০৯:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিখোঁজ তরুণকে উদ্ধারে পুলিশের ‘অসহযোগিতা’, মুক্তিপণ দাবিকারীকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৭:৩৩:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫১৫

যশোরে অপহৃত এক তরুণের মুক্তিপণ দাবিকারীকে হাতেনাতে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিলেও মামলা নেয়নি কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। উল্টো অভিযুক্ত যুবককে ছেড়ে দেওয়া এবং ভুক্তভোগী পরিবারের সাথে অপেশাদার আচরণের অভিযোগ উঠেছে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদের বিরুদ্ধে। নিখোঁজ তরুণ মিনহাজের (১৮) সন্ধানে বর্তমানে দিশেহারা তার পরিবার।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি খুলনার তেরখাদা থেকে নড়াইল হয়ে যশোরে নানাবাড়ি বেড়াতে আসেন মিনহাজ। ওইদিন রাত সাড়ে সাতটার দিকে মিনহাজের নিজের মোবাইল নম্বর থেকেই পরিবারের কাছে ফোন আসে। ফোনে মিনহাজের কান্নার শব্দের পাশাপাশি এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায় যে, দ্রুত টাকা না দিলে তাকে মেরে ফেলা হবে। মুক্তিপণ পাঠানোর জন্য একটি বিকাশ নম্বরও দেয় অপহরণকারীরা।

পরিবার ওই বিকাশ নম্বরের সূত্র ধরে কৌশলে যশোর মনিহার এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাঘারপাড়ার নাড়িকেলবাড়িয়া এলাকার সজিব মোল্লা নামে এক যুবককে ধরে ফেলে। তল্লাশি করে সজিবের কাছে নিখোঁজ মিনহাজের ব্যবহৃত সিম কার্ডটি পাওয়া যায়। পরে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় কোতোয়ালি থানায়। পরিবারের দাবি, থানায় থাকাকালীন অন্য একটি নম্বর থেকে আবারও তাদের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

সন্দেহভাজন ব্যক্তিসহ সিম কার্ড জমা দিয়ে মামলা করতে চাইলেও ওসি ফারুক আহমেদ তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ:
* ওসি কোনো প্রকার কল ট্র্যাকিং বা অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদের উদ্যোগ নেননি।
* ঘটনাটি অন্য থানার অজুহাতে আইনি সহায়তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
* এক পর্যায়ে আটক যুবক সজিবকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।
নিখোঁজ মিনহাজের মা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন,
> “ছেলের সন্ধানে ওসির কাছে দুই হাত তুলে আকুতি জানালেও তিনি সহযোগিতা করেননি। উল্টো আমাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করেছেন।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোতোয়ালি থানার ওসি ফারুক আহমেদ বিতর্কিত মন্তব্য করে বলেন, “এটি অন্য এলাকার বিষয়। প্রয়োজনে আসামিকে ধরে ওই থানায় নিয়ে যেতে বলেছি। আমরা কেন অন্যের ঝামেলা মাথায় নেব?”
বিষয়টি নিয়ে যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জানান, ওসির বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ সম্পর্কে তিনি অবগত নন। তবে তিনি দ্রুত এর খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
থানায় অভিযোগ নিতে অস্বীকৃতি এবং অপরাধের আলামতসহ আটক আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় সচেতন মহলে তীব্র সমালোচনা ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সর্বাধিক পঠিত

মধ্যরাতে ভূমিকম্পে কাঁপল দেশ: আতঙ্কে ঘর ছেড়ে রাস্তায় মানুষ

নিখোঁজ তরুণকে উদ্ধারে পুলিশের ‘অসহযোগিতা’, মুক্তিপণ দাবিকারীকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ

আপডেট: ০৭:৩৩:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

যশোরে অপহৃত এক তরুণের মুক্তিপণ দাবিকারীকে হাতেনাতে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিলেও মামলা নেয়নি কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। উল্টো অভিযুক্ত যুবককে ছেড়ে দেওয়া এবং ভুক্তভোগী পরিবারের সাথে অপেশাদার আচরণের অভিযোগ উঠেছে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদের বিরুদ্ধে। নিখোঁজ তরুণ মিনহাজের (১৮) সন্ধানে বর্তমানে দিশেহারা তার পরিবার।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি খুলনার তেরখাদা থেকে নড়াইল হয়ে যশোরে নানাবাড়ি বেড়াতে আসেন মিনহাজ। ওইদিন রাত সাড়ে সাতটার দিকে মিনহাজের নিজের মোবাইল নম্বর থেকেই পরিবারের কাছে ফোন আসে। ফোনে মিনহাজের কান্নার শব্দের পাশাপাশি এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায় যে, দ্রুত টাকা না দিলে তাকে মেরে ফেলা হবে। মুক্তিপণ পাঠানোর জন্য একটি বিকাশ নম্বরও দেয় অপহরণকারীরা।

পরিবার ওই বিকাশ নম্বরের সূত্র ধরে কৌশলে যশোর মনিহার এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাঘারপাড়ার নাড়িকেলবাড়িয়া এলাকার সজিব মোল্লা নামে এক যুবককে ধরে ফেলে। তল্লাশি করে সজিবের কাছে নিখোঁজ মিনহাজের ব্যবহৃত সিম কার্ডটি পাওয়া যায়। পরে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় কোতোয়ালি থানায়। পরিবারের দাবি, থানায় থাকাকালীন অন্য একটি নম্বর থেকে আবারও তাদের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

সন্দেহভাজন ব্যক্তিসহ সিম কার্ড জমা দিয়ে মামলা করতে চাইলেও ওসি ফারুক আহমেদ তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ:
* ওসি কোনো প্রকার কল ট্র্যাকিং বা অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদের উদ্যোগ নেননি।
* ঘটনাটি অন্য থানার অজুহাতে আইনি সহায়তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
* এক পর্যায়ে আটক যুবক সজিবকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।
নিখোঁজ মিনহাজের মা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন,
> “ছেলের সন্ধানে ওসির কাছে দুই হাত তুলে আকুতি জানালেও তিনি সহযোগিতা করেননি। উল্টো আমাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করেছেন।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোতোয়ালি থানার ওসি ফারুক আহমেদ বিতর্কিত মন্তব্য করে বলেন, “এটি অন্য এলাকার বিষয়। প্রয়োজনে আসামিকে ধরে ওই থানায় নিয়ে যেতে বলেছি। আমরা কেন অন্যের ঝামেলা মাথায় নেব?”
বিষয়টি নিয়ে যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জানান, ওসির বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ সম্পর্কে তিনি অবগত নন। তবে তিনি দ্রুত এর খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
থানায় অভিযোগ নিতে অস্বীকৃতি এবং অপরাধের আলামতসহ আটক আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় সচেতন মহলে তীব্র সমালোচনা ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।