০৯:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদের জন্মদিন আগামীকাল: জন্মভিটায় অযত্ন আর অবহেলার করুণ চিত্র

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৮:৩১:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫১৩

আগামীকাল ২৬ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম মহানায়ক বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখের জন্মদিন। কিন্তু এই বীরের জন্মভিটা নড়াইল সদর উপজেলার ‘নূর মোহাম্মদ নগরে’ (সাবেক মহিষখোলা) গিয়ে দেখা গেছে এক হতাশাজনক চিত্র। শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার বদলে সেখানে এখন বিরাজ করছে চরম অযত্ন আর অবহেলা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বীরশ্রেষ্ঠের স্মৃতিসৌধ এলাকাটি বর্তমানে অরক্ষিত। কোনো সীমানা প্রাচীর না থাকায় স্মৃতিসৌধের মূল বেদীর ওপর অবাধে বিচরণ করছে গবাদিপশু। চারপাশ অপরিচ্ছন্ন ও গোবর দিয়ে নোংরা হয়ে থাকলেও তা পরিষ্কারের কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
স্থানীয় শিক্ষক হারুনার রশিদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ শ্রদ্ধা জানাতে এখানে আসেন। কিন্তু তাদের জন্য কোনো সুপেয় পানির ব্যবস্থা নেই, নেই কোনো শৌচাগার। বসার জন্য যে দু-তিনটি বেঞ্চ ছিল, সেগুলোও এখন ভেঙে পড়ে আছে।”

বীরশ্রেষ্ঠের নামে প্রতিষ্ঠিত গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরের অবস্থাও শোচনীয়। জাদুঘরের দায়িত্বে থাকা মো. ইউনুস শেখ জানান, বিশাল এই স্থাপনা ও প্রায় ৮ হাজার বই দেখাশোনার জন্য পর্যাপ্ত জনবল নেই। একা একজনের পক্ষে গ্রন্থাগার ও স্মৃতিসৌধ—উভয় দিক সামলানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে লক্ষ লক্ষ টাকার সম্পদ ও দুষ্প্রাপ্য বইগুলো নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

নূর মোহাম্মদ নগরের বাসিন্দাদের অভিযোগ, বীরশ্রেষ্ঠের নামজড়িত স্কুল ও কলেজের উন্নয়নেও দীর্ঘদিন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তারা দ্রুত সীমানা প্রাচীর নির্মাণ ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে নড়াইল-২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চু বলেন:
> “আমি সদ্য দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছি। দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে জাদুঘরের জনবল সংকট দূর করা এবং অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজগুলো সম্পন্ন করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”
>
১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নড়াইলের মহিষখোলা (বর্তমান নূর মোহাম্মদ নগর) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এই বীর যোদ্ধা। ১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর যশোরের শার্শার কাশিপুরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সাথে সম্মুখযুদ্ধে অসীম সাহসিকতার সাথে লড়াই করে শহীদ হন তিনি। মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত করা হয়।

সর্বাধিক পঠিত

মধ্যরাতে ভূমিকম্পে কাঁপল দেশ: আতঙ্কে ঘর ছেড়ে রাস্তায় মানুষ

বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদের জন্মদিন আগামীকাল: জন্মভিটায় অযত্ন আর অবহেলার করুণ চিত্র

আপডেট: ০৮:৩১:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আগামীকাল ২৬ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম মহানায়ক বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখের জন্মদিন। কিন্তু এই বীরের জন্মভিটা নড়াইল সদর উপজেলার ‘নূর মোহাম্মদ নগরে’ (সাবেক মহিষখোলা) গিয়ে দেখা গেছে এক হতাশাজনক চিত্র। শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার বদলে সেখানে এখন বিরাজ করছে চরম অযত্ন আর অবহেলা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বীরশ্রেষ্ঠের স্মৃতিসৌধ এলাকাটি বর্তমানে অরক্ষিত। কোনো সীমানা প্রাচীর না থাকায় স্মৃতিসৌধের মূল বেদীর ওপর অবাধে বিচরণ করছে গবাদিপশু। চারপাশ অপরিচ্ছন্ন ও গোবর দিয়ে নোংরা হয়ে থাকলেও তা পরিষ্কারের কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
স্থানীয় শিক্ষক হারুনার রশিদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ শ্রদ্ধা জানাতে এখানে আসেন। কিন্তু তাদের জন্য কোনো সুপেয় পানির ব্যবস্থা নেই, নেই কোনো শৌচাগার। বসার জন্য যে দু-তিনটি বেঞ্চ ছিল, সেগুলোও এখন ভেঙে পড়ে আছে।”

বীরশ্রেষ্ঠের নামে প্রতিষ্ঠিত গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরের অবস্থাও শোচনীয়। জাদুঘরের দায়িত্বে থাকা মো. ইউনুস শেখ জানান, বিশাল এই স্থাপনা ও প্রায় ৮ হাজার বই দেখাশোনার জন্য পর্যাপ্ত জনবল নেই। একা একজনের পক্ষে গ্রন্থাগার ও স্মৃতিসৌধ—উভয় দিক সামলানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে লক্ষ লক্ষ টাকার সম্পদ ও দুষ্প্রাপ্য বইগুলো নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

নূর মোহাম্মদ নগরের বাসিন্দাদের অভিযোগ, বীরশ্রেষ্ঠের নামজড়িত স্কুল ও কলেজের উন্নয়নেও দীর্ঘদিন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তারা দ্রুত সীমানা প্রাচীর নির্মাণ ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে নড়াইল-২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চু বলেন:
> “আমি সদ্য দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছি। দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে জাদুঘরের জনবল সংকট দূর করা এবং অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজগুলো সম্পন্ন করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”
>
১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নড়াইলের মহিষখোলা (বর্তমান নূর মোহাম্মদ নগর) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এই বীর যোদ্ধা। ১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর যশোরের শার্শার কাশিপুরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সাথে সম্মুখযুদ্ধে অসীম সাহসিকতার সাথে লড়াই করে শহীদ হন তিনি। মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত করা হয়।