০৭:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬

ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধনে গিয়ে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে এমপি আমির হামজা

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৬:৪০:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
  • ৫১০

কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে আন্তঃবিভাগ মিনি ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েছেন কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও আলোচিত ইসলামী বক্তা মুফতি আমির হামজা। কলেজ ক্যাম্পাসে বৃক্ষ নিধনের প্রতিবাদে মানববন্ধন চলাকালে শিক্ষার্থীরা তাকে লক্ষ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কলেজজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশ ও কলেজ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রধান অতিথি হিসেবে কলেজ মাঠে আয়োজিত ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধনে যান আমির হামজা। এ সময় সাধারণ শিক্ষার্থীরা কলেজ ক্যাম্পাসে নির্বিচারে গাছ কাটার প্রতিবাদে ব্যানার নিয়ে মানববন্ধন করছিলেন।

আমির হামজা মঞ্চে প্রবেশ করলে একদল শিক্ষার্থী সেখানে গিয়ে ব্যানার হাতে অবস্থান নেয় এবং তাকে উদ্দেশ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে শুরু করে। অনুষ্ঠান চলাকালীন এবং তার বক্তব্যের সময়ও স্লোগান অব্যাহত থাকে।

কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ-এর অধ্যক্ষ প্রফেসর মোল্লা মো. রুহুল আমীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান শুরু হয়। বক্তব্যের একপর্যায়ে আমির হামজা বলেন,
“আমি আনন্দও পেয়েছি আবার একটু দুঃখও পেয়েছি। গাছ কাটার বিষয়টি তদন্ত করে বের করা দরকার। কিন্তু যারা এই শিক্ষা ভবনকে নষ্ট করার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন,
“আমি হুজুর না। আজকে আমি আপনাদের তালিকা নিয়ে যাব। কারা এর পেছনে আছে, সেটাও আমি জানি।”

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অনুষ্ঠান শেষে কলেজের অধ্যক্ষ আমির হামজাকে তার কার্যালয়ে নিয়ে যান। পরে শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনেও জড়ো হয়ে একই ধরনের স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় পুলিশ কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয় এবং কিছু সময় পর আমির হামজা পুলিশি সহায়তায় কলেজ ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।

ঘটনার পর আমির হামজার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে দাবি করা হয়, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। তবে পরে বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন,
“সামান্য হট্টগোল হয়েছিল। আমি নিরাপদে বের হয়ে গেছি।”

তিনি দাবি করেন, শিক্ষার্থীরা মূলত গাছ কাটার ঘটনায় কলেজ প্রশাসনের সঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করছিল।

এ বিষয়ে কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন,
“খবর পেয়ে পুলিশ কলেজে যায়। তবে আমির হামজাকে অবরুদ্ধ করে রাখার কোনো ঘটনা ঘটেনি। তিনি স্বাভাবিকভাবেই অধ্যক্ষের কার্যালয় থেকে বের হয়ে চলে যান।”

উল্লেখ্য, গত ৪ মে রাতে কলেজ মাঠে টুর্নামেন্ট উপলক্ষে প্যান্ডেল তৈরির জন্য কলেজ ক্যাম্পাসের প্রায় ২০টি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ ওঠে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দাবি, এসব গাছ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা নিজেরা রোপণ ও পরিচর্যা করেছিলেন।

ঘটনার পর কলেজজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং দায়ীদের শাস্তির দাবিতে শিক্ষকরা লিখিত অভিযোগ দেন। পরে কলেজ কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় এক সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে।

বিতর্কিত মন্তব্যের পর ক্ষমা চাইলেন বাউল শিল্পী হাসিনা সরকার

ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধনে গিয়ে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে এমপি আমির হামজা

আপডেট: ০৬:৪০:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে আন্তঃবিভাগ মিনি ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েছেন কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও আলোচিত ইসলামী বক্তা মুফতি আমির হামজা। কলেজ ক্যাম্পাসে বৃক্ষ নিধনের প্রতিবাদে মানববন্ধন চলাকালে শিক্ষার্থীরা তাকে লক্ষ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কলেজজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশ ও কলেজ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রধান অতিথি হিসেবে কলেজ মাঠে আয়োজিত ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধনে যান আমির হামজা। এ সময় সাধারণ শিক্ষার্থীরা কলেজ ক্যাম্পাসে নির্বিচারে গাছ কাটার প্রতিবাদে ব্যানার নিয়ে মানববন্ধন করছিলেন।

আমির হামজা মঞ্চে প্রবেশ করলে একদল শিক্ষার্থী সেখানে গিয়ে ব্যানার হাতে অবস্থান নেয় এবং তাকে উদ্দেশ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে শুরু করে। অনুষ্ঠান চলাকালীন এবং তার বক্তব্যের সময়ও স্লোগান অব্যাহত থাকে।

কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ-এর অধ্যক্ষ প্রফেসর মোল্লা মো. রুহুল আমীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান শুরু হয়। বক্তব্যের একপর্যায়ে আমির হামজা বলেন,
“আমি আনন্দও পেয়েছি আবার একটু দুঃখও পেয়েছি। গাছ কাটার বিষয়টি তদন্ত করে বের করা দরকার। কিন্তু যারা এই শিক্ষা ভবনকে নষ্ট করার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন,
“আমি হুজুর না। আজকে আমি আপনাদের তালিকা নিয়ে যাব। কারা এর পেছনে আছে, সেটাও আমি জানি।”

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অনুষ্ঠান শেষে কলেজের অধ্যক্ষ আমির হামজাকে তার কার্যালয়ে নিয়ে যান। পরে শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনেও জড়ো হয়ে একই ধরনের স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় পুলিশ কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয় এবং কিছু সময় পর আমির হামজা পুলিশি সহায়তায় কলেজ ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।

ঘটনার পর আমির হামজার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে দাবি করা হয়, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। তবে পরে বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন,
“সামান্য হট্টগোল হয়েছিল। আমি নিরাপদে বের হয়ে গেছি।”

তিনি দাবি করেন, শিক্ষার্থীরা মূলত গাছ কাটার ঘটনায় কলেজ প্রশাসনের সঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করছিল।

এ বিষয়ে কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন,
“খবর পেয়ে পুলিশ কলেজে যায়। তবে আমির হামজাকে অবরুদ্ধ করে রাখার কোনো ঘটনা ঘটেনি। তিনি স্বাভাবিকভাবেই অধ্যক্ষের কার্যালয় থেকে বের হয়ে চলে যান।”

উল্লেখ্য, গত ৪ মে রাতে কলেজ মাঠে টুর্নামেন্ট উপলক্ষে প্যান্ডেল তৈরির জন্য কলেজ ক্যাম্পাসের প্রায় ২০টি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ ওঠে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দাবি, এসব গাছ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা নিজেরা রোপণ ও পরিচর্যা করেছিলেন।

ঘটনার পর কলেজজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং দায়ীদের শাস্তির দাবিতে শিক্ষকরা লিখিত অভিযোগ দেন। পরে কলেজ কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় এক সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে।