০৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

মানিকগঞ্জে পারিবারিক কলহে গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, মরদেহের পাশেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে ছিলেন ভাগনে

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:৫৩:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
  • ৫১৮

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে সাথী আক্তার (২৮) নামে এক গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর ভাগনে রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে। হত্যাকাণ্ডের পর কয়েক ঘণ্টা ঘরের দরজা বন্ধ করে মরদেহের পাশেই ধারালো অস্ত্র হাতে বসে ছিলেন অভিযুক্ত। এ সময় নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি আবেগঘন স্টোরিও দেন তিনি।

রোববার (২৪ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সদর উপজেলার কাটিগ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সাথী আক্তার স্থানীয় প্রবাসী শুকুর আলীর স্ত্রী। অভিযুক্ত রিপন মিয়া (২০) সম্পর্কে শুকুর আলীর ভাগনে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রিপন গাড়ি চালানো শেখার পাশাপাশি গাড়ি ধোয়ার কাজ করতেন।

পুলিশ ও স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, ঘটনার রাতে বাড়ির ভেতরে সাথী আক্তারের সঙ্গে রিপন মিয়ার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে সাথীর গলায় আঘাত করেন তিনি। এতে ঘটনাস্থলেই সাথী আক্তারের মৃত্যু হয় বলে দাবি স্থানীয়দের।

হত্যাকাণ্ডের পর রাত প্রায় ১১টা পর্যন্ত ঘরের দরজা ভেতর থেকে আটকে মরদেহের পাশেই অবস্থান করেন রিপন। স্থানীয়দের ভাষ্য, ওই সময় তার হাতে হত্যায় ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র ছিল। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

এদিকে ঘরে অবস্থানকালে নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি স্টোরি দেন রিপন মিয়া। সেখানে লেখা ছিল, *‘জীবনের লাস্ট স্টোরি, আমাকে মাফ করে দিয়েন।’* স্টোরিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি নিয়ে আরও আলোচনা তৈরি হয়।

খবর পেয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেন এবং অভিযুক্ত রিপন মিয়াকে আটক করেন। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকরাম হোসেন জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে রিপন মিয়াকে আটক করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে এবং ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার পেছনে পারিবারিক বিরোধ বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

সর্বাধিক পঠিত

চৌগাছায় ঝন্টু হত্যার প্রধান আসামি আবু ওবায়দা আটক

মানিকগঞ্জে পারিবারিক কলহে গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, মরদেহের পাশেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে ছিলেন ভাগনে

আপডেট: ১০:৫৩:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে সাথী আক্তার (২৮) নামে এক গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর ভাগনে রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে। হত্যাকাণ্ডের পর কয়েক ঘণ্টা ঘরের দরজা বন্ধ করে মরদেহের পাশেই ধারালো অস্ত্র হাতে বসে ছিলেন অভিযুক্ত। এ সময় নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি আবেগঘন স্টোরিও দেন তিনি।

রোববার (২৪ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সদর উপজেলার কাটিগ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সাথী আক্তার স্থানীয় প্রবাসী শুকুর আলীর স্ত্রী। অভিযুক্ত রিপন মিয়া (২০) সম্পর্কে শুকুর আলীর ভাগনে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রিপন গাড়ি চালানো শেখার পাশাপাশি গাড়ি ধোয়ার কাজ করতেন।

পুলিশ ও স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, ঘটনার রাতে বাড়ির ভেতরে সাথী আক্তারের সঙ্গে রিপন মিয়ার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে সাথীর গলায় আঘাত করেন তিনি। এতে ঘটনাস্থলেই সাথী আক্তারের মৃত্যু হয় বলে দাবি স্থানীয়দের।

হত্যাকাণ্ডের পর রাত প্রায় ১১টা পর্যন্ত ঘরের দরজা ভেতর থেকে আটকে মরদেহের পাশেই অবস্থান করেন রিপন। স্থানীয়দের ভাষ্য, ওই সময় তার হাতে হত্যায় ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র ছিল। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

এদিকে ঘরে অবস্থানকালে নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি স্টোরি দেন রিপন মিয়া। সেখানে লেখা ছিল, *‘জীবনের লাস্ট স্টোরি, আমাকে মাফ করে দিয়েন।’* স্টোরিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি নিয়ে আরও আলোচনা তৈরি হয়।

খবর পেয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেন এবং অভিযুক্ত রিপন মিয়াকে আটক করেন। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকরাম হোসেন জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে রিপন মিয়াকে আটক করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে এবং ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার পেছনে পারিবারিক বিরোধ বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।