০৫:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

যশোরে খাস জমি উদ্ধারে দ্বিতীয় দিনের অভিযান, গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ৪ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১২:২০:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
  • ৫১২

যশোরে সরকারি খাস জমি উদ্ধার ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো অভিযান পরিচালনা করেছে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। সোমবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন এলাকায় একযোগে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে দোকানপাট, বসতবাড়ি, টিনশেড ঘর, অস্থায়ী কার্যালয় ও নির্মাণাধীন ভবনের অংশবিশেষ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দ্বিতীয় দিনের অভিযান শুরু হয় নিউ মার্কেট বালিকা বিদ্যালয় এলাকা থেকে। সেখানে একটি চারতলা ভবনের অংশ ভেঙে ফেলা হয়। পরে ডি-ব্লক স্কুল প্রাঙ্গণে এক নারী ইউপি সদস্যের চারটি টিনশেড ঘর উচ্ছেদ করা হয়। এছাড়া ঘোপ কবরস্থানের পাশের দুটি গ্যারেজ, শিশু হাসপাতালের পাশের তিনটি দোকান ও একটি বাড়ি, এবং মার্কাস মসজিদ সংলগ্ন একটি বড় ইট-সিমেন্টের দোকান উচ্ছেদ করা হয়।

উপশহর এলাকায় সরকারি জায়গা দখল করে নির্মিত সাইনবোর্ড ও টিনশেড ঘর ভেঙে দেওয়া হয়। একই এলাকায় সরকারি জমির ভেতরে পড়ে যাওয়ায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের অংশও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

ই-ব্লক এলাকায় একটি দোকান ও একটি বাড়ি উচ্ছেদ করা হয়। পাশাপাশি আরও দুটি বাড়ির দেয়াল ও বারান্দার অংশ ভাঙা হয়েছে। একই এলাকায় একটি অস্থায়ী বিএনপির রাজনৈতিক কার্যালয়ও উচ্ছেদ করা হয়।

হাইকোর্ট মোড় পুকুরপাড় এলাকায় প্রায় ১৫টি দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে। এছাড়া পুকুরের পেছনে থাকা দুটি বাড়িও ভেঙে ফেলা হয়। বারান্দীপাড়া ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় একটি বাড়ির দেয়াল ভাঙা হয়েছে।

এদিকে যশোর শিক্ষা বোর্ড অফিসের গেটসংলগ্ন একটি ফটোকপির দোকান, কাজীপাড়া নদীর পাশের একটি এনজিও অফিস ও দুটি ঘর উচ্ছেদ করা হয়েছে। এছাড়া সড়কের পাশে গড়ে ওঠা অসংখ্য ছোট-বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, টং দোকান, অস্থায়ী ক্লাব ও বসার স্থানও সরিয়ে দেওয়া হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের খুলনা বিভাগীয় নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়াউর রহমান। অভিযান চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। কোথাও কোথাও উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

জিয়াউর রহমান জানান, টানা দুই দিনের অভিযানে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের একাধিক আঞ্চলিক কার্যালয়সহ প্রায় ৪ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। এতে প্রায় ৫ একর সরকারি জমি উদ্ধার হয়েছে, যার বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক ৫০ কোটি টাকা।

তিনি আরও বলেন, জমি দখলদারদের এক বছরের বেশি সময় ধরে একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। সর্বশেষ শনিবার মাইকিং করেও তাদের সরে যেতে বলা হয়। এরপরও তারা জায়গা না ছাড়ায় কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।

তবে অনেক দখলদার অভিযোগ করেছেন, তাদের পূর্ব নোটিশ দেওয়া হয়নি। কেউ কেউ আবার অভিযানে স্বজনপ্রীতির অভিযোগও তুলেছেন।

অভিযানকালে আরও উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ যশোরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইমাদুল ইসলাম তুহিন, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আশিক আহম্মেদ সাকিব এবং উপসহকারী প্রকৌশলী রাসেল মিয়া।

যশোরে গাড়ি আটকের অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ দাবি পুলিশের, সংবাদ সম্মেলন

যশোরে খাস জমি উদ্ধারে দ্বিতীয় দিনের অভিযান, গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ৪ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা

আপডেট: ১২:২০:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

যশোরে সরকারি খাস জমি উদ্ধার ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো অভিযান পরিচালনা করেছে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। সোমবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন এলাকায় একযোগে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে দোকানপাট, বসতবাড়ি, টিনশেড ঘর, অস্থায়ী কার্যালয় ও নির্মাণাধীন ভবনের অংশবিশেষ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দ্বিতীয় দিনের অভিযান শুরু হয় নিউ মার্কেট বালিকা বিদ্যালয় এলাকা থেকে। সেখানে একটি চারতলা ভবনের অংশ ভেঙে ফেলা হয়। পরে ডি-ব্লক স্কুল প্রাঙ্গণে এক নারী ইউপি সদস্যের চারটি টিনশেড ঘর উচ্ছেদ করা হয়। এছাড়া ঘোপ কবরস্থানের পাশের দুটি গ্যারেজ, শিশু হাসপাতালের পাশের তিনটি দোকান ও একটি বাড়ি, এবং মার্কাস মসজিদ সংলগ্ন একটি বড় ইট-সিমেন্টের দোকান উচ্ছেদ করা হয়।

উপশহর এলাকায় সরকারি জায়গা দখল করে নির্মিত সাইনবোর্ড ও টিনশেড ঘর ভেঙে দেওয়া হয়। একই এলাকায় সরকারি জমির ভেতরে পড়ে যাওয়ায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের অংশও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

ই-ব্লক এলাকায় একটি দোকান ও একটি বাড়ি উচ্ছেদ করা হয়। পাশাপাশি আরও দুটি বাড়ির দেয়াল ও বারান্দার অংশ ভাঙা হয়েছে। একই এলাকায় একটি অস্থায়ী বিএনপির রাজনৈতিক কার্যালয়ও উচ্ছেদ করা হয়।

হাইকোর্ট মোড় পুকুরপাড় এলাকায় প্রায় ১৫টি দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে। এছাড়া পুকুরের পেছনে থাকা দুটি বাড়িও ভেঙে ফেলা হয়। বারান্দীপাড়া ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় একটি বাড়ির দেয়াল ভাঙা হয়েছে।

এদিকে যশোর শিক্ষা বোর্ড অফিসের গেটসংলগ্ন একটি ফটোকপির দোকান, কাজীপাড়া নদীর পাশের একটি এনজিও অফিস ও দুটি ঘর উচ্ছেদ করা হয়েছে। এছাড়া সড়কের পাশে গড়ে ওঠা অসংখ্য ছোট-বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, টং দোকান, অস্থায়ী ক্লাব ও বসার স্থানও সরিয়ে দেওয়া হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের খুলনা বিভাগীয় নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়াউর রহমান। অভিযান চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। কোথাও কোথাও উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

জিয়াউর রহমান জানান, টানা দুই দিনের অভিযানে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের একাধিক আঞ্চলিক কার্যালয়সহ প্রায় ৪ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। এতে প্রায় ৫ একর সরকারি জমি উদ্ধার হয়েছে, যার বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক ৫০ কোটি টাকা।

তিনি আরও বলেন, জমি দখলদারদের এক বছরের বেশি সময় ধরে একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। সর্বশেষ শনিবার মাইকিং করেও তাদের সরে যেতে বলা হয়। এরপরও তারা জায়গা না ছাড়ায় কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।

তবে অনেক দখলদার অভিযোগ করেছেন, তাদের পূর্ব নোটিশ দেওয়া হয়নি। কেউ কেউ আবার অভিযানে স্বজনপ্রীতির অভিযোগও তুলেছেন।

অভিযানকালে আরও উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ যশোরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইমাদুল ইসলাম তুহিন, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আশিক আহম্মেদ সাকিব এবং উপসহকারী প্রকৌশলী রাসেল মিয়া।