মিয়ানমারের কারাবন্দী সাবেক নেত্রী অং সান সু চিকে কারাগার থেকে সরিয়ে গৃহবন্দী করা হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির সামরিক সরকার। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত এক বিবৃতিতে জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং জানান, সু চি তার অবশিষ্ট সাজা “নির্ধারিত বাসভবনে” কাটানোর অনুমতি পেয়েছেন।
এই দাবির সমর্থনে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে সু চির সঙ্গে দুই সামরিক কর্মকর্তার একটি ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে। তবে ছবিটির সত্যতা ও সাম্প্রতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তার পরিবার। সু চির ছেলে কিম অ্যারিস বলেছেন, প্রকাশিত ছবিটি ২০২২ সালের এবং এটি বর্তমান পরিস্থিতির কোনো প্রমাণ নয়।
বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কিম অ্যারিস বলেন, “আশা করি খবরটি সত্যি। কিন্তু তাকে কারাগার থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে—এমন কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ আমার কাছে নেই। যতক্ষণ না আমি তার সঙ্গে কথা বলতে পারছি, অথবা স্বাধীনভাবে কেউ তার অবস্থান ও শারীরিক অবস্থা যাচাই করতে পারছেন, ততক্ষণ আমি কিছুই বিশ্বাস করব না।”
এর আগে গত শুক্রবার সু চির আইনজীবী জানান, তার সাজার মেয়াদ ছয় ভাগের এক ভাগ কমানো হয়েছে। তবে তখনও স্পষ্ট ছিল না, তিনি গৃহবন্দী হিসেবে বাকি সাজা ভোগ করতে পারবেন কি না। গৃহবন্দী করার বিষয়ে সু চির আইনজীবীদেরও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই অং সান সু চি কার্যত জনসম্মুখ থেকে বিচ্ছিন্ন। তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে তার আইনজীবীরা তার সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। পরিবারের সঙ্গেও দুই বছরের বেশি সময় ধরে তার কোনো যোগাযোগ নেই।
৮০ বছর বয়সী নোবেলজয়ী এই নেত্রীকে মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডোর একটি সামরিক কারাগারে রাখা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছিল। তার স্বাস্থ্য, অবস্থান এবং জীবনযাপন সম্পর্কে দীর্ঘদিন ধরেই কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করেন সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং। পরে তিনি দেশের শাসনভার গ্রহণ করেন এবং চলতি বছরের ৩ এপ্রিল নিজেকে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। তবে আন্তর্জাতিক মহলের মতে, সেই নির্বাচন ছিল না অবাধ ও নিরপেক্ষ।

















