০১:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জলঢাকার বোরো বীজতলা তীব্র শীত ও কুয়াশায় ক্ষতিগ্রস্ত, কৃষকেরা অনিশ্চয়তায়

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৯:০০:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬৬১

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গা তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে কাঁপছে। জেলাজুড়ে ছয় দিন ধরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করছে, যার প্রভাব দেখা দিয়েছে কৃষিখাতেও।
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় চলমান তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে বোরো ধানের বীজতলায় ব্যাপক ক্ষতি দেখা দিয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ মাঠে বীজতলার চারাগুলো হলদে হয়ে গেছে, বৃদ্ধি ব্যাহত হয়েছে এবং কোথাও কোথাও চারা দুর্বল হয়ে পড়েছে।
মাঠ পরিদর্শনে দেখা গেছে, অনেক কৃষকের বীজতলা আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আবার কোথাও সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়েছে। এতে ধান রোপণের নির্ধারিত সময়সূচি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, দিনের পর দিন সূর্যের আলো না পাওয়া এবং ঘন কুয়াশার কারণে দিন ও রাতের তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় চারা স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে পারছে না। জমিতে পানি জমে থাকায় শীতের প্রভাব আরও তীব্র হচ্ছে।
পৌর এলাকার কৃষক শরিদুল ইসলাম বলেন, “এই শীত আর কুয়াশায় চারা টিকছে না। প্রতিদিন মাঠে এসে দেখি ক্ষতি বাড়ছে। আর কিছুদিন এমন থাকলে নতুন করে বীজতলা বানাতে হবে।”উপজেলার কৈমারী ইউনিয়নের কৃষক কাজি আখেরুজ্জামান অন্তু বলেন, “বীজতলা পলিথিন আর খড় দিয়ে ঢেকে রাখছি, তবুও তেমন কাজে আসছে না। খুব দুশ্চিন্তায় আছি।”
নেকবক্ত ইউনিয়নের কুঠিপাড়ার কৃষক আজহার জানান, “কয়েক দিনের তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় আমার বীজতলার চারা হলদে হয়ে গেছে। বীজতলা যদি ঠিক না থাকে, তাহলে ধান রোপণও ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। এখন শুধু আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে কৃষি অফিসের পরামর্শ মেনে চলছি।”
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জলঢাকা উপজেলায় প্রায় ৮৪২ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের বীজতলা তৈরি করা হয়েছে।
উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলম জানান, শীত ও কুয়াশার কারণে বীজতলায় ‘কোল্ড ইনজুরি’ দেখা দিয়েছে। তবে রোদ উঠলে ক্ষতির আশঙ্কা অনেকটা কমে আসবে। তিনি বীজতলা রক্ষার জন্য বিকেলে হালকা সেচ দেওয়া, সকালে জমির পানি বের করা, কুয়াশা ঝেড়ে ফেলা এবং প্রয়োজনে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

সর্বাধিক পঠিত

‘তেলের দাম ৭০০ টাকা হতো’—ছড়িয়ে পড়া ফটোকার্ড নিয়ে যা বললেন যুবদল নেতা নয়ন

জলঢাকার বোরো বীজতলা তীব্র শীত ও কুয়াশায় ক্ষতিগ্রস্ত, কৃষকেরা অনিশ্চয়তায়

আপডেট: ০৯:০০:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গা তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে কাঁপছে। জেলাজুড়ে ছয় দিন ধরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করছে, যার প্রভাব দেখা দিয়েছে কৃষিখাতেও।
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় চলমান তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে বোরো ধানের বীজতলায় ব্যাপক ক্ষতি দেখা দিয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ মাঠে বীজতলার চারাগুলো হলদে হয়ে গেছে, বৃদ্ধি ব্যাহত হয়েছে এবং কোথাও কোথাও চারা দুর্বল হয়ে পড়েছে।
মাঠ পরিদর্শনে দেখা গেছে, অনেক কৃষকের বীজতলা আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আবার কোথাও সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়েছে। এতে ধান রোপণের নির্ধারিত সময়সূচি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, দিনের পর দিন সূর্যের আলো না পাওয়া এবং ঘন কুয়াশার কারণে দিন ও রাতের তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় চারা স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে পারছে না। জমিতে পানি জমে থাকায় শীতের প্রভাব আরও তীব্র হচ্ছে।
পৌর এলাকার কৃষক শরিদুল ইসলাম বলেন, “এই শীত আর কুয়াশায় চারা টিকছে না। প্রতিদিন মাঠে এসে দেখি ক্ষতি বাড়ছে। আর কিছুদিন এমন থাকলে নতুন করে বীজতলা বানাতে হবে।”উপজেলার কৈমারী ইউনিয়নের কৃষক কাজি আখেরুজ্জামান অন্তু বলেন, “বীজতলা পলিথিন আর খড় দিয়ে ঢেকে রাখছি, তবুও তেমন কাজে আসছে না। খুব দুশ্চিন্তায় আছি।”
নেকবক্ত ইউনিয়নের কুঠিপাড়ার কৃষক আজহার জানান, “কয়েক দিনের তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় আমার বীজতলার চারা হলদে হয়ে গেছে। বীজতলা যদি ঠিক না থাকে, তাহলে ধান রোপণও ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। এখন শুধু আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে কৃষি অফিসের পরামর্শ মেনে চলছি।”
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জলঢাকা উপজেলায় প্রায় ৮৪২ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের বীজতলা তৈরি করা হয়েছে।
উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলম জানান, শীত ও কুয়াশার কারণে বীজতলায় ‘কোল্ড ইনজুরি’ দেখা দিয়েছে। তবে রোদ উঠলে ক্ষতির আশঙ্কা অনেকটা কমে আসবে। তিনি বীজতলা রক্ষার জন্য বিকেলে হালকা সেচ দেওয়া, সকালে জমির পানি বের করা, কুয়াশা ঝেড়ে ফেলা এবং প্রয়োজনে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।