০১:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চুড়ামনকাটিতে আওয়ামী লীগের সাবেক ‘ত্রাস’ এখন বিএনপির ছদ্মবেশে চাঁদাবাজিতে লিপ্ত

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৮:৫৮:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬৬৩

যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি বাজারে এক সময়ের ত্রাস হিসেবে পরিচিত মাহাবুর আলমের বিরুদ্ধে নতুন করে চাঁদাবাজি ও ব্যবসায়ীদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ উঠেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভোল পাল্টে এখন তিনি নিজেকে বিএনপি নেতা পরিচয়ে অঘোষিত হর্তাকর্তা বনে গেছেন। তার বেপরোয়া চাঁদাবাজিতে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের নাভিশ্বাস উঠেছে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ ও চাঁদাবাজির বিবরণ
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, চুড়ামনকাটি বাজারের নবনির্মিত হাটচান্নিতে ব্যবসা করতে গেলেই মাহাবুরকে মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হচ্ছে। টাকা না দিলে দোকান খুলতে বাধা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্যমতে, ইতিমধেই মাহাবুর বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা আদায় করেছেন: সোহেল: ৭,০০০ টাকা* মিন্টু: ১৪,০০০ টাকা রবিউল: ৫,০০০ টাকা ইয়াসিন: ৪,৩০০ টাকা পরিমল: ২,০০০ টাকা আতিয়ার: ২,৫০০ টাকা
অভিযোগ রয়েছে, মাহাবুর ও তার ভাই ওবাইদুল ইসলাম সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান মুন্নার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। আওয়ামী লীগ আমলে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তারা মাদক কারবারসহ নানা অপকর্ম চালিয়েছেন। ৫ই আগস্টের পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও বর্তমানে বিএনপির স্থানীয় দুই নেতা—আব্দুস সালাম ও শামীম হোসেনের সঙ্গে চলাফেরা শুরু করেছেন এবং নিজেকে বিএনপির লোক হিসেবে জাহির করছেন।
এ বিষয়ে চুড়ামনকাটি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাস্টার মিজানুর রহমান জানান, মাহাবুরের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ তারা পেয়েছেন এবং তদন্ত শুরু করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন:
> “মাহাবুর বিএনপির কোনো স্তরের সদস্য বা পদধারী কেউ নন। তিনি মূলত আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় থেকে এলাকায় নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছিলেন। এখন বিএনপির নাম ভাঙিয়ে চলছেন। বিষয়টি জেলা নেতৃবৃন্দকে অবহিত করা হবে।”

সাজিয়ালি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আব্দুর রউফ জানান, এখন পর্যন্ত পুলিশের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। ব্যবসায়ীরা অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে মাহাবুর আলম জানান, ব্যবসায়ীদের সাথে সামান্য ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল যা মিটে গেছে। তিনি তার বিরুদ্ধে ওঠা বিগত দিনের নৈরাজ্য ও বর্তমান চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে আওয়ামী লীগের আমলের ‘প্রতিহিংসার শিকার’ বলে দাবি করেন।
উপসংহার: সাধারণ ব্যবসায়ীরা এখন দিশেহারা। তারা দ্রুত এই তথাকথিত নেতার হাত থেকে মুক্তি পেতে এবং নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনা করতে প্রশাসনের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

সর্বাধিক পঠিত

‘তেলের দাম ৭০০ টাকা হতো’—ছড়িয়ে পড়া ফটোকার্ড নিয়ে যা বললেন যুবদল নেতা নয়ন

চুড়ামনকাটিতে আওয়ামী লীগের সাবেক ‘ত্রাস’ এখন বিএনপির ছদ্মবেশে চাঁদাবাজিতে লিপ্ত

আপডেট: ০৮:৫৮:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি বাজারে এক সময়ের ত্রাস হিসেবে পরিচিত মাহাবুর আলমের বিরুদ্ধে নতুন করে চাঁদাবাজি ও ব্যবসায়ীদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ উঠেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভোল পাল্টে এখন তিনি নিজেকে বিএনপি নেতা পরিচয়ে অঘোষিত হর্তাকর্তা বনে গেছেন। তার বেপরোয়া চাঁদাবাজিতে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের নাভিশ্বাস উঠেছে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ ও চাঁদাবাজির বিবরণ
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, চুড়ামনকাটি বাজারের নবনির্মিত হাটচান্নিতে ব্যবসা করতে গেলেই মাহাবুরকে মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হচ্ছে। টাকা না দিলে দোকান খুলতে বাধা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্যমতে, ইতিমধেই মাহাবুর বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা আদায় করেছেন: সোহেল: ৭,০০০ টাকা* মিন্টু: ১৪,০০০ টাকা রবিউল: ৫,০০০ টাকা ইয়াসিন: ৪,৩০০ টাকা পরিমল: ২,০০০ টাকা আতিয়ার: ২,৫০০ টাকা
অভিযোগ রয়েছে, মাহাবুর ও তার ভাই ওবাইদুল ইসলাম সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান মুন্নার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। আওয়ামী লীগ আমলে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তারা মাদক কারবারসহ নানা অপকর্ম চালিয়েছেন। ৫ই আগস্টের পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও বর্তমানে বিএনপির স্থানীয় দুই নেতা—আব্দুস সালাম ও শামীম হোসেনের সঙ্গে চলাফেরা শুরু করেছেন এবং নিজেকে বিএনপির লোক হিসেবে জাহির করছেন।
এ বিষয়ে চুড়ামনকাটি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাস্টার মিজানুর রহমান জানান, মাহাবুরের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ তারা পেয়েছেন এবং তদন্ত শুরু করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন:
> “মাহাবুর বিএনপির কোনো স্তরের সদস্য বা পদধারী কেউ নন। তিনি মূলত আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় থেকে এলাকায় নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছিলেন। এখন বিএনপির নাম ভাঙিয়ে চলছেন। বিষয়টি জেলা নেতৃবৃন্দকে অবহিত করা হবে।”

সাজিয়ালি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আব্দুর রউফ জানান, এখন পর্যন্ত পুলিশের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। ব্যবসায়ীরা অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে মাহাবুর আলম জানান, ব্যবসায়ীদের সাথে সামান্য ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল যা মিটে গেছে। তিনি তার বিরুদ্ধে ওঠা বিগত দিনের নৈরাজ্য ও বর্তমান চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে আওয়ামী লীগের আমলের ‘প্রতিহিংসার শিকার’ বলে দাবি করেন।
উপসংহার: সাধারণ ব্যবসায়ীরা এখন দিশেহারা। তারা দ্রুত এই তথাকথিত নেতার হাত থেকে মুক্তি পেতে এবং নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনা করতে প্রশাসনের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।