১০:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৩ মার্চ: যশোরে পাকিস্তানি পতাকা পুড়িয়ে স্বাধীনতার প্রথম ঝিলিক দেখেছিলেন আব্দুল হাই

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১২:০৪:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬
  • ৬৪৫

আজ ঐতিহাসিক ৩ মার্চ। ১৯৭১ সালের এই দিনে উত্তাল যশোরে পাকিস্তানি জান্তার বিরুদ্ধে সূচিত হয়েছিল এক অভাবনীয় প্রতিরোধ। একদিকে স্বজন হারানোর শোক, অন্যদিকে স্বাধীনতার তীব্র আকাঙ্ক্ষা—এই দুইয়ের সংমিশ্রণে যশোরের রাজপথ সেদিন প্রকম্পিত হয়েছিল মুক্তিকামী মানুষের স্লোগানে।
চারুবালার মরদেহ ও জনতার জাগরণ
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, সেদিন বিকেলে তালা ভেঙে উদ্ধার করা হয় শহীদ চারুবালা করের মরদেহ। সূর্য যখন পশ্চিম আকাশে হেলে পড়ছে, তখন হাজার হাজার শোকার্ত মানুষের ঢল নামে যশোরের রাস্তায়। নীলগঞ্জ মহাশ্মশানের দিকে এগিয়ে চলা সেই বিশাল শবযাত্রায় পুরুষের পাশাপাশি যোগ দেন অগণিত নারী। সবার চোখে-মুখে ছিল পাকিস্তানি শোষণের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধের প্রতিচ্ছবি।
কালেক্টরেটে বীর আব্দুল হাইয়ের দুঃসাহস
শহীদ চারুবালা করের লাশ নিয়ে মিছিলটি যখন যশোর কালেক্টরেট ভবন ঘেরাও করে, তখন এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের জন্ম হয়। পাকিস্তানি বাহিনীর বুলেটের ভয় উপেক্ষা করে তৎকালীন তুখোড় ছাত্রনেতা (পরবর্তীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা) আব্দুল হাই প্রাণের মায়া ত্যাগ করে কালেক্টরেট ভবনের পাইপ বেয়ে উপরে উঠে যান। ক্ষুব্ধ জনতার সামনে তিনি পাকিস্তানের পতাকা নামিয়ে তাতে আগুন ধরিয়ে দেন এবং সেখানে একটি প্রতীকী পতাকা উড়িয়ে দেন। এই ঘটনাটি তৎকালীন অসহযোগ আন্দোলনে সারা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
অযত্নে মাটির সাথে মিশেছে বীরের সমাধি
শহীদ চারুবালা করকে নীলগঞ্জ মহাশ্মশানের পাশে নদীর ধারে সমাধিস্থ করা হয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, আজ স্বাধীনতার এত বছর পরও সেই ঐতিহাসিক সমাধিটি অবহেলিত। নীলগঞ্জ এলাকায় প্রগতি বালিকা বিদ্যালয়ের পেছনে চারুবালা করের সমাধির ওপর দিয়ে এখন সাধারণ মানুষের বসতবাড়ি তৈরি হয়েছে। মাটির সাথে মিশে যাওয়া সেই বীরত্বগাঁথার সাক্ষ্য হিসেবে এখন পড়ে আছে কেবল এক সারি ইটের চিহ্ন।
স্মৃতিবিজড়িত এই দিনটি আজও যশোরবাসীকে মনে করিয়ে দেয় স্বাধীনতার জন্য দেওয়া সেই চড়া মূল্যের কথা।

সর্বাধিক পঠিত

বড় আঁচড়ায় পঞ্চম দিনের গণসংযোগে ইমদাদুল হক ইমদাদ

৩ মার্চ: যশোরে পাকিস্তানি পতাকা পুড়িয়ে স্বাধীনতার প্রথম ঝিলিক দেখেছিলেন আব্দুল হাই

আপডেট: ১২:০৪:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

আজ ঐতিহাসিক ৩ মার্চ। ১৯৭১ সালের এই দিনে উত্তাল যশোরে পাকিস্তানি জান্তার বিরুদ্ধে সূচিত হয়েছিল এক অভাবনীয় প্রতিরোধ। একদিকে স্বজন হারানোর শোক, অন্যদিকে স্বাধীনতার তীব্র আকাঙ্ক্ষা—এই দুইয়ের সংমিশ্রণে যশোরের রাজপথ সেদিন প্রকম্পিত হয়েছিল মুক্তিকামী মানুষের স্লোগানে।
চারুবালার মরদেহ ও জনতার জাগরণ
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, সেদিন বিকেলে তালা ভেঙে উদ্ধার করা হয় শহীদ চারুবালা করের মরদেহ। সূর্য যখন পশ্চিম আকাশে হেলে পড়ছে, তখন হাজার হাজার শোকার্ত মানুষের ঢল নামে যশোরের রাস্তায়। নীলগঞ্জ মহাশ্মশানের দিকে এগিয়ে চলা সেই বিশাল শবযাত্রায় পুরুষের পাশাপাশি যোগ দেন অগণিত নারী। সবার চোখে-মুখে ছিল পাকিস্তানি শোষণের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধের প্রতিচ্ছবি।
কালেক্টরেটে বীর আব্দুল হাইয়ের দুঃসাহস
শহীদ চারুবালা করের লাশ নিয়ে মিছিলটি যখন যশোর কালেক্টরেট ভবন ঘেরাও করে, তখন এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের জন্ম হয়। পাকিস্তানি বাহিনীর বুলেটের ভয় উপেক্ষা করে তৎকালীন তুখোড় ছাত্রনেতা (পরবর্তীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা) আব্দুল হাই প্রাণের মায়া ত্যাগ করে কালেক্টরেট ভবনের পাইপ বেয়ে উপরে উঠে যান। ক্ষুব্ধ জনতার সামনে তিনি পাকিস্তানের পতাকা নামিয়ে তাতে আগুন ধরিয়ে দেন এবং সেখানে একটি প্রতীকী পতাকা উড়িয়ে দেন। এই ঘটনাটি তৎকালীন অসহযোগ আন্দোলনে সারা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
অযত্নে মাটির সাথে মিশেছে বীরের সমাধি
শহীদ চারুবালা করকে নীলগঞ্জ মহাশ্মশানের পাশে নদীর ধারে সমাধিস্থ করা হয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, আজ স্বাধীনতার এত বছর পরও সেই ঐতিহাসিক সমাধিটি অবহেলিত। নীলগঞ্জ এলাকায় প্রগতি বালিকা বিদ্যালয়ের পেছনে চারুবালা করের সমাধির ওপর দিয়ে এখন সাধারণ মানুষের বসতবাড়ি তৈরি হয়েছে। মাটির সাথে মিশে যাওয়া সেই বীরত্বগাঁথার সাক্ষ্য হিসেবে এখন পড়ে আছে কেবল এক সারি ইটের চিহ্ন।
স্মৃতিবিজড়িত এই দিনটি আজও যশোরবাসীকে মনে করিয়ে দেয় স্বাধীনতার জন্য দেওয়া সেই চড়া মূল্যের কথা।