০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চিরবিদায় নিলেন আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:২৪:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৬৬৩

মবাংলাদেশের রাজনৈতিক আকাশের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আর নেই। আজ মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
বিএনপির মিডিয়া সেল ও ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে পৃথক বার্তায় এই শোক সংবাদ নিশ্চিত করা হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।
শেষ মুহূর্তের সঙ্গী যারা ছিলেন
খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, মৃত্যুর সময় হাসপাতালের কেবিনে তার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন:
* জ্যেষ্ঠ পুত্র ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
* পুত্রবধূ ডা. জুবাইদা রহমান ও নাতনি জাইমা রহমান।
* ছোট ছেলের স্ত্রী শামিলা রহমান সিঁথি।
* ভাই শামীম এসকান্দার ও বোন সেলিনা ইসলামসহ নিকটাত্মীয়রা।
* বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং মেডিকেল বোর্ডের সদস্যবৃন্দ।
সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন। গত ২৩ নভেম্বর শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় তাকে জরুরি ভিত্তিতে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড আপ্রাণ চেষ্টা করলেও তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এক নজরে বেগম জিয়ার বর্ণাঢ্য জীবন ও রাজনৈতিক রেকর্ড
বেগম খালেদা জিয়া কেবল একজন রাজনীতিবিদ ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
* জন্ম: ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট, দিনাজপুরে।
* প্রধানমন্ত্রিত্ব: ১৯৯১ সালে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। পরবর্তীতে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে মোট তিন মেয়াদে দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
* অজেয় রেকর্ড: রাজনৈতিক জীবনে তিনি কখনো কোনো সংসদীয় আসনে পরাজিত হননি। ২৩টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রতিটিতেই জয়লাভের অনন্য রেকর্ড তার দখলে।
* আপসহীন নেতৃত্ব: ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর রাজনীতিতে আসেন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে তার বলিষ্ঠ ও আপসহীন ভূমিকা তাকে ‘দেশনেত্রী’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
* সংগ্রাম ও কারাবরণ: ওয়ান-ইলেভেনের সময় থেকে শুরু করে পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের আমল পর্যন্ত তাকে অসংখ্য মামলা ও কারাবরণ সহ্য করতে হয়েছে। তবে শত চাপের মুখেও তিনি কখনো দেশত্যাগ করেননি।
বেগম খালেদা জিয়ার প্রস্থান বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি যুগের অবসান ঘটালো। তার দৃঢ়তা, দেশপ্রেম এবং গণতন্ত্রের প্রতি অবিচল আস্থা তাকে ইতিহাসের পাতায় অমর করে রাখবে।

সর্বাধিক পঠিত

আজ বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্তে রুপির দর বাড়ল, ১০০ টাকায় মিলছে ৭৯.২০ রুপি

চিরবিদায় নিলেন আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া

আপডেট: ১০:২৪:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

মবাংলাদেশের রাজনৈতিক আকাশের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আর নেই। আজ মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
বিএনপির মিডিয়া সেল ও ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে পৃথক বার্তায় এই শোক সংবাদ নিশ্চিত করা হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।
শেষ মুহূর্তের সঙ্গী যারা ছিলেন
খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, মৃত্যুর সময় হাসপাতালের কেবিনে তার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন:
* জ্যেষ্ঠ পুত্র ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
* পুত্রবধূ ডা. জুবাইদা রহমান ও নাতনি জাইমা রহমান।
* ছোট ছেলের স্ত্রী শামিলা রহমান সিঁথি।
* ভাই শামীম এসকান্দার ও বোন সেলিনা ইসলামসহ নিকটাত্মীয়রা।
* বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং মেডিকেল বোর্ডের সদস্যবৃন্দ।
সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন। গত ২৩ নভেম্বর শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় তাকে জরুরি ভিত্তিতে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড আপ্রাণ চেষ্টা করলেও তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এক নজরে বেগম জিয়ার বর্ণাঢ্য জীবন ও রাজনৈতিক রেকর্ড
বেগম খালেদা জিয়া কেবল একজন রাজনীতিবিদ ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
* জন্ম: ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট, দিনাজপুরে।
* প্রধানমন্ত্রিত্ব: ১৯৯১ সালে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। পরবর্তীতে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে মোট তিন মেয়াদে দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
* অজেয় রেকর্ড: রাজনৈতিক জীবনে তিনি কখনো কোনো সংসদীয় আসনে পরাজিত হননি। ২৩টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রতিটিতেই জয়লাভের অনন্য রেকর্ড তার দখলে।
* আপসহীন নেতৃত্ব: ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর রাজনীতিতে আসেন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে তার বলিষ্ঠ ও আপসহীন ভূমিকা তাকে ‘দেশনেত্রী’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
* সংগ্রাম ও কারাবরণ: ওয়ান-ইলেভেনের সময় থেকে শুরু করে পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের আমল পর্যন্ত তাকে অসংখ্য মামলা ও কারাবরণ সহ্য করতে হয়েছে। তবে শত চাপের মুখেও তিনি কখনো দেশত্যাগ করেননি।
বেগম খালেদা জিয়ার প্রস্থান বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি যুগের অবসান ঘটালো। তার দৃঢ়তা, দেশপ্রেম এবং গণতন্ত্রের প্রতি অবিচল আস্থা তাকে ইতিহাসের পাতায় অমর করে রাখবে।