০৪:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

খাগড়াছড়ির রামগড়ে স্কুলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: পুড়ে ছাই ৬ কক্ষ, ক্ষতি অন্তত ২০ লাখ টাকা

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১২:২৯:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ৬১৩

খাগড়াছড়ি: খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় উপজেলার ২নং পাতাছড়া ইউনিয়নের কলাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়-এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বিদ্যালয়ের ছয়টি কক্ষ পুড়ে গেছে। এতে আসবাবপত্র, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও শিক্ষা উপকরণসহ প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। জনবসতিহীন এলাকায় স্কুলটি অবস্থিত হওয়ায় স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

রামগড় ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) বিষয়ান্তর বড়ুয়া জানান, জরুরি হটলাইন ১০২-এ কল পাওয়ার পর দ্রুত দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষসহ একাধিক শ্রেণিকক্ষ সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল কাদের জানান, আগুনে বিদ্যালয়ের মূল্যবান আসবাবপত্র, কম্পিউটার এবং শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র পুড়ে গেছে। এতে অন্তত ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, প্রশাসন ও স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত মেরামত কাজ সম্পন্ন করে পাঠদান কার্যক্রম পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি কাজী শামীম বলেন, ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও আগেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়ে যায়। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে খাগড়াছড়ির তৎকালীন জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রত্যন্ত এই এলাকায় বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। আকস্মিক এই অগ্নিকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তারা এটিকে বিদ্যালয়ের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি বলে উল্লেখ করেছেন।

সর্বাধিক পঠিত

১৭২ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আনিসুল হকসহ চারজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন

খাগড়াছড়ির রামগড়ে স্কুলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: পুড়ে ছাই ৬ কক্ষ, ক্ষতি অন্তত ২০ লাখ টাকা

আপডেট: ১২:২৯:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

খাগড়াছড়ি: খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় উপজেলার ২নং পাতাছড়া ইউনিয়নের কলাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়-এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বিদ্যালয়ের ছয়টি কক্ষ পুড়ে গেছে। এতে আসবাবপত্র, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও শিক্ষা উপকরণসহ প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। জনবসতিহীন এলাকায় স্কুলটি অবস্থিত হওয়ায় স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

রামগড় ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) বিষয়ান্তর বড়ুয়া জানান, জরুরি হটলাইন ১০২-এ কল পাওয়ার পর দ্রুত দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষসহ একাধিক শ্রেণিকক্ষ সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল কাদের জানান, আগুনে বিদ্যালয়ের মূল্যবান আসবাবপত্র, কম্পিউটার এবং শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র পুড়ে গেছে। এতে অন্তত ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, প্রশাসন ও স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত মেরামত কাজ সম্পন্ন করে পাঠদান কার্যক্রম পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি কাজী শামীম বলেন, ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও আগেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়ে যায়। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে খাগড়াছড়ির তৎকালীন জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রত্যন্ত এই এলাকায় বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। আকস্মিক এই অগ্নিকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তারা এটিকে বিদ্যালয়ের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি বলে উল্লেখ করেছেন।