০৩:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

আনিছুর রহমান হত্যা মামলার প্রধান আসামি শাহ মাহমুদ গ্রেফতার, ভারতে পালানোর পরিকল্পনার তথ্য পুলিশের

যশোরের অভয়নগরের ব্যবসায়ী আনিছুর রহমান হত্যা মামলার প্রধান আসামি শাহ মাহমুদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি যশোর হয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন বলেও জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সোমবার দুপুরে যশোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান মিরাজুল ইসলাম।

এর আগে রোববার দিবাগত রাতে অভয়নগর থানা পুলিশ, ডিবি ও সাইবার ক্রাইম ইউনিটের যৌথ অভিযানে যশোর শহরের আরএন রোড এলাকার একটি বাসা থেকে শাহ মাহমুদকে আটক করা হয়। গ্রেফতার শাহ মাহমুদ নওয়াপাড়া পীরবাড়ি এলাকার শাহ জোনায়েদের ছেলে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, মূলত ব্যবসায়ী আনিছুর রহমানের দোকান ভাড়া নিয়ে বিরোধের জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত। তবে এর পেছনে আরও কিছু কারণ থাকতে পারে, যা তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানান তিনি।

পুলিশ জানায়, গত ৬ মে অভয়নগর থানার গুয়াখোলা পীরবাড়ি মসজিদের পশ্চিম পাশে নিজের নির্মাণাধীন ছয়তলা ভবনের নিচতলায় অবস্থান করছিলেন ব্যবসায়ী আনিছুর রহমান। এসময় শাহ মাহমুদ, তার সহযোগী নাসিরসহ আরও ২-৩ জন সেখানে আসে। একপর্যায়ে শাহ মাহমুদ কোমরে থাকা ধারালো চাইনিজ কুড়াল দিয়ে আনিছুর রহমানের মুখের বাম পাশে কোপ দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা আনিছুর রহমানকে উদ্ধার করে প্রথমে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে ৭ মে রাত ২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রধান আসামি শাহ মাহমুদ আত্মগোপনে চলে যান। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী নাহিদা ইমাম বাদী হয়ে অভয়নগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ প্রথমে মনির হোসেন নামে একজনকে আটক করে। পরে রোববার রাতে প্রধান আসামি শাহ মাহমুদকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন মুন্না বিশ্বাস এবং জাহিদুল ইসলাম।

এদিকে পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, মুকিত নামের এক আইনজীবীর সহায়তায় শাহ মাহমুদ ভারতে পালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এজন্য তাকে যশোর শহরের একটি বাসায় গোপনে রাখা হয়েছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাহ মাহমুদ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা এবং দেশত্যাগের পরিকল্পনার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

সর্বাধিক পঠিত

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবার যাত্রীবাহী বাস পদ্মায়, চালক-সহকারী উদ্ধার

আনিছুর রহমান হত্যা মামলার প্রধান আসামি শাহ মাহমুদ গ্রেফতার, ভারতে পালানোর পরিকল্পনার তথ্য পুলিশের

আপডেট: ০৫:৩৩:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

যশোরের অভয়নগরের ব্যবসায়ী আনিছুর রহমান হত্যা মামলার প্রধান আসামি শাহ মাহমুদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি যশোর হয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন বলেও জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সোমবার দুপুরে যশোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান মিরাজুল ইসলাম।

এর আগে রোববার দিবাগত রাতে অভয়নগর থানা পুলিশ, ডিবি ও সাইবার ক্রাইম ইউনিটের যৌথ অভিযানে যশোর শহরের আরএন রোড এলাকার একটি বাসা থেকে শাহ মাহমুদকে আটক করা হয়। গ্রেফতার শাহ মাহমুদ নওয়াপাড়া পীরবাড়ি এলাকার শাহ জোনায়েদের ছেলে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, মূলত ব্যবসায়ী আনিছুর রহমানের দোকান ভাড়া নিয়ে বিরোধের জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত। তবে এর পেছনে আরও কিছু কারণ থাকতে পারে, যা তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানান তিনি।

পুলিশ জানায়, গত ৬ মে অভয়নগর থানার গুয়াখোলা পীরবাড়ি মসজিদের পশ্চিম পাশে নিজের নির্মাণাধীন ছয়তলা ভবনের নিচতলায় অবস্থান করছিলেন ব্যবসায়ী আনিছুর রহমান। এসময় শাহ মাহমুদ, তার সহযোগী নাসিরসহ আরও ২-৩ জন সেখানে আসে। একপর্যায়ে শাহ মাহমুদ কোমরে থাকা ধারালো চাইনিজ কুড়াল দিয়ে আনিছুর রহমানের মুখের বাম পাশে কোপ দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা আনিছুর রহমানকে উদ্ধার করে প্রথমে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে ৭ মে রাত ২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রধান আসামি শাহ মাহমুদ আত্মগোপনে চলে যান। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী নাহিদা ইমাম বাদী হয়ে অভয়নগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ প্রথমে মনির হোসেন নামে একজনকে আটক করে। পরে রোববার রাতে প্রধান আসামি শাহ মাহমুদকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন মুন্না বিশ্বাস এবং জাহিদুল ইসলাম।

এদিকে পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, মুকিত নামের এক আইনজীবীর সহায়তায় শাহ মাহমুদ ভারতে পালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এজন্য তাকে যশোর শহরের একটি বাসায় গোপনে রাখা হয়েছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাহ মাহমুদ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা এবং দেশত্যাগের পরিকল্পনার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।