যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় ৫ বছরের শিশু কন্যাসহ এক মালয়েশিয়া প্রবাসীর স্ত্রী নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে নিখোঁজ হওয়া এই মা ও শিশুর কোনো সন্ধান না পাওয়ায় পরিবারটি বর্তমানে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। এ ঘটনায় পার্শ্ববর্তী গ্রামের এক যুবকের বিরুদ্ধে অপহরণের সরাসরি অভিযোগ এনে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
নিখোঁজ গৃহবধূ আশা খাতুন (২২) উপজেলার চাকলা গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী মনিরুল ইসলামের স্ত্রী এবং তাদের ৫ বছরের শিশুকন্যার নাম আরোহি জান্নাত।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে চাকলা গ্রামের মনিরুল ইসলামের সঙ্গে আশা খাতুনের বিয়ে হয়। জীবিকার তাগিদে মনিরুল গত তিন বছর ধরে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন। অভিযোগ উঠেছে, স্বামী বিদেশে থাকার সুযোগে পার্শ্ববর্তী পারখাজুরা গ্রামের তপন দাসের ছেলে কৌশিক (২১) মোবাইল ফোনে আশার সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলে এবং তাকে দীর্ঘদিন ধরে উত্যক্ত ও প্রলোভন দেখিয়ে আসছিল।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বিকেলে আশা খাতুন তার শিশু কন্যাকে নিয়ে খালার বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। কিন্তু গভীর রাত পর্যন্ত তারা আর ঘরে ফেরেননি। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, রাজগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে কৌশিক ও তার সহযোগীরা মা ও শিশুকে জোরপূর্বক অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গেছে।
নিখোঁজ আশার মা ও মামলার বাদী নূর জাহান বেগম কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “আমার জামাই বিদেশে রক্ত পানি করে টাকা পাঠায়, আর এই সুযোগে আমার মেয়েটাকে ফুসলিয়ে নিয়ে গেছে। আমি আমার মেয়ে আর নাতনিকে জীবিত ফেরত চাই। তারা কোথায় আছে, কেমন আছে—কিছুই জানি না।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় তিনি সঠিক সহায়তা পেতে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন।
এ ঘটনায় মণিরামপুর থানায় দায়ের করা অভিযোগে প্রধান অভিযুক্ত কৌশিক ছাড়াও তার বাবা তপন দাস (৫০) এবং অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে বিবাদী করা হয়েছে।
মণিরামপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে নেওয়া হয়েছে। নিখোঁজ গৃহবধূ ও শিশুকে উদ্ধারসহ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




















