০৮:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের ইতিহাসে প্রথম: পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিচ্ছেন কারা বন্দিরা, যশোরে নিবন্ধিত ১২৯ জন

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৪:৩৩:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬৭২

যশোর বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যুক্ত হতে যাচ্ছে। প্রথমবারের মতো যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারসহ দেশের ৭৫টি কারাগারের বন্দিরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে অংশ নিতে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ১২৯ জন বন্দি ইতিমধ্যে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন।

যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্র জানিয়েছে, পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগের খবর জানাজানি হওয়ার পর বন্দিদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। তবে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) না থাকা এবং জামিনে মুক্তির সম্ভাবনার কারণে অনেকেই শেষ পর্যন্ত নিবন্ধন করতে পারেননি। কারাগারের জেলার আবিদ আহম্মেদ জানান, নিবন্ধিত ১২৯ জন বন্দির ভোটাধিকার নিশ্চিতে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে এবং তাদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।

কারা কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, বর্তমানে দেশের কারাগারগুলোতে মোট ৮৪ হাজার ৪০০ জন বন্দি রয়েছেন। তবে তাদের মধ্যে নিবন্ধনের হার তুলনামূলক কম। ৭৫টি কারাগারে মাত্র ৬ হাজার ২৪০ জন বন্দি নির্ধারিত অ্যাপের মাধ্যমে অনলাইনে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। নিবন্ধিতদের মধ্যে ৫ হাজার ৯২০ জন বর্তমানে কারাগারে আছেন এবং ৩২০ জন ইতিমধ্যে জামিনে মুক্ত হয়েছেন। প্রায় ৭৮ হাজার ১৬০ জন বন্দি বিভিন্ন কারণে নিবন্ধনের বাইরে থেকে গেছেন।

কারা কর্তৃপক্ষ তিনটি প্রধান কারণকে নিবন্ধনের সংখ্যা কম হওয়ার পেছনে দায়ী করেছেন:
* মুক্তির সম্ভাবনা: অনেক বন্দি ধারণা করছেন তারা দ্রুত জামিনে মুক্তি পাবেন, তাই কারাগার থেকে ভোট দেওয়ার আগ্রহ দেখাননি।
* এনআইডি জটিলতা: পুরোনো অনেক বন্দির জাতীয় পরিচয়পত্র নেই অথবা তথ্যে ভুল রয়েছে।
* রাজনৈতিক অনীহা: নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ভোটে নিবন্ধনের আগ্রহ খুব একটা দেখা যায়নি।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, কারাগারের ভেতরেই গোপন কক্ষ বা উপযুক্ত পরিবেশে ভোট গ্রহণের ব্যবস্থা করা হবে। নিবন্ধিত বন্দিরা কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে খাম, ব্যালট পেপার এবং একটি নির্দেশিকা পাবেন। যেখানে প্রার্থী ও প্রতীক সম্পর্কে তথ্য থাকবে। ভোট দেওয়ার পর সেই ব্যালট সিল করা খামে করে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হবে, যা পরে ডাক বিভাগের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কাছে পৌঁছে যাবে।

কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, “নিবন্ধনের সংখ্যা আরও বেশি হবে বলে আমাদের প্রত্যাশা ছিল, কিন্তু এনআইডি সংক্রান্ত জটিলতায় তা সম্ভব হয়নি। তবে নির্বাচন শেষে যাদের এনআইডি নেই তাদের জন্য নতুন কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।” তিনি স্পষ্ট করেন যে, ভোট দেওয়া সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক, কাউকে এতে বাধ্য করার সুযোগ নেই।

সর্বাধিক পঠিত

‘তেলের দাম ৭০০ টাকা হতো’—ছড়িয়ে পড়া ফটোকার্ড নিয়ে যা বললেন যুবদল নেতা নয়ন

দেশের ইতিহাসে প্রথম: পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিচ্ছেন কারা বন্দিরা, যশোরে নিবন্ধিত ১২৯ জন

আপডেট: ০৪:৩৩:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

যশোর বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যুক্ত হতে যাচ্ছে। প্রথমবারের মতো যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারসহ দেশের ৭৫টি কারাগারের বন্দিরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে অংশ নিতে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ১২৯ জন বন্দি ইতিমধ্যে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন।

যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্র জানিয়েছে, পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগের খবর জানাজানি হওয়ার পর বন্দিদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। তবে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) না থাকা এবং জামিনে মুক্তির সম্ভাবনার কারণে অনেকেই শেষ পর্যন্ত নিবন্ধন করতে পারেননি। কারাগারের জেলার আবিদ আহম্মেদ জানান, নিবন্ধিত ১২৯ জন বন্দির ভোটাধিকার নিশ্চিতে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে এবং তাদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।

কারা কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, বর্তমানে দেশের কারাগারগুলোতে মোট ৮৪ হাজার ৪০০ জন বন্দি রয়েছেন। তবে তাদের মধ্যে নিবন্ধনের হার তুলনামূলক কম। ৭৫টি কারাগারে মাত্র ৬ হাজার ২৪০ জন বন্দি নির্ধারিত অ্যাপের মাধ্যমে অনলাইনে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। নিবন্ধিতদের মধ্যে ৫ হাজার ৯২০ জন বর্তমানে কারাগারে আছেন এবং ৩২০ জন ইতিমধ্যে জামিনে মুক্ত হয়েছেন। প্রায় ৭৮ হাজার ১৬০ জন বন্দি বিভিন্ন কারণে নিবন্ধনের বাইরে থেকে গেছেন।

কারা কর্তৃপক্ষ তিনটি প্রধান কারণকে নিবন্ধনের সংখ্যা কম হওয়ার পেছনে দায়ী করেছেন:
* মুক্তির সম্ভাবনা: অনেক বন্দি ধারণা করছেন তারা দ্রুত জামিনে মুক্তি পাবেন, তাই কারাগার থেকে ভোট দেওয়ার আগ্রহ দেখাননি।
* এনআইডি জটিলতা: পুরোনো অনেক বন্দির জাতীয় পরিচয়পত্র নেই অথবা তথ্যে ভুল রয়েছে।
* রাজনৈতিক অনীহা: নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ভোটে নিবন্ধনের আগ্রহ খুব একটা দেখা যায়নি।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, কারাগারের ভেতরেই গোপন কক্ষ বা উপযুক্ত পরিবেশে ভোট গ্রহণের ব্যবস্থা করা হবে। নিবন্ধিত বন্দিরা কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে খাম, ব্যালট পেপার এবং একটি নির্দেশিকা পাবেন। যেখানে প্রার্থী ও প্রতীক সম্পর্কে তথ্য থাকবে। ভোট দেওয়ার পর সেই ব্যালট সিল করা খামে করে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হবে, যা পরে ডাক বিভাগের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কাছে পৌঁছে যাবে।

কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, “নিবন্ধনের সংখ্যা আরও বেশি হবে বলে আমাদের প্রত্যাশা ছিল, কিন্তু এনআইডি সংক্রান্ত জটিলতায় তা সম্ভব হয়নি। তবে নির্বাচন শেষে যাদের এনআইডি নেই তাদের জন্য নতুন কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।” তিনি স্পষ্ট করেন যে, ভোট দেওয়া সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক, কাউকে এতে বাধ্য করার সুযোগ নেই।