দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী জোট করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে জুলাই অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে গঠিত দল ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ (এনসিপি)। দলটির অভ্যন্তরে এ বিষয়ে রেজুলেশন পাস হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, এনসিপির সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চলছে। এছাড়াও আরও ডজনখানেক দল জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
অন্যদিকে, এনসিপির একজন যুগ্ম আহ্বায়ক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জামায়াতের সঙ্গে জোট করার বিষয়ে দলীয় ফোরামে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত আলোচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দলের সভাপতি ও সেক্রেটারিকে।
সূত্রমতে, জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির আসন সমঝোতা নিয়ে জোরালো আলোচনা চলছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আব্দুল কাদেরের দাবি অনুযায়ী, এনসিপি প্রাথমিকভাবে ৫০টি আসন চাইলেও শেষ পর্যন্ত তা ৩০টিতে চূড়ান্ত হতে পারে। শর্ত অনুযায়ী, এনসিপি বাকি ২৭০ আসনে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীদের সমর্থন দেবে।
এই নতুন জোটের কারণে জামায়াতের সঙ্গে আগে থেকে আলোচনায় থাকা অন্য আটটি দলের মধ্যেও হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুস আহমদ জানান, এনসিপি যুক্ত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। জোটের পরিধি বাড়লে আসন ছাড় দেওয়ার মানসিকতা সবারই থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তবে জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির এই জোটবদ্ধ হওয়াকে ভালোভাবে দেখছেন না বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের অনেক নেতা। সাবেক সমন্বয়ক আব্দুল কাদের ফেসবুকে এক ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় একে ‘তারুণ্যের রাজনীতির কবর রচনা’ বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, গুটিকয়েক নেতার স্বার্থ হাসিলের জন্য সাধারণ নেতাকর্মীদের আকাঙ্ক্ষাকে জলাঞ্জলি দিয়ে এনসিপি মূলত জামায়াতের গর্ভে বিলীন হতে যাচ্ছে।
সবকিছু ঠিক থাকলে আজ শুক্রবারই এই জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর গুঞ্জন রয়েছে। এনসিপির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং জামায়াতের আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন বলে জানা গেছে।





















