০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঝিনাইদহে ধানের শীষের প্রার্থী রাশেদ খানের নির্বাচনী সভায় দু’পক্ষের সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ১০

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৪:৫১:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫০৫

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সমম্বয় সভায় বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দায়িত্বরত দুই পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে কালীগঞ্জ থানার সামনে ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ ও সদরের আংশিক) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রাশেদ খানের নির্বাচনী কার্যালয়ে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে প্রার্থী রাশেদ খান তার নির্বাচনী কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের সাথে সমম্বয় ও পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে একটি সভার আহ্বান করেন। সভায় ঝিনাইদহ-৪ আসনের অন্তর্গত মহারাজপুর ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
সভার এক পর্যায়ে মহারাজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাজাহান আলী বর্তমান চেয়ারম্যান খুরশিদ আলমের বিরুদ্ধে ধানের শীষের বিপক্ষে কাজ করার অভিযোগ তোলেন। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘাত চলাকালীন একটি পক্ষ আত্মরক্ষার্থে পাশের কালীগঞ্জ থানা চত্বরে ঢুকে পড়লে প্রতিপক্ষ সেখানেও হামলা চালায়।

এই সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) জাহিদ, কনস্টেবল পিকুল ও কনস্টেবল সেলিম আহত হন। তাদের মধ্যে দুইজনকে দ্রুত উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া দুই পক্ষের অন্তত ৭ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

ঘটনার বিষয়ে ঝিনাইদহ-৪ আসনের প্রার্থী ও গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেন:
“আমি কালীগঞ্জে এসেছি শুনে অনেক নেতাকর্মী সৌজন্য সাক্ষাৎ ও সভার জন্য কার্যালয়ে জড়ো হয়েছিলেন। সেখানে অভ্যন্তরীণ কারণে নেতাকর্মীদের দুটি পক্ষের মধ্যে সামান্য হাতাহাতি হয়েছে। আমি উভয় পক্ষের সাথে কথা বলে বিষয়টি মীমাংসা করেছি। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।”

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন জানান, থানার একদম সামনেই ধানের শীষের নির্বাচনী কার্যালয়। সেখানে নেতাকর্মীদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে এই হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এক পক্ষ থানার ভেতরে ঢুকে পড়লে অপর পক্ষ সেখানেও চড়াও হয়, যার ফলে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা আহত হন। বর্তমানে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বিশ্লেষণ: নির্বাচনী উত্তাপের মধ্যে একই দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার এই ঘটনা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।

সর্বাধিক পঠিত

ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল: মাইক্রোবাসসহ ৭ নারী নেত্রী আটক

ঝিনাইদহে ধানের শীষের প্রার্থী রাশেদ খানের নির্বাচনী সভায় দু’পক্ষের সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ১০

আপডেট: ০৪:৫১:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সমম্বয় সভায় বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দায়িত্বরত দুই পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে কালীগঞ্জ থানার সামনে ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ ও সদরের আংশিক) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রাশেদ খানের নির্বাচনী কার্যালয়ে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে প্রার্থী রাশেদ খান তার নির্বাচনী কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের সাথে সমম্বয় ও পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে একটি সভার আহ্বান করেন। সভায় ঝিনাইদহ-৪ আসনের অন্তর্গত মহারাজপুর ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
সভার এক পর্যায়ে মহারাজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাজাহান আলী বর্তমান চেয়ারম্যান খুরশিদ আলমের বিরুদ্ধে ধানের শীষের বিপক্ষে কাজ করার অভিযোগ তোলেন। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘাত চলাকালীন একটি পক্ষ আত্মরক্ষার্থে পাশের কালীগঞ্জ থানা চত্বরে ঢুকে পড়লে প্রতিপক্ষ সেখানেও হামলা চালায়।

এই সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) জাহিদ, কনস্টেবল পিকুল ও কনস্টেবল সেলিম আহত হন। তাদের মধ্যে দুইজনকে দ্রুত উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া দুই পক্ষের অন্তত ৭ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

ঘটনার বিষয়ে ঝিনাইদহ-৪ আসনের প্রার্থী ও গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেন:
“আমি কালীগঞ্জে এসেছি শুনে অনেক নেতাকর্মী সৌজন্য সাক্ষাৎ ও সভার জন্য কার্যালয়ে জড়ো হয়েছিলেন। সেখানে অভ্যন্তরীণ কারণে নেতাকর্মীদের দুটি পক্ষের মধ্যে সামান্য হাতাহাতি হয়েছে। আমি উভয় পক্ষের সাথে কথা বলে বিষয়টি মীমাংসা করেছি। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।”

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন জানান, থানার একদম সামনেই ধানের শীষের নির্বাচনী কার্যালয়। সেখানে নেতাকর্মীদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে এই হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এক পক্ষ থানার ভেতরে ঢুকে পড়লে অপর পক্ষ সেখানেও চড়াও হয়, যার ফলে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা আহত হন। বর্তমানে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বিশ্লেষণ: নির্বাচনী উত্তাপের মধ্যে একই দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার এই ঘটনা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।