০৪:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

ইভ্যালির পর এবার ‘চালডাল’ ঘিরে বিতর্ক: যশোরে ৬০০ কর্মীর বেতন বকেয়া, চলছে কর্মবিরতি

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:৫৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬
  • ৫১৬

দেশের ই-কমার্স খাতে ইভ্যালি বা অরেঞ্জ বিডির মতো প্রতিষ্ঠানের নেতিবাচক প্রভাবের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সংকটের মুখে পড়েছে জনপ্রিয় অনলাইন গ্রোসারি শপ ‘চালডাল ডটকম’। যশোরের শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির কল সেন্টারের প্রায় ৬০০ কর্মীর বেতন গত চার মাস ধরে বকেয়া থাকার অভিযোগ উঠেছে। বকেয়া পাওনার দাবিতে অফিস চত্বরে কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন ভুক্তভোগী কর্মীরা।

যশোর আইটি পার্কের ১২ ও ১৪ তলায় চালডালের বিশাল কল সেন্টারটি পরিচালিত হয়। সেখানে কর্মরত একাধিক কর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, গত চার মাস ধরে তারা নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন না। কেউ কেউ নামমাত্র আংশিক বেতন পেলেও অধিকাংশ কর্মীর পাওনা পুরোপুরি বকেয়া রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী কর্মী বলেন:
> “আমরা দিনরাত পরিশ্রম করেও বেতন পাচ্ছি না। বাসা ভাড়া দিতে পারছি না, মুদি দোকানের দেনা জমে গেছে। অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটছে আমাদের। অথচ পাওনা বেতন চাইলে উল্টো চাকরিচ্যুত করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।”
>
কর্তৃপক্ষের লুকোচুরি ও গণমাধ্যমের মুখোমুখি হতে অনীহা
রোববার সরেজমিনে আইটি পার্কের ১২ তলায় চালডালের অফিসে গিয়ে দেখা যায়, বিক্ষুব্ধ কর্মীরা কাজ বন্ধ করে অবস্থান করছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতির বিষয়ে বক্তব্য নিতে ১৪ তলায় কর্তৃপক্ষের কাছে গেলে বাধার সম্মুখীন হতে হয়। অফিসের নিরাপত্তাকর্মীরা জানান, “ভেতরে কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নেই।”
তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অফিসের ভেতরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চলাচল করতে দেখা গেলেও তারা গণমাধ্যমের সামনে আসতে বা কর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। কর্মকর্তাদের এই কৌশলী এড়িয়ে চলা সাধারণ শ্রমিকদের মাঝে আরও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

বৈশ্বিক ট্রিলিয়ন ডলারের ই-কমার্স বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান যখন সংহত হওয়ার কথা, তখন চালডালের মতো প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানের এই “আর্থিক নৈরাজ্য” নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। গ্রাহকদের কাছে সেবার মান নিয়ে বিশ্বস্ততার দাবি করা এই প্রতিষ্ঠানটি নিজের কর্মীদের প্রতি কতটা দায়িত্বশীল, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।
ভুক্তভোগী ৬০০ কর্মী তাদের মানবেতর জীবন থেকে মুক্তি পেতে এবং দ্রুত বকেয়া পাওনা পরিশোধের জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও আইসিটি মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সর্বাধিক পঠিত

রাজধানীজুড়ে নিজের ব্যানার-বিলবোর্ড সরানোর নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ইভ্যালির পর এবার ‘চালডাল’ ঘিরে বিতর্ক: যশোরে ৬০০ কর্মীর বেতন বকেয়া, চলছে কর্মবিরতি

আপডেট: ১১:৫৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

দেশের ই-কমার্স খাতে ইভ্যালি বা অরেঞ্জ বিডির মতো প্রতিষ্ঠানের নেতিবাচক প্রভাবের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সংকটের মুখে পড়েছে জনপ্রিয় অনলাইন গ্রোসারি শপ ‘চালডাল ডটকম’। যশোরের শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির কল সেন্টারের প্রায় ৬০০ কর্মীর বেতন গত চার মাস ধরে বকেয়া থাকার অভিযোগ উঠেছে। বকেয়া পাওনার দাবিতে অফিস চত্বরে কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন ভুক্তভোগী কর্মীরা।

যশোর আইটি পার্কের ১২ ও ১৪ তলায় চালডালের বিশাল কল সেন্টারটি পরিচালিত হয়। সেখানে কর্মরত একাধিক কর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, গত চার মাস ধরে তারা নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন না। কেউ কেউ নামমাত্র আংশিক বেতন পেলেও অধিকাংশ কর্মীর পাওনা পুরোপুরি বকেয়া রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী কর্মী বলেন:
> “আমরা দিনরাত পরিশ্রম করেও বেতন পাচ্ছি না। বাসা ভাড়া দিতে পারছি না, মুদি দোকানের দেনা জমে গেছে। অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটছে আমাদের। অথচ পাওনা বেতন চাইলে উল্টো চাকরিচ্যুত করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।”
>
কর্তৃপক্ষের লুকোচুরি ও গণমাধ্যমের মুখোমুখি হতে অনীহা
রোববার সরেজমিনে আইটি পার্কের ১২ তলায় চালডালের অফিসে গিয়ে দেখা যায়, বিক্ষুব্ধ কর্মীরা কাজ বন্ধ করে অবস্থান করছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতির বিষয়ে বক্তব্য নিতে ১৪ তলায় কর্তৃপক্ষের কাছে গেলে বাধার সম্মুখীন হতে হয়। অফিসের নিরাপত্তাকর্মীরা জানান, “ভেতরে কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নেই।”
তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অফিসের ভেতরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চলাচল করতে দেখা গেলেও তারা গণমাধ্যমের সামনে আসতে বা কর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। কর্মকর্তাদের এই কৌশলী এড়িয়ে চলা সাধারণ শ্রমিকদের মাঝে আরও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

বৈশ্বিক ট্রিলিয়ন ডলারের ই-কমার্স বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান যখন সংহত হওয়ার কথা, তখন চালডালের মতো প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানের এই “আর্থিক নৈরাজ্য” নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। গ্রাহকদের কাছে সেবার মান নিয়ে বিশ্বস্ততার দাবি করা এই প্রতিষ্ঠানটি নিজের কর্মীদের প্রতি কতটা দায়িত্বশীল, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।
ভুক্তভোগী ৬০০ কর্মী তাদের মানবেতর জীবন থেকে মুক্তি পেতে এবং দ্রুত বকেয়া পাওনা পরিশোধের জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও আইসিটি মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।