মার্কিন সামরিক বাহিনীর ঝটিকা অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো সস্ত্রীক আটক হওয়ার পর ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস এখন এক থমথমে নগরীতে পরিণত হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে পরিচালিত এই অভিযানের পর দেশজুড়ে তীব্র অনিশ্চয়তা ও সরবরাহ সংকটের কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।
কারাকাসজুড়ে সাধারণ দিনের সেই কর্মচাঞ্চল্য নেই। হামলার আতঙ্কে অধিকাংশ শপিংমল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার আশ্বাস দিলেও লুটপাটের ভয়ে ব্যবসায়ীরা দোকান খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। যে কয়েকটি দোকান খোলা রয়েছে, সেখানে প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহের জন্য মানুষের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। সড়কে গণপরিবহন কমিয়ে দিয়ে নিরাপত্তা বজায় রাখতে ‘বলিভারিয়ান ন্যাশনাল পুলিশ’ টহল দিচ্ছে।
অর্থনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে এক সপ্তাহের ব্যবধানে পণ্যের দাম কয়েক গুণ বেড়েছে। কারাকাসের কেন্দ্রীয় বাজার ‘কুইন্তা ক্রেস্পো’ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী:
* গুঁড়া দুধ: প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬ ডলারে।
* ডিম: এক কার্টন ডিমের দাম ১০ ডলার ছাড়িয়েছে।
* স্বাস্থ্যবিধি সামগ্রী: সাবান, হ্যান্ডওয়াশসহ পরিচ্ছন্নতা সামগ্রীর দামও আকাশচুম্বী।
কার্লোস গদয় নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, “আমরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি। ভবিষ্যতে কী হবে জানি না, তাই চড়া দাম হলেও বাধ্য হয়ে মজুত করছি।”
গত শুক্রবার মধ্যরাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ভেনেজুয়েলার কারাকাস, আরাগুয়া ও মিরান্ডাসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। এ অভিযানে অন্তত ৮০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অভিযান শেষ করে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়। ট্রাম্প সতর্ক করেছেন যে, তাদের দাবি পূরণ না হলে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হতে পারে।
দীর্ঘ এক দশকের অর্থনৈতিক মন্দা ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত ভেনেজুয়েলা এই নতুন রাজনৈতিক সংকটে আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ডেলসি রদ্রিগেজ বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করলেও দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্লেষকরা উদ্বিগ্ন। সাধারণ মানুষ এখন কেবল একটিই প্রশ্ন করছেন—এই অস্থিরতা কি শেষ হবে, নাকি সামনে আরও ভয়াবহ কোনো সংকট অপেক্ষা করছে?





















