নড়াইলের সদর উপজেলার সিংগোশোলপুর ইউনিয়নের বড়কুলা গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর পাঁচ খুনের মামলার অন্যতম আসামি রনি শিকদারকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৬। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নড়াইল সদর উপজেলার তারাপুর শিকদার বাড়ি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত রনি শিকদার ওই এলাকার আমিন শিকদারের ছেলে। র্যাব জানিয়েছে, বর্তমানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের ধরতেও অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
সোমবার ভোরে বড়কুলা গ্রাম এক রক্তক্ষয়ী রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূলে রয়েছে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তন এবং এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিএনপির ‘পুরানো বনাম নব্য’ দ্বন্দ্ব। ৫ই আগস্টের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগে সাবেক চেয়ারম্যান খায়ের মোল্লার অনুসারীরা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করলে খলিল মোল্লা গ্রুপের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের বিরোধ চরমে পৌঁছায়।
এরই জের ধরে সোমবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে দেশীয় অস্ত্রের ঝনঝনানি আর চিৎকারে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে পুরো গ্রাম। দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান খলিল গ্রুপের খলিল রহমান, তার ছেলে তাহাজ্জুদ হোসেন এবং ফেরদৌস হোসেনসহ তাঁর ছেলে মুন্না শেখ। অন্যদিকে, পাল্টা আঘাতে খায়ের গ্রুপের ওসিবুর মিয়াও নিহত হন।
হত্যাকাণ্ডের পরপরই অপরাধীদের ধরতে অভিযানে নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-৬ যশোরের সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তারাপুর থেকে রনি শিকদারকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। র্যাবের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, এই মামলার অন্য আসামিদের অবস্থান শনাক্তে কাজ চলছে।
ছেলেসহ পাঁচজনের মৃত্যুতে পুরো জেলায় শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বড়কুলা গ্রামে এবং আশপাশের এলাকায় বিপুল সংখ্যক অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জেলা পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা এড়াতে তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।





















