্য নেই, তার ওপর কুরবানি কর্তব্য নয়।”* (তিরমিজি)

হাদিসে এসেছে, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নিজেও নিয়মিত কুরবানি করতেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, *“রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় অবস্থানের ১০ বছর প্রতিবছরই কুরবানি করেছেন।”* (তিরমিজি: ১৫০৭)

কুরবানির তাৎপর্য সম্পর্কে সাহাবায়ে কেরাম (রা.) জানতে চাইলে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, এটি হজরত ইবরাহীম (আ.)-এর সুন্নত। এর বিনিময়ে আল্লাহ তায়ালা বিপুল সওয়াব দান করেন। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, *“প্রত্যেক পশমের বিনিময়ে একটি করে সওয়াব রয়েছে এবং কুরবানির দিন আল্লাহর কাছে পশু জবাইয়ের চেয়ে অধিক প্রিয় আমল আর নেই।”* (মুসনাদে আহমাদ)

সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কুরবানি না করার বিষয়ে হাদিসে কঠোর সতর্কবার্তাও রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, *“যার কুরবানির সামর্থ্য রয়েছে কিন্তু সে কুরবানি করে না, সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে।”* (মুস্তাদরাকে হাকেম)

### কুরবানির পশু কেনার আগে যা জানা জরুরি

ইসলামী শরিয়তে কুরবানির জন্য নির্দিষ্ট কিছু পশুর অনুমতি রয়েছে। গরু, মহিষ, উট, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা কুরবানি করা জায়েজ। এ ছাড়া অন্য কোনো পশু দিয়ে কুরবানি করার বিধান নেই।

পশুর বয়সের বিষয়েও রয়েছে নির্দিষ্ট নিয়ম। ছাগল, ভেড়া ও দুম্বার বয়স কমপক্ষে এক বছর হতে হবে। গরু ও মহিষের বয়স অন্তত দুই বছর এবং উটের বয়স পাঁচ বছর পূর্ণ হতে হবে। তবে ভেড়া বা দুম্বা যদি ছয় মাস বয়সেও হৃষ্টপুষ্ট হয়ে এক বছরের মতো দেখায়, তাহলে তা দিয়ে কুরবানি করা বৈধ।

পশু কেনার সময় অবশ্যই তার শারীরিক অবস্থা খেয়াল করতে হবে। অতিরিক্ত দুর্বল, অসুস্থ বা এমন পশু কেনা যাবে না যার হাড়ের মজ্জা শুকিয়ে গেছে কিংবা যা কুরবানির স্থান পর্যন্ত হেঁটে যেতে অক্ষম। এ ধরনের পশু দিয়ে কুরবানি জায়েজ হয় না। ইসলামী বিধান অনুযায়ী সুস্থ, সবল ও মোটা-তাজা পশু কুরবানি করা মুস্তাহাব।

এছাড়া কোনো পশুর একটি পা যদি এমনভাবে নষ্ট হয়ে যায় যে হাঁটার সময় সেটি ব্যবহার করতে না পারে, তাহলে সেই পশু দিয়েও কুরবানি শুদ্ধ হবে না।

ধর্মীয় অনুশাসন মেনে, সঠিক পশু নির্বাচন করে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়তে কুরবানি আদায় করাই ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা ও তাৎপর্য বলে মনে করেন ইসলামি চিন্তাবিদরা।

সর্বাধিক পঠিত

চৌগাছায় ঝন্টু হত্যার প্রধান আসামি আবু ওবায়দা আটক

ঈদুল আজহা সামনে: কুরবানির গুরুত্ব, ফজিলত ও পশু কেনার আগে যেসব বিষয় জানা জরুরি

আপডেট: ১১:০৩:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র দুই দিন বাকি। মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব এই ঈদকে ঘিরে সারা দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় কুরবানির পশু কেনার জন্য জমে উঠেছে বিভিন্ন পশুর হাট। পরিবার-পরিজন নিয়ে পছন্দের পশু কেনায় এখন ব্যস্ত সময় কাটছে কুরবানিদাতাদের।

ইসলামে কুরবানি শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি ত্যাগ, আনুগত্য ও আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণের এক মহান শিক্ষা। কুরবানির সঙ্গে জড়িয়ে আছে হজরত ইবরাহীম (আ.)-এর মহান আত্মত্যাগের ইতিহাস। আল্লাহর নির্দেশ পালনে তিনি নিজ সন্তানকে কুরবানি করতে প্রস্তুত হয়েছিলেন। তার এই ত্যাগ ও আনুগত্যের স্মরণে সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্য কুরবানির বিধান প্রবর্তিত হয়েছে।

হজরত মিখজাফ ইবনে সালিম (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) আরাফার ময়দানে সমবেত লোকদের উদ্দেশে বলেন, *“হে লোক সকল! তোমরা জেনে রাখ, প্রত্যেক সামর্থ্যবান ব্যক্তির ওপর প্রতি বছর কুরবানি করা কর্তব্য। আর যার সামর্থ্য নেই, তার ওপর কুরবানি কর্তব্য নয়।”* (তিরমিজি)

হাদিসে এসেছে, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নিজেও নিয়মিত কুরবানি করতেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, *“রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় অবস্থানের ১০ বছর প্রতিবছরই কুরবানি করেছেন।”* (তিরমিজি: ১৫০৭)

কুরবানির তাৎপর্য সম্পর্কে সাহাবায়ে কেরাম (রা.) জানতে চাইলে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, এটি হজরত ইবরাহীম (আ.)-এর সুন্নত। এর বিনিময়ে আল্লাহ তায়ালা বিপুল সওয়াব দান করেন। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, *“প্রত্যেক পশমের বিনিময়ে একটি করে সওয়াব রয়েছে এবং কুরবানির দিন আল্লাহর কাছে পশু জবাইয়ের চেয়ে অধিক প্রিয় আমল আর নেই।”* (মুসনাদে আহমাদ)

সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কুরবানি না করার বিষয়ে হাদিসে কঠোর সতর্কবার্তাও রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, *“যার কুরবানির সামর্থ্য রয়েছে কিন্তু সে কুরবানি করে না, সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে।”* (মুস্তাদরাকে হাকেম)

### কুরবানির পশু কেনার আগে যা জানা জরুরি

ইসলামী শরিয়তে কুরবানির জন্য নির্দিষ্ট কিছু পশুর অনুমতি রয়েছে। গরু, মহিষ, উট, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা কুরবানি করা জায়েজ। এ ছাড়া অন্য কোনো পশু দিয়ে কুরবানি করার বিধান নেই।

পশুর বয়সের বিষয়েও রয়েছে নির্দিষ্ট নিয়ম। ছাগল, ভেড়া ও দুম্বার বয়স কমপক্ষে এক বছর হতে হবে। গরু ও মহিষের বয়স অন্তত দুই বছর এবং উটের বয়স পাঁচ বছর পূর্ণ হতে হবে। তবে ভেড়া বা দুম্বা যদি ছয় মাস বয়সেও হৃষ্টপুষ্ট হয়ে এক বছরের মতো দেখায়, তাহলে তা দিয়ে কুরবানি করা বৈধ।

পশু কেনার সময় অবশ্যই তার শারীরিক অবস্থা খেয়াল করতে হবে। অতিরিক্ত দুর্বল, অসুস্থ বা এমন পশু কেনা যাবে না যার হাড়ের মজ্জা শুকিয়ে গেছে কিংবা যা কুরবানির স্থান পর্যন্ত হেঁটে যেতে অক্ষম। এ ধরনের পশু দিয়ে কুরবানি জায়েজ হয় না। ইসলামী বিধান অনুযায়ী সুস্থ, সবল ও মোটা-তাজা পশু কুরবানি করা মুস্তাহাব।

এছাড়া কোনো পশুর একটি পা যদি এমনভাবে নষ্ট হয়ে যায় যে হাঁটার সময় সেটি ব্যবহার করতে না পারে, তাহলে সেই পশু দিয়েও কুরবানি শুদ্ধ হবে না।

ধর্মীয় অনুশাসন মেনে, সঠিক পশু নির্বাচন করে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়তে কুরবানি আদায় করাই ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা ও তাৎপর্য বলে মনে করেন ইসলামি চিন্তাবিদরা।