বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বকে আরও সুদৃঢ় ও গভীরতর করার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনে শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের ১৯১তম জন্মতিথি উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।
‘শ্রীরামকৃষ্ণের বিশ্বজনীনতা’ শীর্ষক এই সভায় প্রণয় ভার্মা বলেন, শ্রীরামকৃষ্ণের আধ্যাত্মিক সাধনা দক্ষিণেশ্বরে সম্পন্ন হলেও তাঁর জীবনদর্শন কোনো নির্দিষ্ট গ্রাম, মন্দির বা দেশের সীমানায় আবদ্ধ ছিল না। তাঁর শিক্ষা ভৌগোলিক ও ধর্মীয় গণ্ডি
হাইকমিশনার তাঁর বক্তব্যে শ্রীরামকৃষ্ণের বিখ্যাত বাণী উদ্ধৃত করে বলেন:
“‘যত মত তত পথ’—ধর্মের সার্বজনীনতায় তাঁর এই বিশ্বাস তৎকালীন ধর্মীয় আলোচনাকে আলোকিত করেছিল এবং সমাজে সম্প্রীতি ছড়িয়ে দিয়েছিল।”
বর্তমান বিশ্বের বিভাজন ও মেরুকরণের কথা উল্লেখ করে প্রণয় ভার্মা বলেন, আজ যখন বিশ্ব নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন শ্রীরামকৃষ্ণের শিক্ষা আমাদের মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে মানবতার কল্যাণে কাজ করার প্রেরণা দেয়। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, সত্যিকারের ধর্ম হলো গ্রহণ, সমন্বয় ও অন্তর্ভুক্তি; ঘৃণা বা বিভেদ নয়। স্বার্থপরতা নয়, বরং অপরের সেবাই ধর্মের মূল কথা।
হাইকমিশনার বলেন, “শ্রীরামকৃষ্ণের এই পবিত্র জন্মবার্ষিকীতে আসুন আমরা তাঁর আদর্শকে ধারণ করে শান্তি ও সম্প্রীতিকে শক্তিশালী করি এবং ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রীকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাই।”
ঢাকার রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী পূর্ণাত্মানন্দজী মহারাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মো. নুরুজ্জামান এবং স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. ।
উল্লেখ্য, শ্রীরামকৃষ্ণের ১৯১তম শুভ আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে গত মঙ্গলবার থেকে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনে চার দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।





















