নিশ্চয়ই। নিচে আপনার দেওয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সম্পূর্ণ নতুনভাবে সাজানো, বিস্তারিত সংবাদটি হেডলাইনসহ তুলে ধরা হলো—সংবাদপত্রে প্রকাশযোগ্য ফরম্যাটে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনীতিতে নতুন করে শুরু হয়েছে ভোটের হিসাবনিকাশ। নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বদলে যাচ্ছে পুরোনো সমীকরণ। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত এই রাজনৈতিক নাটকীয়তা আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নির্বাচনি প্রক্রিয়ার শুরুতে শতাধিক আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করছেন। এতে করে বহু আসনে বিএনপি নিজেদের অবস্থান আরও সংহত করতে পারছে।
এদিকে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আলোচিত জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট শেষ মুহূর্তে এসে বড় ধাক্কা খেয়েছে। জোটের অন্যতম শরিক ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে জোট থেকে বেরিয়ে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ফলে ইসলামপন্থি রাজনৈতিক দলগুলোর ভোট তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ভাঙন জামায়াতের জোটের সম্ভাব্য নির্বাচনি শক্তিকে উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করে দিয়েছে। জোটে আরও কিছু দল বেরিয়ে যেতে পারে বলেও আলোচনা রয়েছে।
ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান জানিয়েছেন, তাঁর দল ২৬৮টি আসনে এককভাবে নির্বাচন করবে এবং বাকি ৩২টি আসনে অন্যান্য প্রার্থীদের সমর্থন দেবে। এতে করে ইসলামপন্থিদের ভোট এক বাক্সে আসার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা কার্যত বিলীন হয়ে গেছে।
এই ঐক্যের সূচনা হয়েছিল এক বছর আগে বরিশালের চরমোনাইয়ে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে। কিন্তু দীর্ঘ টানাপোড়েন শেষে শেষ পর্যন্ত সেই ঐক্য আর বাস্তবায়ন হলো না।
জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট ইতোমধ্যে নিজেদের মধ্যে ২৫৩টি আসন ভাগাভাগির ঘোষণা দিয়েছে। ইসলামী আন্দোলনের জন্য ৪৭টি আসন রেখে অপেক্ষা করা হলেও দলটি শেষ পর্যন্ত জোটে না আসায় ওই আসনগুলো এখন শরিক দলগুলোর মধ্যে পুনর্বণ্টন করা হবে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ‘যে আসনে যে দলের প্রার্থী সবচেয়ে শক্তিশালী বলে বিবেচিত হবে, সমঝোতার ভিত্তিতে তাকেই একক প্রার্থী করা হবে।’
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি তাদের আন্দোলনের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশকে চারটি আসন ছেড়ে দিয়েছে। দলটির একাধিক নেতা অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকায় হেফাজতের ভোট কোনো একক ইসলামি দলের ঘরে যাবে—এমনটি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
বিএনপির এক নেতা দাবি করেন, ইসলামি ভাবধারার একটি বড় অংশের ভোট বিএনপির দিকেই ঝুঁকছে। বিশেষ করে কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক ভোটব্যাংকের বড় অংশ জামায়াতের বাইরে থাকতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন একসঙ্গে থাকলে অন্তত শতাধিক আসনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠত। কিন্তু বর্তমান ভাঙনের ফলে সেই সম্ভাবনা অনেকটাই কমে গেছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ ভোটের মাঠে না থাকায় ইসলামপন্থি দলগুলো বিএনপির বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারত।
ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির সৈয়দ ফয়জুল করীম বলেন,
‘আমাদের কোনো অপেক্ষা নেই। ইসলামের পক্ষে যারা থাকবে, আমরা তাদের পাশেই থাকব।’
জামায়াত এখনো ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলনকে জোটে ফেরানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত এই রাজনৈতিক নাটকীয়তা চলবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। ভোটের মাঠে শেষ পর্যন্ত কোন সমীকরণ দাঁড়ায়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন।





















