আন্তর্জাতিক ডেস্ক | তেহরান
শনিবার ইরান ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহতের পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে। এই হত্যাকাণ্ডকে ‘অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই’ হিসেবে ঘোষণা করে তেহরান ইতোমধ্যে বড় ধরনের পাল্টা হামলার প্রস্তুতি শুরু করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি এবং ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ইরান তার বিশাল অস্ত্রভাণ্ডার ব্যবহারের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এক বিশেষ বিশ্লেষণে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও যুদ্ধের সম্ভাব্য কৌশল তুলে ধরেছে।
১. মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম ব্যালিস্টিক মিসাইল ভাণ্ডার
ইরানের কাছে বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ রয়েছে। যা মূলত তিনটি ক্যাটাগরিতে বিভক্ত:
* দীর্ঘপাল্লার মিসাইল: ২,০০০ থেকে ২,৫০০ কিলোমিটার পাল্লার এই মিসাইলগুলো ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের যেকোনো মার্কিন ঘাঁটিতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম।
* স্বল্প ও মধ্যপাল্লার মিসাইল: শাহাব-৩, সাজ্জিল, এমাদ এবং খায়বার শেকানের মতো শক্তিশালী মিসাইলগুলো পুরো অঞ্চলকে ইরানের আওতার মধ্যে রেখেছে। এছাড়া ফাতাহ ও জোলফাগারের মতো দ্রুত উৎক্ষেপণযোগ্য মিসাইলগুলো খুব কম সময়ে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারে।
২. রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম ক্রুজ মিসাইল ও ড্রোনের ‘ঝাঁক’
ইরানের হাতে রয়েছে উন্নত প্রযুক্তির ক্রুজ মিসাইল (যেমন: সুমার), যা মাটির খুব কাছ দিয়ে উড়ে গিয়ে রাডার ফাঁকি দিতে পারে। এছাড়া যুদ্ধের নতুন কৌশল হিসেবে ইরান ‘ড্রোন সোয়ার্ম’ বা ড্রোনের ঝাঁক ব্যবহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই সস্তা কিন্তু কার্যকর ড্রোনগুলো একসঙ্গে কয়েকশ সংখ্যায় হামলা চালিয়ে শত্রুপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে অকেজো করে দিতে সক্ষম।
. ভূগর্ভস্থ ‘মিসাইল সিটি’ বা গোপন ঘাঁটি
ইরান গত কয়েক দশকে মাটির গভীরে অসংখ্য টানেল ও সুরক্ষিত সামরিক শহর গড়ে তুলেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, শত্রুদেশের প্রথম দফার কোনো হামলায় ইরানের এই সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা অসম্ভব। এই ভূগর্ভস্থ ঘাঁটিগুলো ইরানকে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেবে।
. হরমুজ প্রণালি ও অর্থনৈতিক চাপ
পারস্য উপসাগরের প্রবেশপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ ইরানের বড় একটি কৌশলগত অস্ত্র। নৌ-মাইন, অ্যান্টি-শিপ মিসাইল এবং ড্রোনের মাধ্যমে ইরান এই রুটে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে। ইতোমধ্যে বিশ্বখ্যাত শিপিং কোম্পানি ‘মার্স্ক’ এই পথে জাহাজ চলাচল স্থগিত করেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই প্রতিশোধ নেওয়াকে দেশের ‘বৈধ অধিকার’ ও ‘অপরিহার্য দায়িত্ব’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। হিজবুল্লাহ এবং হুথিদের মতো মিত্র গোষ্ঠীগুলোও তেহরানের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করায় এই সংঘাত একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।





















