দীর্ঘদিনের সীমান্ত উত্তেজনা ছাপিয়ে অবশেষে সরাসরি সশস্ত্র যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে প্রতিবেশী দুই দেশ পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোররাত থেকে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে ইসলামাবাদের এই ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ ঘোষণার পর দক্ষিণ এশিয়ায় চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে।
আলজাজিরার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার ভোরে পাকিস্তানের যুদ্ধবিমানগুলো আফগানিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশ করে হামলা চালায়। এর পরপরই আফগানিস্তানের তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক বিবৃতিতে জানান, ডুরান্ড লাইন (সীমান্ত রেখা) বরাবর পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে ‘বৃহৎ আকারের আক্রমণাত্মক অভিযান’ শুরু করেছে আফগানিস্তান।
তালেবানের দাবি, চলতি সপ্তাহে পাকিস্তানের ধারাবাহিক উস্কানিমূলক বিমান হামলার জবাব দিতেই তারা এই পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া: উদ্বেগ ও মধ্যস্থতার আহ্বান
সীমান্তে চলমান এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে:: মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখছেন। তার মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিখ জানান, উভয় পক্ষকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলতে এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
: পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, পবিত্র রমজান মাসে সংঘাত কাম্য নয়। তেহরান উভয় দেশের মধ্যে মধ্যস্থতা করতে এবং সংলাপের পথ প্রশস্ত করতে প্রস্তুত।
* রাশিয়া ও চীন: রাশিয়া অবিলম্বে সীমান্ত হামলা বন্ধ করে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়েছে। অন্যদিকে, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং জানিয়েছেন, বেইজিং নিজস্ব কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এই যুদ্ধের জন্য সরাসরি তালেবানকে দায়ী করে বলেন, “আমাদের ধৈর্যের সীমা শেষ হয়ে গেছে। এটি এখন সরাসরি যুদ্ধ এবং আমরা সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছি।”
অন্যদিকে, আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, আফগান জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষা করবে। তিনি পাকিস্তানকে আগ্রাসী নীতি পরিহার করে সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণের পরামর্শ দেন।
বিশ্লেষণ: এই সংঘাতের ফলে পুরো অঞ্চলে মানবিক সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ডুরান্ড লাইন সংলগ্ন এলাকাগুলোতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এখন চরম ঝুঁকির মুখে।




















