০৬:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সৌদি দুর্ঘটনায় স্বজনহারা ফাইজা দেশে ফিরল

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৫:২১:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫০৯

সৌদি আরবে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-মা ও দুই বোনকে হারিয়ে দেশে ফিরেছে ১০ বছর বয়সী শিশু ফাইজা আক্তার। গতকাল (সোমবার) ভোরে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের নলচরা গ্রামে নিজ বাড়িতে পৌঁছায় সে। তবে অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, পরিবারের চার সদস্যের চিরবিদায়ের খবরটি এখনো এই অবোধ শিশুটির অজানা।
বাবার সাথে ঈদ মেলার অপেক্ষায় ফাইজা
বাড়িতে ফিরে ফাইজা যখন গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলছিল, তখনো তার চোখেমুখে ছিল আগামীর আনন্দ। সে জানায়, নতুন জামা পরে বাবার সঙ্গে ঈদ মেলায় যাবে সে। সঙ্গে থাকবে তার দুই বোনও। এবারের ঈদে তারা অনেক আনন্দ করবে—এমন পরিকল্পনার কথা শুনিয়ে উপস্থিত সবার চোখ ভিজিয়ে দেয় ফাইজা।
ফাইজাকে সৌদি আরব থেকে নিয়ে এসেছেন তার মামা তানভীর হোসেন। তিনি জানান, ফাইজা জানে তার বাবা-মা এবং দুই বোন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং সুস্থ হয়ে তারা দ্রুতই বাড়ি ফিরবে। শিশুটির মানসিক অবস্থা বিবেচনায় এখনই তাকে এই রূঢ় সত্য জানানো হচ্ছে না।

নিহত মিজানুর রহমান (৪০) দীর্ঘদিনের সৌদি প্রবাসী ছিলেন। গত ৩ ফেব্রুয়ারি স্ত্রী ফারজানা আক্তার সুমি (৩০) ও তিন মেয়েকে নিয়ে ওমরাহ পালন করতে যান তিনি। ওমরাহ শেষে ১৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সময় রাত ৩টার দিকে জেদ্দা থেকে বাসায় ফেরার পথে তাদের বহনকারী গাড়িটি ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন:মিজানুর রহমান (৪০) – বাবাফারজানা আক্তার সুমি (৩০) – মা মেহের আফরোজ (১৩) – বড় বোন সুবহা আক্তার (দেড় বছর) – ছোট বোন মো. জিলানী বাবর (৩০) – গাড়িচালক
এই দুর্ঘটনায় মেজো মেয়ে ফাইজা আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। বর্তমানে সে শারীরিক সুস্থতা পেলেও মানসিক ট্রমা ও স্বজন হারানোর শূন্যতা তাকে তাড়া করে ফিরবে আজীবন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নিহত চারজনের মরদেহ এখনো সৌদি আরবের জেদ্দা হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো দ্রুত দেশে আনার চেষ্টা চলছে। ফাইজা টিউরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। তার এই করুণ পরিণতিতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সর্বাধিক পঠিত

বান্দরবানে সেনাবাহিনীর সফল অভিযান: এসএসজিসহ অস্ত্র ও গুলিবিদ্ধ সন্ত্রাসী আটক

সৌদি দুর্ঘটনায় স্বজনহারা ফাইজা দেশে ফিরল

আপডেট: ০৫:২১:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সৌদি আরবে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-মা ও দুই বোনকে হারিয়ে দেশে ফিরেছে ১০ বছর বয়সী শিশু ফাইজা আক্তার। গতকাল (সোমবার) ভোরে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের নলচরা গ্রামে নিজ বাড়িতে পৌঁছায় সে। তবে অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, পরিবারের চার সদস্যের চিরবিদায়ের খবরটি এখনো এই অবোধ শিশুটির অজানা।
বাবার সাথে ঈদ মেলার অপেক্ষায় ফাইজা
বাড়িতে ফিরে ফাইজা যখন গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলছিল, তখনো তার চোখেমুখে ছিল আগামীর আনন্দ। সে জানায়, নতুন জামা পরে বাবার সঙ্গে ঈদ মেলায় যাবে সে। সঙ্গে থাকবে তার দুই বোনও। এবারের ঈদে তারা অনেক আনন্দ করবে—এমন পরিকল্পনার কথা শুনিয়ে উপস্থিত সবার চোখ ভিজিয়ে দেয় ফাইজা।
ফাইজাকে সৌদি আরব থেকে নিয়ে এসেছেন তার মামা তানভীর হোসেন। তিনি জানান, ফাইজা জানে তার বাবা-মা এবং দুই বোন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং সুস্থ হয়ে তারা দ্রুতই বাড়ি ফিরবে। শিশুটির মানসিক অবস্থা বিবেচনায় এখনই তাকে এই রূঢ় সত্য জানানো হচ্ছে না।

নিহত মিজানুর রহমান (৪০) দীর্ঘদিনের সৌদি প্রবাসী ছিলেন। গত ৩ ফেব্রুয়ারি স্ত্রী ফারজানা আক্তার সুমি (৩০) ও তিন মেয়েকে নিয়ে ওমরাহ পালন করতে যান তিনি। ওমরাহ শেষে ১৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সময় রাত ৩টার দিকে জেদ্দা থেকে বাসায় ফেরার পথে তাদের বহনকারী গাড়িটি ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন:মিজানুর রহমান (৪০) – বাবাফারজানা আক্তার সুমি (৩০) – মা মেহের আফরোজ (১৩) – বড় বোন সুবহা আক্তার (দেড় বছর) – ছোট বোন মো. জিলানী বাবর (৩০) – গাড়িচালক
এই দুর্ঘটনায় মেজো মেয়ে ফাইজা আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। বর্তমানে সে শারীরিক সুস্থতা পেলেও মানসিক ট্রমা ও স্বজন হারানোর শূন্যতা তাকে তাড়া করে ফিরবে আজীবন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নিহত চারজনের মরদেহ এখনো সৌদি আরবের জেদ্দা হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো দ্রুত দেশে আনার চেষ্টা চলছে। ফাইজা টিউরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। তার এই করুণ পরিণতিতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।