দেশের সমুদ্রসীমার সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও সমুদ্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে সেন্টমার্টিন সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সমুদ্রপথে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে মায়ানমারে সিমেন্ট পাচারের সময় ১১৪০ বস্তা সিমেন্টসহ দুটি ইঞ্জিন চালিত বোট এবং ১৯ জন চোরাকারবারীকে আটক করা হয়েছে।
নৌবাহিনী সূত্র জানায়, অবৈধভাবে পণ্য পাচারের গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সেন্টমার্টিন ও তৎসংলগ্ন এলাকায় টহল জোরদার করে নৌবাহিনী জাহাজ ‘প্রত্যাশা’। অভিযান চলাকালীন সেন্টমার্টিন বাতিঘর হতে ৩৮ মাইল দূরে দুটি সন্দেহভাজন বোট দেখতে পায় নৌবাহিনী। জাহাজটি বোট দুটিকে থামার সংকেত দিলে তারা পালানোর চেষ্টা করে, তবে ধাওয়া করে ‘এফবি সীমান্ত’ ও ‘এফবি সুরভি’ নামক বোট দুটিকে আটক করতে সক্ষম হয় নৌবাহিনী।
আটককৃত বোট দুটিতে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও নির্মাণ সামগ্রী উদ্ধার করা হয়:
সিমেন্ট: দুই বোট মিলিয়ে মোট ১১৪০ বস্তা (৪৫০ + ৭০০ বস্তা)।
খাদ্যসামগ্রী: ২৫০ কেজি ডাল ও চানাচুর এবং ১৬০ কেজি আদা।
পানীয়: ৩৬০ বোতল এনার্জি ড্রিংক।
জিজ্ঞাসাবাদ ও আইনি ব্যবস্থা
আটককৃত ১৯ জন চোরাকারবারীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তারা অধিক মুনাফার আশায় এসব পণ্য অবৈধভাবে মায়ানমারে পাচার করছিল। পরবর্তীতে জব্দকৃত মালামাল এবং আটক ব্যক্তিদের আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নৌবাহিনীর ফরোয়ার্ড বেইজ সেন্টমার্টিনে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নৌবাহিনীর অঙ্গীকার
বাংলাদেশ নৌবাহিনী জানিয়েছে, সমুদ্র ও উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা বজায় রাখার পাশাপাশি মাদক চোরাচালান, সন্ত্রাস ও পাচাররোধে তাদের এই কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত টহল কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।




















