২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান দমনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার মামলায় এক চাঞ্চল্যকর মোড় এসেছে। এই মামলার বিচার প্রক্রিয়ায় অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন নিজের দোষ স্বীকার করে সত্য উদ্ঘাটনে ‘রাজসাক্ষী’ (Approver) হয়েছেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ চলমান এই মামলায় এ পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম এবং দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমানসহ মোট ৫৪ জন সাক্ষী তাদের জবানবন্দি প্রদান করেছেন।
মামলার প্রেক্ষাপট ও অভিযোগ গঠন
গত ১০ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ গঠন করে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর আদেশ দেন।
আদালতে দাখিলকৃত অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকার, দলীয় ক্যাডার এবং প্রশাসনের একটি অংশ পরিকল্পিতভাবে ছাত্র-জনতার ওপর গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেছে। এই অপরাধের বিচার বর্তমানে দুটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একযোগে চলছে।
মামলার বিচার চলাকালীন এক পর্যায়ে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন আদালতের কাছে নিজের কৃতকর্মের দায় স্বীকার করেন এবং ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে সহায়তার আবেদন জানান। আদালত তার আবেদন গ্রহণ করলে তিনি এই মামলার অন্যতম প্রধান ‘রাজসাক্ষী’ হিসেবে আবির্ভূত হন, যা বিচার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মামলায় সাক্ষ্য দিতে গিয়ে জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী নাহিদ ইসলাম এবং বিশিষ্ট সাংবাদিক ড. মাহমুদুর রহমান সেই সময়ের ভয়াবহ নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরেন। তারা আদালতকে জানান:
কীভাবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দলীয় ক্যাডাররা নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে। প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় থেকে কীভাবে গণহত্যার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
সাধারণ মানুষের ওপর চালানো নিষ্ঠুরতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একের পর এক অভিযোগ জমা পড়ার প্রেক্ষিতে বর্তমানে বিচার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল সূত্র জানায়, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রতিটি সাক্ষ্য ও প্রমাণ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে যাচাই করা হচ্ছে। খুব শীঘ্রই এই মামলার আরও গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসতে পারে বলে আইনজীবীরা ধারণা করছেন।




















