১০:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বেনাপোল বন্দরে ‘ডেথ ট্র্যাপ’: ত্রুটিপূর্ণ লাইট পোস্টে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে অসংখ্য পাখির মৃত্যু

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৩:১৯:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬৬৫

বেনাপোল প্রতিনিধি: বেনাপোল স্থলবন্দরের কার্গো ইয়ার্ড টার্মিনালে স্থাপিত হাই-মাস্ট লাইট পোস্টে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একসাথে অসংখ্য পাখির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনার পেছনে প্রকৌশলগত অবহেলা ও ত্রুটিপূর্ণ নকশাকে দায়ী করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশবাদীরা।
বেশ কিছুদিন ধরে হাই-মাস্ট লাইটের নিচে দু-একটি মৃত পাখি পড়ে থাকতে দেখা গেলেও বিষয়টি শুরুতে কারো নজরে আসেনি। তবে শনিবার সকালে ইয়ার্ড এলাকার একটি ল্যাম্পপোস্টের নিচের বিদ্যুৎ সংযোগ বক্সের তালা খুলতেই বেরিয়ে আসে শিউরে ওঠার মতো দৃশ্য। বক্সের ভেতরে অন্তত ৩০টি মৃত পাখি স্তূপ হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয়দের দাবি, বন্দরের প্রায় প্রতিটি ল্যাম্পপোস্টেরই একই দশা।?
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মৃত পাখিগুলো সম্ভবত অতিথি ‘আবাবিল’ পাখি। রাতের বেলা তীব্র আলো ও শীত থেকে বাঁচতে পাখিগুলো হাই-মাস্ট লাইট পোস্টের ফাঁপা অংশে আশ্রয় নেয়। কিন্তু লাইট পোস্টের ভেতরে বিদ্যুৎ সংযোগগুলো যথাযথভাবে ইনসুলেটেড বা সুরক্ষিত না থাকায় পাখিগুলো সেখানে বসামাত্রই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যাচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি কেবল দুর্ঘটনা নয়, বরং স্পষ্ট ইঞ্জিনিয়ারিং ত্রুটি। নিয়ম অনুযায়ী:
হাই-মাস্ট লাইটের বিদ্যুৎ লাইনে সুরক্ষিত কাভার ও উন্নত ইনসুলেশন থাকা বাধ্যতামূলক।
নকশাটি বন্যপ্রাণী ও পাখির জন্য নিরাপদ হওয়া প্রয়োজন।
কিন্তু বেনাপোল বন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় এই নিয়মগুলো তোয়াক্কা না করায় এটি পাখির জন্য ‘ডেথ ট্র্যাপ’ বা মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও স্থানীয়দের ক্ষোভ
বিষয়টি নিয়ে বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন রেজার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার বক্তব্যে উদাসীনতার সুর পাওয়া গেছে। তিনি জানান, বিষয়টি তিনি কয়েকদিন আগে শুনেছেন এবং এ ব্যাপারে আগামীকাল ঢাকাতে চিঠি পাঠাবেন।
বন্দরের এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার এই ঢিলেঢালাভাবে সাড়া দেওয়া এবং প্রকৌশলীদের চরম গাফিলতিতে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
দাবি ও প্রতিকার,

সর্বাধিক পঠিত

‘তেলের দাম ৭০০ টাকা হতো’—ছড়িয়ে পড়া ফটোকার্ড নিয়ে যা বললেন যুবদল নেতা নয়ন

বেনাপোল বন্দরে ‘ডেথ ট্র্যাপ’: ত্রুটিপূর্ণ লাইট পোস্টে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে অসংখ্য পাখির মৃত্যু

আপডেট: ০৩:১৯:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

বেনাপোল প্রতিনিধি: বেনাপোল স্থলবন্দরের কার্গো ইয়ার্ড টার্মিনালে স্থাপিত হাই-মাস্ট লাইট পোস্টে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একসাথে অসংখ্য পাখির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনার পেছনে প্রকৌশলগত অবহেলা ও ত্রুটিপূর্ণ নকশাকে দায়ী করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশবাদীরা।
বেশ কিছুদিন ধরে হাই-মাস্ট লাইটের নিচে দু-একটি মৃত পাখি পড়ে থাকতে দেখা গেলেও বিষয়টি শুরুতে কারো নজরে আসেনি। তবে শনিবার সকালে ইয়ার্ড এলাকার একটি ল্যাম্পপোস্টের নিচের বিদ্যুৎ সংযোগ বক্সের তালা খুলতেই বেরিয়ে আসে শিউরে ওঠার মতো দৃশ্য। বক্সের ভেতরে অন্তত ৩০টি মৃত পাখি স্তূপ হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয়দের দাবি, বন্দরের প্রায় প্রতিটি ল্যাম্পপোস্টেরই একই দশা।?
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মৃত পাখিগুলো সম্ভবত অতিথি ‘আবাবিল’ পাখি। রাতের বেলা তীব্র আলো ও শীত থেকে বাঁচতে পাখিগুলো হাই-মাস্ট লাইট পোস্টের ফাঁপা অংশে আশ্রয় নেয়। কিন্তু লাইট পোস্টের ভেতরে বিদ্যুৎ সংযোগগুলো যথাযথভাবে ইনসুলেটেড বা সুরক্ষিত না থাকায় পাখিগুলো সেখানে বসামাত্রই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যাচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি কেবল দুর্ঘটনা নয়, বরং স্পষ্ট ইঞ্জিনিয়ারিং ত্রুটি। নিয়ম অনুযায়ী:
হাই-মাস্ট লাইটের বিদ্যুৎ লাইনে সুরক্ষিত কাভার ও উন্নত ইনসুলেশন থাকা বাধ্যতামূলক।
নকশাটি বন্যপ্রাণী ও পাখির জন্য নিরাপদ হওয়া প্রয়োজন।
কিন্তু বেনাপোল বন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় এই নিয়মগুলো তোয়াক্কা না করায় এটি পাখির জন্য ‘ডেথ ট্র্যাপ’ বা মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও স্থানীয়দের ক্ষোভ
বিষয়টি নিয়ে বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন রেজার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার বক্তব্যে উদাসীনতার সুর পাওয়া গেছে। তিনি জানান, বিষয়টি তিনি কয়েকদিন আগে শুনেছেন এবং এ ব্যাপারে আগামীকাল ঢাকাতে চিঠি পাঠাবেন।
বন্দরের এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার এই ঢিলেঢালাভাবে সাড়া দেওয়া এবং প্রকৌশলীদের চরম গাফিলতিতে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
দাবি ও প্রতিকার,