ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনে ১১-দলীয় জোটের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও অবিশ্বাস প্রকাশ্যে এসেছে। জোটের অন্যতম শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক ও জোট প্রার্থী সারোয়ার তুষার সরাসরি জামায়াতে ইসলামী প্রার্থীর বিরুদ্ধে ‘গাদ্দারি’ ও অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন।
বৃহস্পতিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে সারোয়ার তুষার ক্ষোভ উগরে দেন। তার দাবি, জামায়াত প্রার্থী জোটের সিদ্ধান্তের প্রতি অনুগত না থাকায় এবং তৃণমূল জামায়াত কর্মীরা সহযোগিতা না করায় কাঙ্ক্ষিত জয় আসেনি। তিনি লেখেন:
> “নরসিংদী-২ আসনে জামায়াত প্রার্থী জোটের বিরুদ্ধে গাদ্দারি না করলে এবং জামায়াতের তৃণমূল অবিভক্তভাবে পূর্ণ সহযোগিতা করলে আমরা অন্তত ১০ থেকে ১৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় পেতাম।”
তুষার তার পোস্টে ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা ও তার নিজের প্রতীক শাপলা কলির ভোটের হিসাব তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, পলাশ এলাকায় জোটের কার্যক্রম না থাকায় এবং জামায়াত নিষ্ক্রিয় থাকায় বিপুল সংখ্যক ভোটার ধানের শীষে ভোট দিয়েছেন। এছাড়া নির্বাচনের দিন কেন্দ্রে কেন্দ্রে বিএনপির নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতি ও আধিপত্যের মুখে জোটের নিষ্ক্রিয়তাকে পরাজয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখেন তিনি।
সারোয়ার তুষার জামায়াতের সাংগঠনিক দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। বিএনপির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিএনপি যেখানে রুমিন ফারহানার মতো হেভিওয়েট নেতাকে বহিষ্কার করে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা করেছে, সেখানে জামায়াত তাদের একজন স্থানীয় নেতাকেও (আমজাদ হোসাইন) নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। উল্লেখ্য, এই আসনে জামায়াত প্রার্থীর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি ভোটের মাঠে সক্রিয় ছিলেন।
তুষারের দাবি, লড়াইটা কেবল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ছিল না, বরং নিজের জোটসঙ্গীর বিরুদ্ধেও তাকে লড়তে হয়েছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “ব্যালটে যদি দাঁড়িপাল্লা প্রতীক না থাকতো, তবে এই আসনের ফলাফল পুরো বাংলাদেশকে বিস্মিত ও উদ্বেলিত করতো।”
সবশেষে তিনি জানান, আদর্শিক মতভেদ থাকলেও জোটসঙ্গী হিসেবে জামায়াতকে তিনি বেশি বিশ্বস্ত মনে করেছিলেন, কিন্তু তাদের কথা ও কাজের মিল না থাকায় তিনি হতাশ।





















