১০:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিখোঁজের ৪ দিন পর অপহৃত কিশোর উদ্ধার: অপহরণকারীকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ কোতোয়ালি থানা পুলিশের বিরুদ্ধে

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৮:২৮:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫০৮

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা ও যশোর: নিখোঁজের চার দিন পর অবশেষে অপহৃত কিশোর মিনহাজকে (১৪) উদ্ধার করা হয়েছে। ‘সজিব সিন্ডিকেট’ নামক একটি চক্রের ডেরায় চার দিন আটকে রেখে অমানুষিক নির্যাতনের পর তাকে অসুস্থ ও বিধ্বস্ত অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে উদ্ধার করা হয়। তবে এই ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত বাস চালক সজিবকে আটক করার পরও ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে যশোর কোতোয়ালি থানার ওসির বিরুদ্ধে, যা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ও অপহরণের নেপথ্য
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বাড়ি থেকে হাঁস বিক্রির ২২ হাজার টাকা নিয়ে খুলনার তেরখাদা থেকে শহরের জেলরোডে নানাবাড়ি যাচ্ছিল মিনহাজ। অভিযোগ উঠেছে, ওই টাকার লোভেই তাকে অপহরণ করে বাস চালক সজিব ও তার সহযোগীরা। মিনহাজের বাবা জিয়া মোল্লা জানান, সজিব বাসের চালক ও সুপারভাইজারের সহায়তায় মিনহাজকে প্রথমে নড়াইল থেকে বাসে তোলে এবং তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়।

অপহরণকারীরা মিনহাজকে যশোর–মনিহার রুটে বিভিন্ন বাসে ঘুরিয়ে ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে বসুন্দিয়া এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ব্যাপক মারধর করা হয় এবং পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। ২৪ ফেব্রুয়ারি সকালে মুক্তিপণের টাকা নিতে গিয়ে সজিব ধরা পড়ে। ওই সময় তার কাছ থেকেই অপহৃত মিনহাজের মোবাইলের সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, সিমকার্ডসহ সজিবকে ধরে কোতোয়ালি থানায় সোপর্দ করা হলেও রহস্যজনক কারণে পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়। এরপর অন্য একটি নম্বর থেকে পুনরায় মুক্তিপণ দাবি করা হয়। মুক্তিপণ না পেয়ে অপহরণকারীরা মিনহাজকে মারধর ও চেতনানাশক খাইয়ে একটি খুলনাগামী বাসে তুলে দেয়। শুক্রবার বিকেলে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে তাকে উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে তেরখাদার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে গেছেন।
পরিবারের আর্তনাদ ও আইনি পদক্ষেপ
মিনহাজের বাবা জিয়া মোল্লা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
“প্রধান আসামিকে সিমসহ পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার পরও কেন তাকে ছেড়ে দেওয়া হলো, তা আমাদের মাথায় আসছে না। আমার ছেলেকে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছে। আমি এই অপহরণ চক্রের মূল হোতা সজিবসহ সংশ্লিষ্ট সবার বিচার চাই এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

সর্বাধিক পঠিত

অভয়নগরে রোমান জুট মিলে অগ্নিকাণ্ড:

নিখোঁজের ৪ দিন পর অপহৃত কিশোর উদ্ধার: অপহরণকারীকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ কোতোয়ালি থানা পুলিশের বিরুদ্ধে

আপডেট: ০৮:২৮:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা ও যশোর: নিখোঁজের চার দিন পর অবশেষে অপহৃত কিশোর মিনহাজকে (১৪) উদ্ধার করা হয়েছে। ‘সজিব সিন্ডিকেট’ নামক একটি চক্রের ডেরায় চার দিন আটকে রেখে অমানুষিক নির্যাতনের পর তাকে অসুস্থ ও বিধ্বস্ত অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে উদ্ধার করা হয়। তবে এই ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত বাস চালক সজিবকে আটক করার পরও ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে যশোর কোতোয়ালি থানার ওসির বিরুদ্ধে, যা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ও অপহরণের নেপথ্য
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বাড়ি থেকে হাঁস বিক্রির ২২ হাজার টাকা নিয়ে খুলনার তেরখাদা থেকে শহরের জেলরোডে নানাবাড়ি যাচ্ছিল মিনহাজ। অভিযোগ উঠেছে, ওই টাকার লোভেই তাকে অপহরণ করে বাস চালক সজিব ও তার সহযোগীরা। মিনহাজের বাবা জিয়া মোল্লা জানান, সজিব বাসের চালক ও সুপারভাইজারের সহায়তায় মিনহাজকে প্রথমে নড়াইল থেকে বাসে তোলে এবং তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়।

অপহরণকারীরা মিনহাজকে যশোর–মনিহার রুটে বিভিন্ন বাসে ঘুরিয়ে ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে বসুন্দিয়া এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ব্যাপক মারধর করা হয় এবং পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। ২৪ ফেব্রুয়ারি সকালে মুক্তিপণের টাকা নিতে গিয়ে সজিব ধরা পড়ে। ওই সময় তার কাছ থেকেই অপহৃত মিনহাজের মোবাইলের সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, সিমকার্ডসহ সজিবকে ধরে কোতোয়ালি থানায় সোপর্দ করা হলেও রহস্যজনক কারণে পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়। এরপর অন্য একটি নম্বর থেকে পুনরায় মুক্তিপণ দাবি করা হয়। মুক্তিপণ না পেয়ে অপহরণকারীরা মিনহাজকে মারধর ও চেতনানাশক খাইয়ে একটি খুলনাগামী বাসে তুলে দেয়। শুক্রবার বিকেলে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে তাকে উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে তেরখাদার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে গেছেন।
পরিবারের আর্তনাদ ও আইনি পদক্ষেপ
মিনহাজের বাবা জিয়া মোল্লা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
“প্রধান আসামিকে সিমসহ পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার পরও কেন তাকে ছেড়ে দেওয়া হলো, তা আমাদের মাথায় আসছে না। আমার ছেলেকে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছে। আমি এই অপহরণ চক্রের মূল হোতা সজিবসহ সংশ্লিষ্ট সবার বিচার চাই এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।