যশোর শহরের প্রাণকেন্দ্র সার্কিট হাউজের সামনের ভোলা ট্যাঙ্ক পুকুরে একটি ব্যান্ডেজযুক্ত মানুষের বিচ্ছিন্ন পা ভাসতে দেখা যাওয়ায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। গত তিন দিন ধরে পাটি পুকুরে পড়ে থাকলেও প্রশাসনের গড়িমসিতে তা অপসারণ না করায় তীব্র দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে সার্কিট হাউজ মোড় এলাকায় রহস্যময় এক দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ‘রসনা সুইটস’-এর মালিক জলিল হোসেন জানান, দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে তারা পুকুরে ব্যান্ডেজ মোড়ানো অবস্থায় একটি পা ভাসতে দেখেন।
প্রশাসনের ঠেলাঠেলি ও জনদুর্ভোগ
৯৯৯-এ কল: বুধবার সকালে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করে বিষয়টি জানানো হয়।
* পুলিশের অবস্থান: কোতোয়ালি থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে এলেও পাটি উদ্ধার না করেই ফিরে যায়। তাদের দাবি, পুকুরের দেখভালের দায়িত্ব পৌরসভার, তাই উদ্ধার প্রক্রিয়াও তাদেরই করতে হবে।
* পৌরসভার বক্তব্য: যশোর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী বিএম কামাল আহম্মেদ জানান, কয়েক দিন আগেও একই পুকুর থেকে একটি পা উদ্ধার করা হয়েছিল। নতুন করে পাওয়া পাটি বৃহস্পতিবার অপসারণ করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
> “পৌরসভাকে জানানোর পরও বুধবার রাত পর্যন্ত পাটি অপসারণ করা হয়নি। দুর্গন্ধ এখন অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে, আশপাশ দিয়ে চলাচল করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।”
এলাকাবাসীর ধারণা, শহরের মুজিব সড়কে অবস্থিত অসংখ্য বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিক থেকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন করা কোনো রোগীর পা নিয়ম না মেনে এখানে ফেলে দেওয়া হতে পারে। তবে এটি কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অংশ কি না, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে তারা পৌরসভার সাথে সমন্বয় করছে। তবে কেন বারবার এই পুকুরে মানুষের দেহাংশ পাওয়া যাচ্ছে, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।




















