০৬:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

অমর একুশের ৭৪ বছর: বিনম্র শ্রদ্ধায় ভাষা শহীদদের স্মরণ করছে জাতি

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:২০:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫৩৯

আজ মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। বাঙালির আত্মপরিচয় রক্ষার আন্দোলনের ৭৪ বছর পূর্ণ হলো আজ। ১৯৫২ সালের এই দিনে মাতৃভাষা বাংলার রাষ্ট্রীয় মর্যাদার দাবিতে রাজপথে অকাতরে প্রাণ বিলিয়ে দিয়েছিলেন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ নাম না জানা অনেক বীর সন্তান। তাদের সেই আত্মত্যাগের স্মৃতি স্মরণে রাজধানীসহ সারাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে দিবসটি।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দিবসের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হয়। অমর একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তারা পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানান।
এরপর রাত ১২টা ৪০ মিনিট থেকে জনসাধারণের জন্য শহীদ মিনার উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জানান।

একুশের এই দিনে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে:
: ভোরে ভাষা শহীদদের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, ফাতেহা পাঠ ও কুরআনখানির আয়োজন করা হয়েছে।
ব: দেশের সকল মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত ও শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
* নিরাপত্তা ব্যবস্থা: দিবসটি নির্বিঘ্নে পালনে রাজধানীজুড়ে ডিএমপির ১৫ হাজার সদস্য মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া র্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সারাদেশে নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছে।

১৯৫২ সালের এই দিনে তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর ১৪৪ ধারা অমান্য করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা রাজপথে নেমে এলে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে রাজপথ রঞ্জিত হয় তরুণদের রক্তে। এই ঘটনার প্রতিবাদে ২২ ফেব্রুয়ারি জনতা পুনরায় রাজপথে নামে এবং ২৩ ফেব্রুয়ারি এক রাতের মধ্যে তৈরি করা হয় প্রথম স্মৃতিস্তম্ভ, যা ২৬ ফেব্রুয়ারি গুঁড়িয়ে দেয় তৎকালীন সরকার।
দীর্ঘ সংগ্রামের পর ১৯৫৬ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ১৯৮৭ সালে জাতীয় সংসদে পাস হয় ‘বাংলা ভাষা প্রচলন বিল’। পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো এবং ২০১০ সালে জাতিসংঘ ২১ ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে বিশ্বব্যাপী পালনের ঘোষণা দেয়।

সর্বাধিক পঠিত

যশোরে জমি সংক্রান্ত বিরোধে ভুক্তভোগী পরিবারের সংবাদ সম্মেলন:

অমর একুশের ৭৪ বছর: বিনম্র শ্রদ্ধায় ভাষা শহীদদের স্মরণ করছে জাতি

আপডেট: ১০:২০:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আজ মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। বাঙালির আত্মপরিচয় রক্ষার আন্দোলনের ৭৪ বছর পূর্ণ হলো আজ। ১৯৫২ সালের এই দিনে মাতৃভাষা বাংলার রাষ্ট্রীয় মর্যাদার দাবিতে রাজপথে অকাতরে প্রাণ বিলিয়ে দিয়েছিলেন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ নাম না জানা অনেক বীর সন্তান। তাদের সেই আত্মত্যাগের স্মৃতি স্মরণে রাজধানীসহ সারাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে দিবসটি।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দিবসের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হয়। অমর একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তারা পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানান।
এরপর রাত ১২টা ৪০ মিনিট থেকে জনসাধারণের জন্য শহীদ মিনার উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জানান।

একুশের এই দিনে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে:
: ভোরে ভাষা শহীদদের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, ফাতেহা পাঠ ও কুরআনখানির আয়োজন করা হয়েছে।
ব: দেশের সকল মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত ও শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
* নিরাপত্তা ব্যবস্থা: দিবসটি নির্বিঘ্নে পালনে রাজধানীজুড়ে ডিএমপির ১৫ হাজার সদস্য মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া র্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সারাদেশে নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছে।

১৯৫২ সালের এই দিনে তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর ১৪৪ ধারা অমান্য করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা রাজপথে নেমে এলে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে রাজপথ রঞ্জিত হয় তরুণদের রক্তে। এই ঘটনার প্রতিবাদে ২২ ফেব্রুয়ারি জনতা পুনরায় রাজপথে নামে এবং ২৩ ফেব্রুয়ারি এক রাতের মধ্যে তৈরি করা হয় প্রথম স্মৃতিস্তম্ভ, যা ২৬ ফেব্রুয়ারি গুঁড়িয়ে দেয় তৎকালীন সরকার।
দীর্ঘ সংগ্রামের পর ১৯৫৬ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ১৯৮৭ সালে জাতীয় সংসদে পাস হয় ‘বাংলা ভাষা প্রচলন বিল’। পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো এবং ২০১০ সালে জাতিসংঘ ২১ ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে বিশ্বব্যাপী পালনের ঘোষণা দেয়।