০৭:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ৫, ভাঙচুর আটক ১১১০

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৬:২৮:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
  • ৫০৯

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাপক সহিংসতা। এরই মধ্যে বুধবার (৬ মে) রাতে মধ্যমগ্রামে ভয়াবহ সশস্ত্র হামলায় সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-এর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তার গাড়িচালক বুদ্ধদেব বেরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতের দিকে চারটি মোটরসাইকেলে করে আসা হামলাকারীরা মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়া লেনে প্রবেশ করে চন্দ্রনাথ রথের গাড়িকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পরে আহতদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা চন্দ্রনাথ রথকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত চালক বুদ্ধদেব বেরাকে পরে কলকাতার অ্যাপোলো হাসপাতাল-এ স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শরীরে অন্তত তিনটি গুলির আঘাত রয়েছে এবং অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চিকিৎসা চলছে।

এদিকে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিজেপির দাবি, হাওড়া ও রাজারহাট নিউ টাউনে তাদের দুই কর্মী নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস অভিযোগ করেছে, বীরভূমের নানুর ও বেলেঘাটায় তাদের দুই কর্মীকে হত্যা করেছে বিরোধীরা।

বীরভূম, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, নদিয়া ও বাঁকুড়াসহ একাধিক জেলায় সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। আসানসোল অঞ্চলে তৃণমূলের কয়েকটি দলীয় কার্যালয়ে হামলা ও আগুন দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকায় একটি দোকান ভাঙচুর নিয়েও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

বসিরহাট এলাকায় পুলিশ কর্মকর্তাসহ একাধিক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে প্রশাসন। সিদ্ধনাথ গুপ্ত জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত প্রায় ২০০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে, ৪৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আরও প্রায় ১,১০০ জনকে আটক করা হয়েছে।

এছাড়া ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রাজনৈতিক উত্তেজনা দ্রুত সহিংস রূপ নিয়েছে, যা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিতর্কিত মন্তব্যের পর ক্ষমা চাইলেন বাউল শিল্পী হাসিনা সরকার

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ৫, ভাঙচুর আটক ১১১০

আপডেট: ০৬:২৮:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাপক সহিংসতা। এরই মধ্যে বুধবার (৬ মে) রাতে মধ্যমগ্রামে ভয়াবহ সশস্ত্র হামলায় সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-এর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তার গাড়িচালক বুদ্ধদেব বেরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতের দিকে চারটি মোটরসাইকেলে করে আসা হামলাকারীরা মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়া লেনে প্রবেশ করে চন্দ্রনাথ রথের গাড়িকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পরে আহতদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা চন্দ্রনাথ রথকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত চালক বুদ্ধদেব বেরাকে পরে কলকাতার অ্যাপোলো হাসপাতাল-এ স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শরীরে অন্তত তিনটি গুলির আঘাত রয়েছে এবং অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চিকিৎসা চলছে।

এদিকে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিজেপির দাবি, হাওড়া ও রাজারহাট নিউ টাউনে তাদের দুই কর্মী নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস অভিযোগ করেছে, বীরভূমের নানুর ও বেলেঘাটায় তাদের দুই কর্মীকে হত্যা করেছে বিরোধীরা।

বীরভূম, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, নদিয়া ও বাঁকুড়াসহ একাধিক জেলায় সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। আসানসোল অঞ্চলে তৃণমূলের কয়েকটি দলীয় কার্যালয়ে হামলা ও আগুন দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকায় একটি দোকান ভাঙচুর নিয়েও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

বসিরহাট এলাকায় পুলিশ কর্মকর্তাসহ একাধিক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে প্রশাসন। সিদ্ধনাথ গুপ্ত জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত প্রায় ২০০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে, ৪৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আরও প্রায় ১,১০০ জনকে আটক করা হয়েছে।

এছাড়া ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রাজনৈতিক উত্তেজনা দ্রুত সহিংস রূপ নিয়েছে, যা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।