ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর সরকার গঠনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এরই মধ্যে আগামীর মন্ত্রিপরিষদ নিয়ে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন সবচেয়ে জোরালো গুঞ্জন—সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মো. আসাদুজ্জামান পেতে যাচ্ছেন আইন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।
বিএনপির গুলশান কার্যালয়ের একাধিক সূত্র ইঙ্গিত দিয়েছে, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাষ্ট্র মেরামতের ‘৩১ দফা’ বাস্তবায়নে আইন ও বিচার বিভাগকে ঢেলে সাজাতে চান। এই সংস্কার কার্যক্রম ও আইন খাতকে আধুনিকায়নের জন্য একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ আইনজ্ঞ হিসেবে আসাদুজ্জামানকে এই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়েছিলেন মো. আসাদুজ্জামান। বেসরকারি ফলাফলে তিনি ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩৮১ ভোট পেয়ে বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। তার এই বড় জয় মন্ত্রিসভায় তার অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আইনমন্ত্রী হওয়ার গুঞ্জন প্রসঙ্গে মো. আসাদুজ্জামান সরাসরি মন্তব্য করতে না চাইলেও তিনি দলের সিদ্ধান্তের ওপর আস্থা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন:
> “আমি এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানি না। তবে দেশনায়ক তারেক রহমান যদি আমাকে এই পদের যোগ্য মনে করে দায়িত্ব দেন, তবে আমি তা নিষ্ঠার সাথে পালন করব।”
>
মো. আসাদুজ্জামান কেবল একজন সফল রাজনীতিবিদ নন, বরং আইনি অঙ্গনেও একজন সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব:
* অ্যাটর্নি জেনারেল: তিনি বাংলাদেশের ১৭তম অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
* দলীয় পদ: বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক এবং দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হিসেবে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।
* পেশাদারিত্ব: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করে ১৯৯৫ সালে বার কাউন্সিলে তালিকাভুক্ত হন এবং ১৯৯৬ সাল থেকে সুপ্রিম কোর্টে আইন পেশায় জড়িত রয়েছেন।
বিএনপির সূত্রগুলো বলছে, সংবিধানের গণতান্ত্রিক সংস্কার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় দলটির অঙ্গীকার বাস্তবায়নে আসাদুজ্জামানের মতো একজন বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন অনুভব করছে হাইকমান্ড। খুব শিগগিরই নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে।





















