যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় আরিফ হোসেন (২৫) নামে এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার পর লাশ মাছের ঘেরে ফেলে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার (২ মার্চ) সকালে উপজেলার নেহালপুর ইউনিয়নের বালিধা বৈরাগী মোড় সংলগ্ন একটি ঘের থেকে নিহতের মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত আরিফ হোসেন স্থানীয় গরু ব্যবসায়ী আতিয়ার রহমানের ছেলে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে বালিধা বৈরাগী মোড় সংলগ্ন আনোয়ার ফকিরের মাছের ঘেরের পাড়ে ছোপ ছোপ রক্ত পড়ে থাকতে দেখে পথচারীদের সন্দেহ হয়। পরে তারা ঘেরের পানিতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশে খবর দেন।
ধারণা করা হচ্ছে, গত রোববার (১ মার্চ) রাতের কোনো এক সময় নির্জন স্থানে একা পেয়ে দুর্বৃত্তরা আরিফকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। এরপর আলামত গোপনের উদ্দেশ্যে লাশটি পাশের ঘেরের পানিতে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে মণিরামপুর থানা ও নেহালপুর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। নিহতের শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক গভীর ক্ষত চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রজিউল্লাহ খান জানান:
> “হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিক আলামত ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে পূর্ব শত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। অপরাধীদের শনাক্ত ও দ্রুত গ্রেপ্তারে আমাদের বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে।”
একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে আরিফের পরিবারে এখন শোকের মাতম চলছে। স্বজনদের কান্নায় ওই এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।





















