দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় যশোরের মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শহিদ ইকবাল হোসেনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এই কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বিএনপি।
বিএনপির কেন্দ্রীয় হাই কমান্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের আলোকে দলের সকল স্তরের নেতাকর্মীদের নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহিদ ইকবাল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নেন এবং মনোনয়নপত্র জমা দেন।
দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে অ্যাডভোকেট শহিদ ইকবালকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পদ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় এই বহিষ্কার আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে যশোরের স্থানীয় একাধিক নেতা জানান, দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তারা বলেন, যারা দলের দুঃসময়ে বিশ্বাসঘাতকতা করবে এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গ করবে, তাদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
এদিকে, যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসন থেকে বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে নবাগত রশীদ বিন ওয়াক্কাসকে মনোনয়ন প্রদান করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বহিষ্কারের বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাডভোকেট শহিদ ইকবাল হোসেন বলেন, “নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কারণে আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো চিঠি আমার হাতে পৌঁছায়নি।”
অ্যাডভোকেট শহিদ ইকবালের এই বহিষ্কারের ঘটনায় মণিরামপুর উপজেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।





















