ঝিকরগাছা এক প্রবাসীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। আহত ইমানুর (৩৫) বর্তমানে যশোর জেনারেল হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। ভুক্তভোগী পরিবার এটিকে ‘চাঁদাবাজি’ হিসেবে দাবি করলেও পুলিশ বলছে, ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে রাজনৈতিক রেষারেষি।
আহত ইমানুর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের আব্দুস সোবহানের ছেলে। দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে সম্প্রতি তিনি দেশে ফেরেন। ভুক্তভোগী ও তার স্বজনদের দাবি:
: বুধবার সন্ধ্যার পর ইমানুর স্থানীয় বাজারে যাওয়ার পথে হামলার শিকার হন।
একই গ্রামের সবুজ, সুমন, শামীমসহ আরও ৫-৬ জন তার পথরোধ করে।
: কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি আঘাত করে। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করেন।
ঘটনার কারণ নিয়ে ভুক্তভোগী পক্ষ এবং প্রশাসনের মধ্যে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে: ইমানুর ও তার পরিবার জানায়, তারা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। স্থানীয় একটি চক্র, যারা বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত বলে দাবি করা হচ্ছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে ইমানুরের কাছে বড় অংকের চাঁদা দাবি করে আসছিল। সেই ‘মনগড়া’ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় এই পরিকল্পিত হামলা।
ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দেওয়ান মোহাম্মদ শাহজালাল আলম ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানান, বিষয়টি মূলত চাঁদাবাজি নয়, বরং রাজনৈতিক। দুই দিন আগে আওয়ামী লীগের এক নেতা জামিনে মুক্তি পাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয় এবং এরই জেরে এই ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ জুয়েল জানান, ইমানুরের শরীরে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে জরুরি ভিত্তিতে রক্ত দেওয়া হচ্ছে এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ঝিকরগাছা থানা পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। তবে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের বা কাউকে আটকের খবর পাওয়া যায়নি।
?




















