০৩:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

এনআইডি সংশোধনে বড় পরিবর্তন: জন্ম তারিখ পরিবর্তনের ক্ষমতা এখন শুধু ডিজির

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৪:৩৫:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫১০

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তির পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন জারি করা ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর’ (এসওপি) অনুযায়ী, জন্ম তারিখসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংশোধনের সব আবেদন এখন থেকে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পরিবর্তে সরাসরি এনআইডি উইংয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ে নিষ্পত্তি করা হবে।
সম্প্রতি ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের সহকারী পরিচালক মুহা. সরওয়ার হোসেন সই করা এক অফিস আদেশে এই নতুন নির্দেশনা কার্যকর করা হয়েছে।

ইসিবলছে, গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর নতুন এসওপি প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশিত হয়েছে। আগে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা (আঞ্চলিক ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা) জন্ম তারিখ সংশোধনের আবেদনগুলো গুরুত্বভেদে ‘ক’, ‘খ’ বা ‘গ’ ক্যাটাগরিতে ভাগ করে নিষ্পত্তি করতে পারতেন। কিন্তু নতুন নিয়ম অনুযায়ী, জন্ম তারিখ বা জন্ম তারিখসহ অন্য যেকোনো তথ্য সংশোধনের আবেদন এখন থেকে সরাসরি ‘ঘ’ ক্যাটাগরি হিসেবে গণ্য হবে, যা নিষ্পত্তির এখতিয়ার কেবল এনআইডি উইংয়ের মহাপরিচালকের।
মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য ৩ নির্দেশনা
জমে থাকা আবেদনগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ইসি তিনটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে:
১. তালিকা প্রণয়ন: জন্ম তারিখ সংক্রান্ত যেসব আবেদন আগে ‘ক-১’ থেকে ‘গ’ ক্যাটাগরিতে ছিল, সেগুলোর তালিকা তৈরি করে আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠাতে হবে।
২. ক্যাটাগরি পরিবর্তন: প্রাপ্ত তালিকা অনুযায়ী, অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারা আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এসব আবেদনের ক্যাটাগরি পরিবর্তন করে ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করবেন।
৩. দ্রুত নিষ্পত্তি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে সংশোধন কার্যক্রম সীমিত থাকায়, বর্তমানে অনিষ্পন্ন থাকা আবেদনগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।?
নির্বাচন কমিশন জানায়, কেন্দ্রীয়ভাবে আবেদনগুলোর ক্যাটাগরি নির্ধারণ এবং ডিজি পর্যায়ে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির ফলে এনআইডি সংশোধন প্রক্রিয়ায় অধিকতর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে। তবে সব ফাইল প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হলে কাজের চাপ ও সময়ক্ষেপণ বাড়তে পারে কি না—তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে কিছুটা সংশয় রয়েছে।
বর্তমানে আঞ্চলিক, জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের এই নতুন নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে জন্ম তারিখ সংশোধনের জন্য মাঠ পর্যায়ের অনুমোদনের আর কোনো সুযোগ থাকছে না।

সর্বাধিক পঠিত

অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস: ভাষা শহীদদের প্রতি ‘জনতার কথা-২৪’-এর বিনম্র শ্রদ্ধা”

এনআইডি সংশোধনে বড় পরিবর্তন: জন্ম তারিখ পরিবর্তনের ক্ষমতা এখন শুধু ডিজির

আপডেট: ০৪:৩৫:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তির পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন জারি করা ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর’ (এসওপি) অনুযায়ী, জন্ম তারিখসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংশোধনের সব আবেদন এখন থেকে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পরিবর্তে সরাসরি এনআইডি উইংয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ে নিষ্পত্তি করা হবে।
সম্প্রতি ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের সহকারী পরিচালক মুহা. সরওয়ার হোসেন সই করা এক অফিস আদেশে এই নতুন নির্দেশনা কার্যকর করা হয়েছে।

ইসিবলছে, গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর নতুন এসওপি প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশিত হয়েছে। আগে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা (আঞ্চলিক ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা) জন্ম তারিখ সংশোধনের আবেদনগুলো গুরুত্বভেদে ‘ক’, ‘খ’ বা ‘গ’ ক্যাটাগরিতে ভাগ করে নিষ্পত্তি করতে পারতেন। কিন্তু নতুন নিয়ম অনুযায়ী, জন্ম তারিখ বা জন্ম তারিখসহ অন্য যেকোনো তথ্য সংশোধনের আবেদন এখন থেকে সরাসরি ‘ঘ’ ক্যাটাগরি হিসেবে গণ্য হবে, যা নিষ্পত্তির এখতিয়ার কেবল এনআইডি উইংয়ের মহাপরিচালকের।
মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য ৩ নির্দেশনা
জমে থাকা আবেদনগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ইসি তিনটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে:
১. তালিকা প্রণয়ন: জন্ম তারিখ সংক্রান্ত যেসব আবেদন আগে ‘ক-১’ থেকে ‘গ’ ক্যাটাগরিতে ছিল, সেগুলোর তালিকা তৈরি করে আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠাতে হবে।
২. ক্যাটাগরি পরিবর্তন: প্রাপ্ত তালিকা অনুযায়ী, অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারা আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এসব আবেদনের ক্যাটাগরি পরিবর্তন করে ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করবেন।
৩. দ্রুত নিষ্পত্তি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে সংশোধন কার্যক্রম সীমিত থাকায়, বর্তমানে অনিষ্পন্ন থাকা আবেদনগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।?
নির্বাচন কমিশন জানায়, কেন্দ্রীয়ভাবে আবেদনগুলোর ক্যাটাগরি নির্ধারণ এবং ডিজি পর্যায়ে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির ফলে এনআইডি সংশোধন প্রক্রিয়ায় অধিকতর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে। তবে সব ফাইল প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হলে কাজের চাপ ও সময়ক্ষেপণ বাড়তে পারে কি না—তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে কিছুটা সংশয় রয়েছে।
বর্তমানে আঞ্চলিক, জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের এই নতুন নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে জন্ম তারিখ সংশোধনের জন্য মাঠ পর্যায়ের অনুমোদনের আর কোনো সুযোগ থাকছে না।