০৫:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাভারের সেই ‘সিরিয়াল কিলার’ সম্রাটের আসল পরিচয় মিলল: ৬ খুনের লোমহর্ষক বর্ণনা

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৪:৫২:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬৬৮

সাভার সাভারের পরিত্যক্ত পৌরসভা কমিউনিটি সেন্টারে একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া আলোচিত ‘সিরিয়াল কিলার’ মশিউর রহমান সম্রাটের আসল পরিচয় প্রকাশ করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকালে ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি নিজেকে ‘কিং সম্রাট’ বা ‘মশিউর রহমান খান সম্রাট’ বলে পরিচয় দিলেও তার প্রকৃত নাম সবুজ শেখ। সে মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার হলুদিয়া ইউনিয়নের মোসামান্দা গ্রামের পান্না শেখের ছেলে। গত রবিবার জোড়া খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তারের পর তার এই ছদ্মবেশ উন্মোচিত হয়।
হত্যাকাণ্ডের ধরণ ও বিকৃত মানসিকতা
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান জানান, সবুজ শেখ ওরফে সম্রাট বিভিন্ন জায়গা থেকে ভবঘুরে নারীদের প্রলোভন দেখিয়ে পরিত্যক্ত ওই নির্জন ভবনে নিয়ে আসত। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাট জানিয়েছে:
* সে নারীদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের উদ্দেশ্যে সেখানে নিয়ে আসত।
* যদি সেই নারী অন্য কোনো পুরুষের সঙ্গে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হতো, তবে ক্ষিপ্ত হয়ে সে তাদের হত্যা করত।

সবশেষ হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে পুলিশ জানায়, তানিয়া ওরফে সোনিয়া নামে এক তরুণীকে ৩-৪ দিন আগে ওই পরিত্যক্ত ভবনে নিয়ে আসে সম্রাট। সেখানে অন্য এক ভবঘুরে যুবক ওই তরুণীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হলে সম্রাট প্রথমে ওই যুবককে দোতলায় নিয়ে খুন করে। এরপর নিচতলায় তানিয়াকে হত্যা করে তার মরদেহ কাঁধে করে দোতলার টয়লেটে নিয়ে যায়। আলামত নষ্ট করতে দুজনেই মরদেহ একসঙ্গে পুড়িয়ে দেয় সে।

সোমবার সম্রাটকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হলে সে বিচারকের কাছে ৬টি হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলামের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর সোমবার রাতেই তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, সম্রাটের দেওয়া তথ্যাদি যাচাই করতে ইতোমধ্যে তার গ্রামের বাড়িতে একটি বিশেষ টিম পাঠানো হয়েছে। পরিত্যক্ত ভবনটিকে ঘিরে আর কোনো মৃতদেহ বা আলামত আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সর্বাধিক পঠিত

‘তেলের দাম ৭০০ টাকা হতো’—ছড়িয়ে পড়া ফটোকার্ড নিয়ে যা বললেন যুবদল নেতা নয়ন

সাভারের সেই ‘সিরিয়াল কিলার’ সম্রাটের আসল পরিচয় মিলল: ৬ খুনের লোমহর্ষক বর্ণনা

আপডেট: ০৪:৫২:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

সাভার সাভারের পরিত্যক্ত পৌরসভা কমিউনিটি সেন্টারে একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া আলোচিত ‘সিরিয়াল কিলার’ মশিউর রহমান সম্রাটের আসল পরিচয় প্রকাশ করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকালে ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি নিজেকে ‘কিং সম্রাট’ বা ‘মশিউর রহমান খান সম্রাট’ বলে পরিচয় দিলেও তার প্রকৃত নাম সবুজ শেখ। সে মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার হলুদিয়া ইউনিয়নের মোসামান্দা গ্রামের পান্না শেখের ছেলে। গত রবিবার জোড়া খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তারের পর তার এই ছদ্মবেশ উন্মোচিত হয়।
হত্যাকাণ্ডের ধরণ ও বিকৃত মানসিকতা
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান জানান, সবুজ শেখ ওরফে সম্রাট বিভিন্ন জায়গা থেকে ভবঘুরে নারীদের প্রলোভন দেখিয়ে পরিত্যক্ত ওই নির্জন ভবনে নিয়ে আসত। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাট জানিয়েছে:
* সে নারীদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের উদ্দেশ্যে সেখানে নিয়ে আসত।
* যদি সেই নারী অন্য কোনো পুরুষের সঙ্গে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হতো, তবে ক্ষিপ্ত হয়ে সে তাদের হত্যা করত।

সবশেষ হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে পুলিশ জানায়, তানিয়া ওরফে সোনিয়া নামে এক তরুণীকে ৩-৪ দিন আগে ওই পরিত্যক্ত ভবনে নিয়ে আসে সম্রাট। সেখানে অন্য এক ভবঘুরে যুবক ওই তরুণীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হলে সম্রাট প্রথমে ওই যুবককে দোতলায় নিয়ে খুন করে। এরপর নিচতলায় তানিয়াকে হত্যা করে তার মরদেহ কাঁধে করে দোতলার টয়লেটে নিয়ে যায়। আলামত নষ্ট করতে দুজনেই মরদেহ একসঙ্গে পুড়িয়ে দেয় সে।

সোমবার সম্রাটকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হলে সে বিচারকের কাছে ৬টি হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলামের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর সোমবার রাতেই তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, সম্রাটের দেওয়া তথ্যাদি যাচাই করতে ইতোমধ্যে তার গ্রামের বাড়িতে একটি বিশেষ টিম পাঠানো হয়েছে। পরিত্যক্ত ভবনটিকে ঘিরে আর কোনো মৃতদেহ বা আলামত আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।