যশোর জেনারেল হাসপাতালে ‘বিশেষ অনুমতিতে’ কর্মরত নাজমুল সাকিব (৩০) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রেসক্রিপশন লেখা ও সরকারি হাসপাতালের রোগী বেসরকারি ক্লিনিকে ভাগিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের ১২৩ নম্বর কক্ষে তিনি দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসকের সহকারীর পরিচয় দিয়ে রোগীদের সাথে প্রতারণা করে আসছেন বলে জানা গেছে।
অভিযুক্ত নাজমুল সাকিব যশোর সদর উপজেলার কোতোয়ালি থানার কাজিপুর গ্রামের মামুন হোসেনের ছেলে। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডাক্তার বজলুর রহমান টুলুর বিশেষ মৌখিক অনুমতি নিয়ে তিনি বহির্ভাগে কাজ শুরু করলেও সময়ের সাথে সাথে জড়িয়ে পড়েন নানা অনিয়মে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, নাজমুল সাকিবের বিরুদ্ধে ওঠা প্রধান অভিযোগগুলো হলো:
প্রেসক্রিপশন: অনেক সময় কর্তব্যরত চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে নিজেই রোগীদের ব্যবস্থাপত্র (প্রেসক্রিপশন) লিখে দেন।: হাসপাতালে আসা সাধারণ রোগীদের কৌশলে বেসরকারি ক্লিনিকে পাঠিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার (টেস্ট) নামে মোটা অঙ্কের কমিশন গ্রহণ।
: বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের ওষুধ রোগীদের কিনতে বাধ্য করা।
হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি হাসপাতালে কোনো অনুমোদিত পদ ছাড়া একজন সাধারণ ব্যক্তির চিকিৎসকের কক্ষ ব্যবহার ও প্রেসক্রিপশন লেখা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
এ বিষয়ে জানতে চাইলে যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হোসাইন সাফায়েত বলেন:
“বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে এবং আমরা কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
হাসপাতালের সাধারণ রোগী ও সচেতন মহল এই চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে হাসপাতালের চিকিৎসা সেবাকে দালালমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
আপনার জন্য পরবর্তী পদক্ষেপ:





















