যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অনিকা সরকার (৩০) নামে এক নারী আইনজীবী তাঁর কথিত নেশাগ্রস্ত স্বামীর হাতে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় যশোর শহরের পুলেরহাট এলাকায় কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রের পাশে একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে তিনি যশোর সদর হাসপাতালের মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার আব্দুল আজিজ সরকারের মেয়ে অনিকা সরকার মণিরামপুরের মোর্শেমনগর গ্রামের আসাদুজ্জামানকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই নেশাগ্রস্ত আসাদুজ্জামান অনিকার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তুচ্ছ কলহের জেরে আসাদুজ্জামান কিল, ঘুষি ও লাঠি দিয়ে অনিকাকে বেধড়ক মারধর করেন। নির্যাতনের এক পর্যায়ে অনিকা গুরুতর আহত হয়ে শ্বাসকষ্টে ভুগতে শুরু করলে কৌশলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
স্থানীয় ও আদালত পাড়া সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত আসাদুজ্জামান নিজেকে কখনো আইনজীবী, আবার কখনো শিক্ষানবিশ আইনজীবী হিসেবে পরিচয় দিয়ে বেড়ান। তবে যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এম. এ. গফুর স্পষ্ট জানিয়েছেন, “আসাদুজ্জামান আইনজীবী সমিতির সদস্য বা শিক্ষানবিশ—কোনোটিই নন।” আদালত পাড়ায় তাঁর বিরুদ্ধে নানা ধরণের প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে এবং ইতিপূর্বে মামলাও হয়েছে।
নারী আইনজীবীর ওপর এমন হামলার খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু ও সাধারণ সম্পাদক এম. এ. গফুর। তাঁরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
যশোর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রাহুল ঘোষ জানান, অনিকা সরকারের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত থাকলেও গভীর ট্রমার মধ্যে রয়েছেন।





















