যশোর শহরের সার্কিট হাউস পাড়া এলাকায় সুরাইয়া (২৫) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। ঘরের সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পরিবারের দাবি—এর নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে। বিশেষ করে ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা খালাতো ভাই লিটনের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলেছেন স্বজনরা।
নিহত সুরাইয়ার বাবা-মা উভয়ই প্রবাসে থাকেন। তাদের সার্কিট হাউস পাড়ার বাড়িটি দেখাশোনা করতেন খালাতো ভাই লিটন। গতকাল সকালে সুরাইয়া অভয়নগরে স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন।
লিটনের ভাষ্যমতে, সন্ধ্যায় তিনি ইফতারি কিনে আনেন এবং ইফতার শেষে নামাজ পড়েন। এরপর সুরাইয়া তার শিশু সন্তানকে লিটনের কোলে দিয়ে নিজের ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। দীর্ঘ সময় পার হলেও কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে লিটন সুরাইয়ার স্বামী বাপ্পীকে খবর দেন। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ঘরের দরজা ভেঙে সুরাইয়ার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের স্বামী বাপ্পী এই মৃত্যুকে স্বাভাবিক বলে মানতে নারাজ। তিনি জানান, সুরাইয়ার সাথে তার সম্পর্ক অত্যন্ত স্বাভাবিক ছিল এবং আত্মহত্যার কোনো কারণ ছিল না। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।
অন্যদিকে, সুরাইয়ার নানিবাড়ির স্বজনরা লিটনের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি:
* লিটনকে ওই বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য বারবার বলা হলেও তিনি সরছিলেন না।
* বিভিন্ন সময় তিনি সুরাইয়ার সাথে দুর্ব্যবহার করতেন।
* কোলবালক সন্তানকে অন্যের হাতে দিয়ে কোনো মা এভাবে আত্মহত্যা করতে পারেন না বলে তারা বিশ্বাস করেন।
খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) কাজী বাবুল ও ইন্সপেক্টর (অপারেশন) মমিনুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
কোতোয়ালি থানা পুলিশ জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলেই এটি হত্যা না আত্মহত্যা, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।





















